ঢাকা ০৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোরের মৃত্যু, পরিবারের দাবি মারধর

নিউজ ডেস্ক:-
  • আপডেট সময় ০৩:২১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ১২১ বার পড়া হয়েছে

নিহত কিশোর মারুফ আহমেদ

গাজীপুর টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়া এক কিশোর চিকিৎসাধীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। ওই কিশোরের নাম মারুফ আহমেদ (১৬)। তবে পরিবারের অভিযোগ, কেন্দ্রের ভেতরে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে ভর্তি করা হয়েছিলো।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মৃত মারুফের বাবা মো. রফিক আহমেদ জানান, তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায়। বর্তমানে খিলক্ষেত দর্জিবাড়ি এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থাকেন। মারুফ আগে কিছুদিন মাদ্রাসায় পড়াশুনা করলেও পরে পড়া বাদ দেয়। তিনি নিজে এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে মারুফ ছিল সবার বড়।

রফিক আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি খিলক্ষেত এলাকায় এক ঝালমুড়িওয়ালার সঙ্গে কয়েকজন ছেলের ঝগড়া হয়। পাশে দাড়িয়ে ছিল মারুফ। তখন খিলক্ষেত থানা পুলিশ দুই ছেলের সাথে মারুফকেও আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তিতে ২৮ জানুয়ারি কোর্টে চালান করে দেয়। খবর পেয়ে থানায় গিয়ে জানতে পারেন, মারুফের নামে ডাকাতি মামলা হয়েছে। আদালত থেকে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৮-১০দিন আগে মারুফের মা ইয়াসমিন বেগমকে নিয়ে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে মারুফের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। তখন মারুফ কান্নাকাটি করে বলে, ‘বাবা আমি জীবনেও আর মারামারি, খারাপ কাজ করবো না। তোমরা আমারে এখান থেকে নিয়া যাও। ওরা আমাকে বাথরুম, থালা বাসন ধোয়ায়। না ধুইলে আমারে অনেক মারধর করে।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয়, মারুফ অসুস্থ। তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তারা ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে মারুফকে অচেতন অবস্থায় বিছানায় দেখতে পান।

তার সাথে কোনো কথা বলতে পারি নাই। মারুফের শরীরে, হাতের কনুইয়ে ও পিঠের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। আমার ছেলেরে ওরা মারধর করেছে। মারধরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমি বিচার চাই।

মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সানারুল হক  উল্লেখ করেন, মারুফের ডান চোখের পাশে, ডান ও বাম হাতের কনুইতে, দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে ছিলা যখম রয়েছে। বৃহস্পতিবার মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

গাজীপুর টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালক) তত্বাবধায়ক মো. দেলোয়ার হোসেনের করা অপমৃত্যু মামলার এজহারকে উদ্ধৃতি করে এসআই সুরতহালে প্রাথমিক তদন্ত হিসেবে উল্লেখ করেন, খিলক্ষেত থানার মামলা নম্বর ২৯ (১) ২৪, ২৮/১/২৪। উক্ত বন্দি গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পরে। সাথে সাথে তাকে গাজীপুর আহসানউল্লাহ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মারা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোরের মৃত্যু, পরিবারের দাবি মারধর

আপডেট সময় ০৩:২১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

গাজীপুর টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়া এক কিশোর চিকিৎসাধীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। ওই কিশোরের নাম মারুফ আহমেদ (১৬)। তবে পরিবারের অভিযোগ, কেন্দ্রের ভেতরে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে ভর্তি করা হয়েছিলো।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে মৃত মারুফের বাবা মো. রফিক আহমেদ জানান, তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায়। বর্তমানে খিলক্ষেত দর্জিবাড়ি এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থাকেন। মারুফ আগে কিছুদিন মাদ্রাসায় পড়াশুনা করলেও পরে পড়া বাদ দেয়। তিনি নিজে এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে মারুফ ছিল সবার বড়।

রফিক আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি খিলক্ষেত এলাকায় এক ঝালমুড়িওয়ালার সঙ্গে কয়েকজন ছেলের ঝগড়া হয়। পাশে দাড়িয়ে ছিল মারুফ। তখন খিলক্ষেত থানা পুলিশ দুই ছেলের সাথে মারুফকেও আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তিতে ২৮ জানুয়ারি কোর্টে চালান করে দেয়। খবর পেয়ে থানায় গিয়ে জানতে পারেন, মারুফের নামে ডাকাতি মামলা হয়েছে। আদালত থেকে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৮-১০দিন আগে মারুফের মা ইয়াসমিন বেগমকে নিয়ে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে মারুফের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। তখন মারুফ কান্নাকাটি করে বলে, ‘বাবা আমি জীবনেও আর মারামারি, খারাপ কাজ করবো না। তোমরা আমারে এখান থেকে নিয়া যাও। ওরা আমাকে বাথরুম, থালা বাসন ধোয়ায়। না ধুইলে আমারে অনেক মারধর করে।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয়, মারুফ অসুস্থ। তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তারা ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে মারুফকে অচেতন অবস্থায় বিছানায় দেখতে পান।

তার সাথে কোনো কথা বলতে পারি নাই। মারুফের শরীরে, হাতের কনুইয়ে ও পিঠের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। আমার ছেলেরে ওরা মারধর করেছে। মারধরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমি বিচার চাই।

মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সানারুল হক  উল্লেখ করেন, মারুফের ডান চোখের পাশে, ডান ও বাম হাতের কনুইতে, দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে ছিলা যখম রয়েছে। বৃহস্পতিবার মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

গাজীপুর টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালক) তত্বাবধায়ক মো. দেলোয়ার হোসেনের করা অপমৃত্যু মামলার এজহারকে উদ্ধৃতি করে এসআই সুরতহালে প্রাথমিক তদন্ত হিসেবে উল্লেখ করেন, খিলক্ষেত থানার মামলা নম্বর ২৯ (১) ২৪, ২৮/১/২৪। উক্ত বন্দি গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পরে। সাথে সাথে তাকে গাজীপুর আহসানউল্লাহ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মারা যায়।