নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ৫
- আপডেট সময় ০৩:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৩ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কসবা পৌরশহরের স্বাধীনতা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন—মো. হোসেন মিয়া (৪০), মো. জুয়েল মিয়া (৩০), রাব্বী মিয়া (২৫), রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (২৫) ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শহিদুল খাঁ (৩০)। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহম্মদ ভূঁইয়ার অনুসারী নবগঠিত পৌর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক আপেল ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদের নেতৃত্বে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারী রাজু আহমেদ ও শহিদুল খাঁর নেতৃত্বে ছাত্রদলের আরেকটি অংশ নতুন কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে পাঁচজন আহত হন।
সংসদ সদস্যের অনুসারী ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী রাজু আহমেদ অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহম্মদ ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অর্থের বিনিময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। কমিটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
অন্যদিকে নবগঠিত পৌর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হক আপেল বলেন, “গত ১ নভেম্বর জেলা ছাত্রদলের নেতারা উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। প্রায় ১০ বছর পর নতুন কমিটি হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলের শেষ পর্যায়ে রাজু আহমেদের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এতে মিছিলের লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।”
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, ঘটনার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শহরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১ নভেম্বর সিরাজুল ইসলাম ইমুকে সভাপতি ও শিমুল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্যের আংশিক উপজেলা ছাত্রদল কমিটি এবং এনামুল হক আপেলকে সভাপতি ও জুয়েল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যের আংশিক পৌর ছাত্রদল কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান শাহিন ও সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী অনুমোদিত এসব কমিটিকে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একাংশ এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর তারা বিক্ষোভ মিছিল করে এবং জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহম্মদ ভূঁইয়া ও আবদুর রহমান সানির কুশপুত্তলিকা দাহ করে।


















