ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে ১৪ বছরের জেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:-
  • আপডেট সময় ০৫:১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ১১৭ বার পড়া হয়েছে

ইমরান এবং তার স্ত্রীকে ১৪ বছরের জেল - ছবি : আল-জাজিরা

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ৭৮ কোটি ৭০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। তোশাখানা মামলায় আজ বুধবার এ রায় দেয়া হয়।

রায়ে একইসাথে ইমরান খানকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন আদালত।

বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বিশেষ আদালতে সাইফার মামলায় (রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস) ইমরান খানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার ঠিক এক দিন পরেই এই রায় ঘোষণা করা হলো।

ওই মামলায় তার সাথে দলের সিনিয়র নেতা এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশিকেও একই মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশে কূটনৈতিক ক্যাবলের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয় তাদের দুজনের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, তোশাখানা বিতর্ক শুরু হয় ২০২১ সালে, যখন জানা যায়- ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি রাষ্ট্রীয় তোশাখানা থেকে বিদেশী বিশিষ্টজনদের দেয়া বিভিন্ন উপহার কিনে পরে সেগুলো বেশি দামে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।

ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তখন ক্ষমতায় ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের পাওয়া উপহারের বিস্তারিত জানাতে ক্ষমতাসীন দলটি প্রথমে অনীহা প্রকাশ করেছিল; এতে পাকিস্তানের বৈদেশিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে দাবি করেছিল তারা। ১৯৭০ -এর দশকে পাকিস্তানের সরকারি একটি বিভাগ হিসেবে তোশাখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ বিভাগটি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য বিশিষ্টজনদের দেয়া উপহার জমা রাখে।

তোশাখানার নিয়মানুযায়ী, সরকারব্যবস্থায় থাকা সব ব্যক্তিতে তাদের পাওয়া সব উপহার অবশ্যই এই বিভাগে জমা দিতে হবে। তবে যারা এসব উপহার পেয়েছেন তারা পরে এগুলো কিনে নিতে পারবেন। কিনে নেয়ার পর এসব উপহার বিক্রির বিষয়টি অবৈধ না হলেও অনেকেই এটিকে অনৈতিক বা নীতিগতভাবে ভুল বলে মনে করেন। ইমরানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করা হয় তাতে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় থাকাকালে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জিনিসের ৫৮টি বাক্স উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন।

অভিযোগ দায়েরকারী পিএমএল-এনের মহসিন রানঝা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী প্রতিটি অর্থবছরের শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ও তাদের ওপর নির্ভরশীলদের সব সম্পদ কমিশনের কাছে জমা দেয়া বিবরণীতে ঘোষণা করার কথা। কিন্তু তা না করায় ইমরান খানকে ‘অসৎ’ ঘোষণা করে পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী আজীবন সংসদীয় রাজনীতিতে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে তাকে অযোগ্য ঘোষণার আর্জি জানানো হয়েছিল।

তোশাখানা থেকে কেনা উপহারের বিষয়টি ইমরান ‘ভেবেচিন্তে’ লুকিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে; কিন্তু পরে ইমরান কমিশনকে বিস্তারিত না জানিয়ে শুধু স্বীকার করেন, সেগুলো তারা বিক্রি করে দিয়েছেন। পাঁচ বছর আগে ঐতিহাসিক এক রায়ে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং পিএলএম-এন প্রধান নওয়াজ শরিফকে ‘অসৎ’ বলে ঘোষণা করে, এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি এবং তাকে আজীবন সংসদীয় রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হয়। তোশাখানার উপহার নিয়ে ইমরান মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন অভিযোগে গত বছর পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন-ইসিপি সংবিধানের ৬৩ (১) (পি) ধারা অনুযায়ী তাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বচানে অযোগ্য ঘোষণা করে; যা নিয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন পিটিআই নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবারই দেশের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড শুনিয়েছেন বিশেষ পাকিস্তানি আদালত। ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার হাত থেকে বেহাত হয়েছে দেশের গোপন তথ্য সমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ‘তার’ বা চিঠি।

মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলারই শুনানি ছিল পাকিস্তানের স্পেশ্যাল কোর্টে। সেখানেই এ কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যদিও ইমরান প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, চিঠি সংক্রান্ত পুরো বিষয়টিই একটি ষড়যন্ত্র। তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর জন্যই ওই ষড়যন্ত্র রচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত হন ইমরান। তার পরে ২০২৩ সালের ৫ অগস্ট তাকে কারাদণ্ড দেন ইসলামাবাদ কোর্ট। তোশাখানা মামলায় তিন বছরের জেলের সাজা দেয়া হয়েছিল ইমরানকে। অ্যাটাক ডিসট্রিক্ট জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। এর পরে গত বছর ডিসেম্বরেই পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান এবং কুরেশিকে জামিন দিয়েছিল। তবে জামিন পেলেও তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্য মামলাগুলোর জন্য জেলেই ছিলেন ইমরান।

সূত্র : আল-জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে ১৪ বছরের জেল

আপডেট সময় ০৫:১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও ৭৮ কোটি ৭০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। তোশাখানা মামলায় আজ বুধবার এ রায় দেয়া হয়।

রায়ে একইসাথে ইমরান খানকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন আদালত।

বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বিশেষ আদালতে সাইফার মামলায় (রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস) ইমরান খানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার ঠিক এক দিন পরেই এই রায় ঘোষণা করা হলো।

ওই মামলায় তার সাথে দলের সিনিয়র নেতা এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশিকেও একই মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশে কূটনৈতিক ক্যাবলের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয় তাদের দুজনের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, তোশাখানা বিতর্ক শুরু হয় ২০২১ সালে, যখন জানা যায়- ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি রাষ্ট্রীয় তোশাখানা থেকে বিদেশী বিশিষ্টজনদের দেয়া বিভিন্ন উপহার কিনে পরে সেগুলো বেশি দামে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।

ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তখন ক্ষমতায় ছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের পাওয়া উপহারের বিস্তারিত জানাতে ক্ষমতাসীন দলটি প্রথমে অনীহা প্রকাশ করেছিল; এতে পাকিস্তানের বৈদেশিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে দাবি করেছিল তারা। ১৯৭০ -এর দশকে পাকিস্তানের সরকারি একটি বিভাগ হিসেবে তোশাখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ বিভাগটি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য বিশিষ্টজনদের দেয়া উপহার জমা রাখে।

তোশাখানার নিয়মানুযায়ী, সরকারব্যবস্থায় থাকা সব ব্যক্তিতে তাদের পাওয়া সব উপহার অবশ্যই এই বিভাগে জমা দিতে হবে। তবে যারা এসব উপহার পেয়েছেন তারা পরে এগুলো কিনে নিতে পারবেন। কিনে নেয়ার পর এসব উপহার বিক্রির বিষয়টি অবৈধ না হলেও অনেকেই এটিকে অনৈতিক বা নীতিগতভাবে ভুল বলে মনে করেন। ইমরানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করা হয় তাতে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় থাকাকালে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জিনিসের ৫৮টি বাক্স উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন।

অভিযোগ দায়েরকারী পিএমএল-এনের মহসিন রানঝা জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী প্রতিটি অর্থবছরের শেষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ও তাদের ওপর নির্ভরশীলদের সব সম্পদ কমিশনের কাছে জমা দেয়া বিবরণীতে ঘোষণা করার কথা। কিন্তু তা না করায় ইমরান খানকে ‘অসৎ’ ঘোষণা করে পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী আজীবন সংসদীয় রাজনীতিতে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে তাকে অযোগ্য ঘোষণার আর্জি জানানো হয়েছিল।

তোশাখানা থেকে কেনা উপহারের বিষয়টি ইমরান ‘ভেবেচিন্তে’ লুকিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে; কিন্তু পরে ইমরান কমিশনকে বিস্তারিত না জানিয়ে শুধু স্বীকার করেন, সেগুলো তারা বিক্রি করে দিয়েছেন। পাঁচ বছর আগে ঐতিহাসিক এক রায়ে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং পিএলএম-এন প্রধান নওয়াজ শরিফকে ‘অসৎ’ বলে ঘোষণা করে, এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি এবং তাকে আজীবন সংসদীয় রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হয়। তোশাখানার উপহার নিয়ে ইমরান মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন অভিযোগে গত বছর পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন-ইসিপি সংবিধানের ৬৩ (১) (পি) ধারা অনুযায়ী তাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বচানে অযোগ্য ঘোষণা করে; যা নিয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন পিটিআই নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবারই দেশের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড শুনিয়েছেন বিশেষ পাকিস্তানি আদালত। ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার হাত থেকে বেহাত হয়েছে দেশের গোপন তথ্য সমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ‘তার’ বা চিঠি।

মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলারই শুনানি ছিল পাকিস্তানের স্পেশ্যাল কোর্টে। সেখানেই এ কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যদিও ইমরান প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, চিঠি সংক্রান্ত পুরো বিষয়টিই একটি ষড়যন্ত্র। তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর জন্যই ওই ষড়যন্ত্র রচনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত হন ইমরান। তার পরে ২০২৩ সালের ৫ অগস্ট তাকে কারাদণ্ড দেন ইসলামাবাদ কোর্ট। তোশাখানা মামলায় তিন বছরের জেলের সাজা দেয়া হয়েছিল ইমরানকে। অ্যাটাক ডিসট্রিক্ট জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। এর পরে গত বছর ডিসেম্বরেই পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান এবং কুরেশিকে জামিন দিয়েছিল। তবে জামিন পেলেও তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্য মামলাগুলোর জন্য জেলেই ছিলেন ইমরান।

সূত্র : আল-জাজিরা