ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ওই ছাত্রী অভিযুক্ত অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তরের থিসিস করছেন

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ চবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি:-
  • আপডেট সময় ০৮:০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৩৪১ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন ওই বিভাগেরই এক ছাত্রী। আজ বুধবার দুপুরে উপাচার্য শিরীণ আখতারের কাছে ওই শিক্ষার্থী ওই অধ্যাপক সম্পর্কে লিখিতভাবে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন।

এদিকে এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিভাগরে একদল শিক্ষার্থী বিজ্ঞান অনুষদের সামনে আজ বেলা তিনটার দিকে প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন করেন। এ সময় উপাচার্য তাঁদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।

উপাচার্যের কাছে দেওয়া অভিযোগে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, তিনি অভিযুক্ত অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তরের থিসিস করছেন। থিসিস শুরু হওয়ার পর থেকেই অধ্যাপক তাঁকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করছেন। পরীক্ষাগারে (ল্যাব) ও নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে একাধিকবার ওই অধ্যাপক তাঁর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, জড়িয়ে ধরাসহ নানাভাবে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন করে আসছেন।

অভিযোগে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, ৬ জানুয়ারি গবেষণাগারে তাঁকে একা পেয়ে ওই শিক্ষক যৌন নিপীড়ন করেন। এরপর ১৩ জানুয়ারি নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

ওই ছাত্রী আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনা প্রকাশ না করতে ওই শিক্ষক তাঁকে ও তাঁর সহপাঠীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। এ অবস্থায় ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর পক্ষে আর এই গবেষণাগারে থিসিসের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই অধ্যাপক বলেন, এসব ঘটনা বানোয়াট। ওই ছাত্রী পারিবারিক কারণে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এ ছাড়া ওই গবেষণাগারে যখন কেউ থাকেন না, তখন ওই ছাত্রী তাঁর ছেলেবন্ধু নিয়ে সময় কাটান। এসব বিষয় নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন।

ওই অধ্যাপক আরও বলেন, তাঁর বয়স এখন ৫৬ বছর। প্রায় ৩০ বছর তিনি শিক্ষকতায় আছেন। যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, এটি ভয়ংকর। তাঁর থিসিসের শিক্ষার্থীরা কাজে কোনো ভুল করলে তিনি বকাবকি করেন, সেটিও শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্য করেন। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

এদিকে ওই ছাত্রীর অভিযোগ গ্রহণ করেছেন উপাচার্য শিরীণ আখতার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেলের আহ্বায়কের দায়িত্বেও আছেন। জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, অভিযোগ পেয়েছেন। খতিয়ে দেখে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ওই ছাত্রী অভিযুক্ত অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তরের থিসিস করছেন

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ চবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৮:০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন ওই বিভাগেরই এক ছাত্রী। আজ বুধবার দুপুরে উপাচার্য শিরীণ আখতারের কাছে ওই শিক্ষার্থী ওই অধ্যাপক সম্পর্কে লিখিতভাবে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন।

এদিকে এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিভাগরে একদল শিক্ষার্থী বিজ্ঞান অনুষদের সামনে আজ বেলা তিনটার দিকে প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন করেন। এ সময় উপাচার্য তাঁদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।

উপাচার্যের কাছে দেওয়া অভিযোগে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, তিনি অভিযুক্ত অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তরের থিসিস করছেন। থিসিস শুরু হওয়ার পর থেকেই অধ্যাপক তাঁকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করছেন। পরীক্ষাগারে (ল্যাব) ও নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে একাধিকবার ওই অধ্যাপক তাঁর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া, জড়িয়ে ধরাসহ নানাভাবে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন করে আসছেন।

অভিযোগে ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, ৬ জানুয়ারি গবেষণাগারে তাঁকে একা পেয়ে ওই শিক্ষক যৌন নিপীড়ন করেন। এরপর ১৩ জানুয়ারি নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

ওই ছাত্রী আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনা প্রকাশ না করতে ওই শিক্ষক তাঁকে ও তাঁর সহপাঠীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। এ অবস্থায় ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর পক্ষে আর এই গবেষণাগারে থিসিসের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই অধ্যাপক বলেন, এসব ঘটনা বানোয়াট। ওই ছাত্রী পারিবারিক কারণে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এ ছাড়া ওই গবেষণাগারে যখন কেউ থাকেন না, তখন ওই ছাত্রী তাঁর ছেলেবন্ধু নিয়ে সময় কাটান। এসব বিষয় নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন।

ওই অধ্যাপক আরও বলেন, তাঁর বয়স এখন ৫৬ বছর। প্রায় ৩০ বছর তিনি শিক্ষকতায় আছেন। যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, এটি ভয়ংকর। তাঁর থিসিসের শিক্ষার্থীরা কাজে কোনো ভুল করলে তিনি বকাবকি করেন, সেটিও শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্য করেন। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

এদিকে ওই ছাত্রীর অভিযোগ গ্রহণ করেছেন উপাচার্য শিরীণ আখতার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেলের আহ্বায়কের দায়িত্বেও আছেন। জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, অভিযোগ পেয়েছেন। খতিয়ে দেখে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।