ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এবার সুন্নতে খতনার সময়ে শিশুর মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক:-
  • আপডেট সময় ০৭:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ১৭০ বার পড়া হয়েছে

বাগেরহাটের চিতলমারীতে হাত-পা ও মুখ বেঁধে সুন্নতে খতনা করার কারণে তিন বছর বয়সী শিহাব শেখ নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত হামিম শেখ (১৭) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এ ঘটনার সব দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সে।

বাগেরহাটের চিতলমারীতে হাত-পা ও মুখ বেঁধে সুন্নতে খতনা করার কারণে তিন বছর বয়সী শিহাব শেখ নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হামিম শেখকে আদালতে সোপর্দ করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলাম যশোরের কিশোর সংশোধোনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে হামিম শেখের বসতঘরের পাশ থেকে শিশু শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। ওই রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত হামিম শেখকে আটক করে। এ ঘটনায় শিহাবের মা সুমি বেগম বাদী হয়ে কিশোর হামিমকে আসামি করে চিতলমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

হত্যার শিকার শিহাব চিতলমারী উপজেলার হিজলা গ্রামের ফরহাদ শেখের ছেলে। অভিযুক্ত কিশোর হামিম শেখ (১৭) একই এলাকার রমজান শেখের ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, ঘাতক হামিম শেখ এলাকায় ‘চোর’ হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন আগে কারেন্টের তারও চুরি করেছে। এধরনের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ তারা।

পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের দিনের মতো বুধবার বিকেলে শিশু শিহাব বাড়ির উঠানে খেলছিল। হামিম শেখ ডেকে নিয়ে নিজ ঘরের মধ্যে হাত-পা ও মুখ বেঁধে শিশু শিহাবের সুন্নতে খতনা করার চেষ্টা করে। এতে তার মৃত্যু হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে না পেয়ে, রাতে মাইকিংও করে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে হামিমের বসতঘরের পাশ থেকে শিশু শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


হত্যার কারণ সম্পর্কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চিতলমারী থানার ওসি তদন্ত মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, হত্যার দায় স্বীকার করে কিশোর হামিম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে হামিমের মধ্যে সুন্নতে খতনা দেয়ার কৌতূহল ছিল। এজন্য সে শিহাবকে বাছাই করে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে, শিহাবকে ডেকে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায় হামিম। শিহাবের হাত-পা ও মুখ বেঁধে একটি কেঁচি দিয়ে সুন্নতে খতনা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শিহাবের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। এক পর্যায়ে শিশু শিহাব অচেতন হয়ে পড়লে ঘরের শৌচাগারের পাশে রেখে দেয়। সেখানেই শিহাবের মৃত্যু হয় এবং হামিম বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করতে থাকে।

পুলিশ পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে শিশু শিহাবের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কিশোর হামিমকে আদালত কিশোর সংশোধোনাগারে পাঠিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এবার সুন্নতে খতনার সময়ে শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৭:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বাগেরহাটের চিতলমারীতে হাত-পা ও মুখ বেঁধে সুন্নতে খতনা করার কারণে তিন বছর বয়সী শিহাব শেখ নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত হামিম শেখ (১৭) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এ ঘটনার সব দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সে।

বাগেরহাটের চিতলমারীতে হাত-পা ও মুখ বেঁধে সুন্নতে খতনা করার কারণে তিন বছর বয়সী শিহাব শেখ নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হামিম শেখকে আদালতে সোপর্দ করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলাম যশোরের কিশোর সংশোধোনাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে হামিম শেখের বসতঘরের পাশ থেকে শিশু শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। ওই রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত হামিম শেখকে আটক করে। এ ঘটনায় শিহাবের মা সুমি বেগম বাদী হয়ে কিশোর হামিমকে আসামি করে চিতলমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

হত্যার শিকার শিহাব চিতলমারী উপজেলার হিজলা গ্রামের ফরহাদ শেখের ছেলে। অভিযুক্ত কিশোর হামিম শেখ (১৭) একই এলাকার রমজান শেখের ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, ঘাতক হামিম শেখ এলাকায় ‘চোর’ হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন আগে কারেন্টের তারও চুরি করেছে। এধরনের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ তারা।

পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের দিনের মতো বুধবার বিকেলে শিশু শিহাব বাড়ির উঠানে খেলছিল। হামিম শেখ ডেকে নিয়ে নিজ ঘরের মধ্যে হাত-পা ও মুখ বেঁধে শিশু শিহাবের সুন্নতে খতনা করার চেষ্টা করে। এতে তার মৃত্যু হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে না পেয়ে, রাতে মাইকিংও করে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে হামিমের বসতঘরের পাশ থেকে শিশু শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


হত্যার কারণ সম্পর্কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চিতলমারী থানার ওসি তদন্ত মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, হত্যার দায় স্বীকার করে কিশোর হামিম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে হামিমের মধ্যে সুন্নতে খতনা দেয়ার কৌতূহল ছিল। এজন্য সে শিহাবকে বাছাই করে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে, শিহাবকে ডেকে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায় হামিম। শিহাবের হাত-পা ও মুখ বেঁধে একটি কেঁচি দিয়ে সুন্নতে খতনা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শিহাবের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। এক পর্যায়ে শিশু শিহাব অচেতন হয়ে পড়লে ঘরের শৌচাগারের পাশে রেখে দেয়। সেখানেই শিহাবের মৃত্যু হয় এবং হামিম বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করতে থাকে।

পুলিশ পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, বৃহস্পতিবার বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে শিশু শিহাবের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কিশোর হামিমকে আদালত কিশোর সংশোধোনাগারে পাঠিয়েছেন।