গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে সাংবাদিককে হেনস্তা করলেন পরীমণি, ভুক্তভোগী সাংবাদিকের এক হাত জন্মগতভাবেই অচল
- আপডেট সময় ০৬:৫২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ৩১ বার পড়া হয়েছে
গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে এক সাংবাদিককে গালিগালাজ ও হেনস্তা করেছেন আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
তবে জানা গেছে, পরীমণি যার বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, সেই সাংবাদিকের জন্মগতভাবে একটি হাত অচল। তার ডান হাতের দুটি আঙুল নেই এবং হাতটি স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট।
হেনস্তার শিকার ওই সাংবাদিকের নাম রবিউল হোসেন রাজু। তিনি দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।
রাজুর সহকর্মী ও সমকাল পত্রিকার নিউজ এডিটর রফিকুল রঞ্জু ফেসবুকে লেখেন,“আমার সহকর্মী রাজুর বিরুদ্ধে একটি স্পর্শকাতর ও অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজুকে আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে খুব কাছ থেকে চিনি। সে অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র এবং পেশাদার একজন মানুষ। যারা রাজুর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানেন না, তাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে তার একটি হাত প্রায় সম্পূর্ণরূপে অচল। অপর হাতটি ব্যবহার করে সে অত্যন্ত কষ্ট ও দক্ষতার সাথে মোবাইল চালায় এবং একজন পেশাদার মোজো (মোবাইল জার্নালিজম) রিপোর্টার হিসেবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে। তার বিরুদ্ধে এমন মনগড়া অভিযোগ কেবল হাস্যকরই নয়, বরং চরম অমানবিক।”
তিনি আরও লেখেন,“অভিযোগকারী নারী (পরীমণি) অভিযোগ করার পূর্বে ন্যূনতম সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন বোধ করেননি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সস্তা প্রচার কিংবা আলোচনায় থাকার অসৎ উদ্দেশ্যে একজন মানুষের সততা, পেশা এবং শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অবমাননা করা কতটা নিচু মানসিকতার প্রমাণ, তা সচেতন সমাজ সহজেই অনুধাবন করতে পারবে। আমি এই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং রাজুর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াচ্ছি।”
আগামীর সময় পত্রিকার সাংবাদিক আমজাদ হোসেন হৃদয় বলেন,“পরীমনি এমন একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যার জন্মগতভাবে একটা হাতের আঙুলই নেই। আরেক হাতে মোবাইল। তাহলে আঁচড় বা গুতা কিভাবে দিলো? আর ছেলে কিংবা সাংবাদিক হিসেবে রবিউল হোসাইন রাজু কেমন সেটা ইতিমধ্যে সবাই বলেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিজেই ভাইরাল হওয়ার ধান্ধা খোঁজেছে পরীমনি।”
ভুক্তভোগী রাজুর সহকর্মী টাইমস টুডের সাংবাদিক শাহ রিয়াজ ফেসবুকে লেখেন,“দশ থেকে বারোজন বডিগার্ড নিয়ে আদালতে ঢুকেছিলেন পরীমনি। অফিস এসাইনমেন্টে সেখানে আমিও ছিলাম। আদালতে প্রবেশের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো কারণ ছাড়াই সমমাকালের রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজু ভাইয়ের ফোন টান দিয়ে কেড়ে নেয় পরীমনি। যদিও পরে তিনি তার ফোন ফেরত নিতে সক্ষম হন।”
তিনি আরও লেখেন,“শুনানি শেষে নিচে নেমে আবারো তিনি রাজু ভাইকে হেনস্তা শুরু করেন। এমন গালি দিচ্ছিলেন যা একজন সভ্য মানুষ মুখেও আনতে পারবে না। ঘটনা দেখে আমরা সেদিকে মুভ করলে তার বডিগার্ডরা সাংবাদিকদের উপর হামলে পড়ে। বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের গায়ে তারা আঘাত করে। ঘটনা আমার চোখের সামনেই। পরীমনির চতুর্দিকে বডিগার্ড দ্বারা বেষ্টিত ছিল। যেখানে তার ধারেকাছেই যাওয়া যাচ্ছে না সেখানে তাকে টাচ করা রীতিমতো অসম্ভব। এরপরেও তাকে টাচ করার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রাজু ভাইকে হেনস্তা করেছে পরিমণি। অথচ আমরা যারা মাঠে কাজ করি তারা জানেন, রাজু ভাই কতো নম্র ভদ্র একজন মানুষ।”
অন্যদিকে, আইনজীবীদের কাছ থেকে জানা যায়, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিকে জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিক ও উৎসুক জনতার ভিড়ের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন পরীমণি। এ সময় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিক রাজুর ওপর ক্ষিপ্ত হন তিনি। রাজু পরীমণির সামনে দিয়ে ভিডিও ধারণ করতে গেলে উত্তেজিত হয়ে এই চিত্রনায়িকা বলেন, ‘তুই আমার গায়ে হাত দিয়েছিস কেন … (গালি)।’
জবাবে ওই সাংবাদিক বলেন, ‘আমি আপনার গায়ে হাত দিইনি।’ এরপরও পরীমণি উত্তপ্ত বাক্যে বলেন, ‘এই, তুই আমার গায়ে হাত দিয়েছিস কেন?’ সাংবাদিক আবারও তাঁকে গায়ে হাত না দেওয়ার কথা জানান। এ সময় পরীমণির সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরাও সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি গায়ে হাত দিয়েছেন।’
পরবর্তী সময়ে পরীমণি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ওই সাংবাদিককে গালিগালাজ ও হেনস্তা করেন। এ সময় তাঁর হাতে নখের আচড়ও দেন পরীমণি। চিত্রনায়িকার এমন বেপরোয়া আচরণে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।


















