ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনেরও অভিযোগ রয়েছে

মেডিকেল কলেজ ছাত্রকে গুলি করা শিক্ষক ডা. রায়হান ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি

নিউজ ডেস্ক:-
  • আপডেট সময় ১২:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪
  • / ১৫১ বার পড়া হয়েছে

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষক রায়হান শরীফ। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রকে গুলি করা সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. রায়হান শরিফ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার আচরণ ছিল উগ্র। রায়হান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন বলে তাঁর একাধিক সিনিয়র ভাই (ছাত্রলীগ নেতা) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডা. রায়হান শরিফ সোমবার বেলা ৩টার দিকে মেডিকেল কলেজের শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করেন। শিক্ষার্থীর অপরাধ মৌখিক পরীক্ষার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ। পরে আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর ডা. রায়হান শরিফকে আটক করে পুলিশ।

ওই সময়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একাধিক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘ছাত্রজীবনে রায়হান শরিফ নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ছিল মাদক সেবনের অভিযোগ। নিজের প্রভাব বিস্তারে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা, মতের অমিল হলে হলের কক্ষে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, এমনকি দ্বিমত পোষণ করলে সহপাঠীদের গায়ে হাত দিতেন তিনি।’

ছাত্রলীগের পদে থাকার কারণে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তার এসব কর্মকাণ্ডের জন্য পরবর্তীতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়া হয়নি। এমনকি বিসিএস শেষে ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়েও তিনি অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন আচরণের জন্য স্ত্রীর সঙ্গেও ছাড়াছাড়ি হয়েছে এই চিকিৎসকের।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ডা. রায়হান শরিফ বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভয়ভীতি দেখান। এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ক্লাস চলাকালে প্রায়ই তিনি পিস্তল নিয়ে চলাফেরা করতেন।

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন শাহরিয়ার বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন ৪৫ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে বিনা কারণে শিক্ষক রায়হান শরিফ শিক্ষার্থী তমালের ডান পায়ে গুলি করেন।’ এ ঘটনার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) আরিফুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘এ ঘটনায় মেডিকেল কলেজে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি না জেনে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক একজন সভাপতি বলেন, ‘ছাত্রজীবনে রায়হান মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন।’

রায়হান শরিফ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৩৯তম বিসিএস (বিশেষ বিসিএস) দিয়ে তিনি ২০২২ সালে সার্জন হিসেবে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনেরও অভিযোগ রয়েছে

মেডিকেল কলেজ ছাত্রকে গুলি করা শিক্ষক ডা. রায়হান ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি

আপডেট সময় ১২:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪

ছাত্রকে গুলি করা সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. রায়হান শরিফ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার আচরণ ছিল উগ্র। রায়হান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন বলে তাঁর একাধিক সিনিয়র ভাই (ছাত্রলীগ নেতা) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডা. রায়হান শরিফ সোমবার বেলা ৩টার দিকে মেডিকেল কলেজের শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থীকে গুলি করেন। শিক্ষার্থীর অপরাধ মৌখিক পরীক্ষার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ। পরে আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর ডা. রায়হান শরিফকে আটক করে পুলিশ।

ওই সময়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একাধিক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘ছাত্রজীবনে রায়হান শরিফ নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ছিল মাদক সেবনের অভিযোগ। নিজের প্রভাব বিস্তারে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা, মতের অমিল হলে হলের কক্ষে আগুন লাগিয়ে দেওয়া, এমনকি দ্বিমত পোষণ করলে সহপাঠীদের গায়ে হাত দিতেন তিনি।’

ছাত্রলীগের পদে থাকার কারণে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তার এসব কর্মকাণ্ডের জন্য পরবর্তীতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়া হয়নি। এমনকি বিসিএস শেষে ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়েও তিনি অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন আচরণের জন্য স্ত্রীর সঙ্গেও ছাড়াছাড়ি হয়েছে এই চিকিৎসকের।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ডা. রায়হান শরিফ বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভয়ভীতি দেখান। এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ক্লাস চলাকালে প্রায়ই তিনি পিস্তল নিয়ে চলাফেরা করতেন।

সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন শাহরিয়ার বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন ৪৫ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে বিনা কারণে শিক্ষক রায়হান শরিফ শিক্ষার্থী তমালের ডান পায়ে গুলি করেন।’ এ ঘটনার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) আরিফুর রহমান মন্ডল বলেন, ‘এ ঘটনায় মেডিকেল কলেজে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি না জেনে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক একজন সভাপতি বলেন, ‘ছাত্রজীবনে রায়হান মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন।’

রায়হান শরিফ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৩৯তম বিসিএস (বিশেষ বিসিএস) দিয়ে তিনি ২০২২ সালে সার্জন হিসেবে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন।