ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গে ব্যথা

নিউজ ডেস্ক:-
  • আপডেট সময় ০১:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

দেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষাপীঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক বিভিন্ন হলে ‘টর্চার সেল’ প্রতিষ্ঠা ও চাঁদাবাজির যেই সংবাদ বুধবার একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হইয়াছে, উহাকে ‘বিচ্ছিন্ন চিত্র’রূপে দেখিবার অবকাশ সামান্যই। অনুসন্ধানে দেখা যাইবে, দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কতিপয় নেতাকর্মী মাত্রাভেদে একই ব্যবস্থার প্রচলন ঘটাইয়াছেন।

বর্তমানে দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসে আসন বণ্টন ও নিয়ন্ত্রণে হল প্রশাসনের পরিবর্তে ছাত্রলীগই ‘দায়িত্ব’ গ্রহণ করে নাই? কথিত ‘অতিথি কক্ষ সংস্কৃতি’ ক্যাম্পাসগুলিকে কীভাবে স্থায়ী বাসস্থানে পরিণত করিয়াছে, উহা প্রায়শ সংবাদমাধ্যমে উপজীব্য হইয়া উঠে। ভীতিকর অপসংস্কৃতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরে কিংবা কোনা-কাঞ্চিতে মাদক সেবনও বিরল নহে।

কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার রাত্রে যে প্রকারে এক দম্পতিকে ক্যাম্পাসে ডাকিয়া আনিয়া হলের কক্ষে স্বামীকে আটক রাখিয়া স্ত্রীকে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে লইয়া ধর্ষণ করা হইয়াছে, উহার নজির বিরল। কতটা বেপরোয়া হইয়া উঠিলে এই রূপ ঘটনা ঘটাইতে পারে?

আমরা মনে করি, এই অপকর্ম সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম হইতে উৎসারিত। আমরা গভীর উদ্বেগের সহিত লক্ষ্য করিতেছি, সাম্প্রতিক বৎসরগুলিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রায় নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশ পাইতেছে। বিশেষত অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের সহিত যেন প্রতিযোগিতামূলক বৃদ্ধি পাইতেছে ‘ছাত্রলীগ-প্রশাসন নেক্সাস’। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একে অপরের সহযোগী হইবার মধ্যে স্বার্থের সংঘাত লাগিলেই কেবল উহা বাহিরের লোকজন জানিতে পারে। কদাচ কেঁচো খুঁড়িতে গিয়া বাহির হইয়া আসে সর্প। বুধবার সমকালেই প্রকাশিত অপর এক প্রতিবেদনে দেখা যাইতেছে, যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ থাকিলেও দেড় বৎসর ধরিয়া বহাল তবিয়তে জনৈক শিক্ষক। ঐ শিক্ষক স্বয়ং অপরাধ শিকার করিলেও খোদ উপাচার্য বিচারের নামে কালক্ষেপণ করিতেছেন। ইহা যে নিছক ‘ফেলো ফিলিং’ নহে, বরং পারস্পরিক লেনাদেনার বিষয়– উহা বুঝিবার জন্য বিশেষজ্ঞ হইবার প্রয়োজন নাই।

আমরা মনে করি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্রাবাসে নির্যাতন কক্ষ, মাদক কারবার, বহিরাগতদের অবাধ অবস্থানের নেপথ্যেও রহিয়াছে অন্যায়কারী বিভিন্ন পক্ষের অনৈতিক ঐক্য ও সহমর্মিতা। ঘটনাটি প্রকাশ পাইবার পর নিয়ম ও আইন প্রতিষ্ঠার যেই সকল উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হইতে গৃহীত হইয়াছে, উহা উৎসাহজনক। কিন্তু সার্বিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূরীভূত না করিলে অপরাধের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকিবেই। ব্যথা যখন সর্বাঙ্গে, কেবল এক স্থানে ঔষধ দিয়া প্রতিকার মিলিবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গে ব্যথা

আপডেট সময় ০১:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

দেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষাপীঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক বিভিন্ন হলে ‘টর্চার সেল’ প্রতিষ্ঠা ও চাঁদাবাজির যেই সংবাদ বুধবার একটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হইয়াছে, উহাকে ‘বিচ্ছিন্ন চিত্র’রূপে দেখিবার অবকাশ সামান্যই। অনুসন্ধানে দেখা যাইবে, দেশের শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কতিপয় নেতাকর্মী মাত্রাভেদে একই ব্যবস্থার প্রচলন ঘটাইয়াছেন।

বর্তমানে দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসে আসন বণ্টন ও নিয়ন্ত্রণে হল প্রশাসনের পরিবর্তে ছাত্রলীগই ‘দায়িত্ব’ গ্রহণ করে নাই? কথিত ‘অতিথি কক্ষ সংস্কৃতি’ ক্যাম্পাসগুলিকে কীভাবে স্থায়ী বাসস্থানে পরিণত করিয়াছে, উহা প্রায়শ সংবাদমাধ্যমে উপজীব্য হইয়া উঠে। ভীতিকর অপসংস্কৃতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরে কিংবা কোনা-কাঞ্চিতে মাদক সেবনও বিরল নহে।

কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার রাত্রে যে প্রকারে এক দম্পতিকে ক্যাম্পাসে ডাকিয়া আনিয়া হলের কক্ষে স্বামীকে আটক রাখিয়া স্ত্রীকে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে লইয়া ধর্ষণ করা হইয়াছে, উহার নজির বিরল। কতটা বেপরোয়া হইয়া উঠিলে এই রূপ ঘটনা ঘটাইতে পারে?

আমরা মনে করি, এই অপকর্ম সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম হইতে উৎসারিত। আমরা গভীর উদ্বেগের সহিত লক্ষ্য করিতেছি, সাম্প্রতিক বৎসরগুলিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রায় নিয়মিত বিরতিতে প্রকাশ পাইতেছে। বিশেষত অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের সহিত যেন প্রতিযোগিতামূলক বৃদ্ধি পাইতেছে ‘ছাত্রলীগ-প্রশাসন নেক্সাস’। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একে অপরের সহযোগী হইবার মধ্যে স্বার্থের সংঘাত লাগিলেই কেবল উহা বাহিরের লোকজন জানিতে পারে। কদাচ কেঁচো খুঁড়িতে গিয়া বাহির হইয়া আসে সর্প। বুধবার সমকালেই প্রকাশিত অপর এক প্রতিবেদনে দেখা যাইতেছে, যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ থাকিলেও দেড় বৎসর ধরিয়া বহাল তবিয়তে জনৈক শিক্ষক। ঐ শিক্ষক স্বয়ং অপরাধ শিকার করিলেও খোদ উপাচার্য বিচারের নামে কালক্ষেপণ করিতেছেন। ইহা যে নিছক ‘ফেলো ফিলিং’ নহে, বরং পারস্পরিক লেনাদেনার বিষয়– উহা বুঝিবার জন্য বিশেষজ্ঞ হইবার প্রয়োজন নাই।

আমরা মনে করি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি ছাত্রাবাসে নির্যাতন কক্ষ, মাদক কারবার, বহিরাগতদের অবাধ অবস্থানের নেপথ্যেও রহিয়াছে অন্যায়কারী বিভিন্ন পক্ষের অনৈতিক ঐক্য ও সহমর্মিতা। ঘটনাটি প্রকাশ পাইবার পর নিয়ম ও আইন প্রতিষ্ঠার যেই সকল উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হইতে গৃহীত হইয়াছে, উহা উৎসাহজনক। কিন্তু সার্বিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূরীভূত না করিলে অপরাধের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকিবেই। ব্যথা যখন সর্বাঙ্গে, কেবল এক স্থানে ঔষধ দিয়া প্রতিকার মিলিবে না।