ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ সম্বোধনে দুই দফা হট্টগোল

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:৩০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ৪৭ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভার ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করা যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁর ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটানোর পর অনুষ্ঠান শুরু হয়। সভায় এক বক্তা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করলে আবারও হট্টগোল শুরু হয়।

এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি উত্তেজিত হয়ে মঞ্চের ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। দুই দফা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আলোচনা সভা। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। আর ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থলে আসেন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।

এ সময় মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার বিষয়টি তাঁকে জানান বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ কারণে প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেননি। পরে জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে মূল ব্যানার নামিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটিয়ে দেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর আলোচনা সভা শুরু হয়। এ ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলোচনা সভার ব্যানার জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন। এ বিষয়ে তাঁরা আগে থেকে অবগত ছিলেন না। অনুষ্ঠানে এসে ব্যানার টাঙানো অবস্থায় দেখেছেন।

আলোচনা সভা শুরুর পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য দেন জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন।

এতে সভাস্থলে হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি একেএম গোলাম মাহফুজ শুভ উত্তেজিত হয়ে মঞ্চের ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। একপর্যায়ে মারুফ হাসানকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আবার আলোচনা সভা শুরু হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়ে গেছেন। তাঁরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করতে চান। জয়পুরহাটেও ফ্যাসিবাদ রয়ে গেছে বলে তাঁরা মনে করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন আরও সতর্ক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, ১৯ বছর পর তাঁরা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারেই তাঁর ছবি ছিল না। এ ঘটনায় দলের নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। এ বিষয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া বলেন, ইন্টারনেট থেকে ছবি নিয়ে ব্যানার তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় তিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা জগলুল আলম।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ সম্বোধনে দুই দফা হট্টগোল

আপডেট সময় ০৬:৩০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভার ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করা যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁর ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটানোর পর অনুষ্ঠান শুরু হয়। সভায় এক বক্তা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করলে আবারও হট্টগোল শুরু হয়।

এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি উত্তেজিত হয়ে মঞ্চের ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। দুই দফা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আলোচনা সভা। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। আর ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থলে আসেন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী।

এ সময় মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার বিষয়টি তাঁকে জানান বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ কারণে প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেননি। পরে জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে মূল ব্যানার নামিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটিয়ে দেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর আলোচনা সভা শুরু হয়। এ ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আলোচনা সভার ব্যানার জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন। এ বিষয়ে তাঁরা আগে থেকে অবগত ছিলেন না। অনুষ্ঠানে এসে ব্যানার টাঙানো অবস্থায় দেখেছেন।

আলোচনা সভা শুরুর পর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য দেন জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন।

এতে সভাস্থলে হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি একেএম গোলাম মাহফুজ শুভ উত্তেজিত হয়ে মঞ্চের ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। একপর্যায়ে মারুফ হাসানকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আবার আলোচনা সভা শুরু হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়ে গেছেন। তাঁরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করতে চান। জয়পুরহাটেও ফ্যাসিবাদ রয়ে গেছে বলে তাঁরা মনে করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন আরও সতর্ক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, ১৯ বছর পর তাঁরা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারেই তাঁর ছবি ছিল না। এ ঘটনায় দলের নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। এ বিষয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া বলেন, ইন্টারনেট থেকে ছবি নিয়ে ব্যানার তৈরি করা হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় তিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা জগলুল আলম।