ঢাকা ০৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে তিন বোন ও ভাবির মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:০৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪
  • / ৬৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে মাদারীপুরের ডাসার থানার গোপালপুরে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন চার বোন, দুই ভাই ও এক ভাবি। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁদের চারজনই মারা গেছেন। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অন্য দুই ভাই ও এক বোন। এক পরিবারের চারজনের মৃত্যুর খবরে এলাকায় বইছে শোকের মাতম।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ছাগলছিড়া এলাকায় মাইক্রোবাসের সঙ্গে বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চার নারী যাত্রী ও চালক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত পাঁচজন হলেন মাদারীপুরের ডাসার থানার গোপালপুর গ্রামের কাজী বাড়ির আবদুল হামিদের মেয়ে নাছিমা বেগম (৬৮), আসমা বেগম (৪৫), সালমা বেগম (৫৫) ও তাঁদের ভাই হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী কোমল বেগম (৭০) এবং মাইক্রোবাসের চালক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তুবার শেখেরপাড়া গ্রামের আতাউর মোল্লার ছেলে আলমগীর হোসেন (৪২)। গুরুতর আহত তিনজন হলেন কাজী আবদুল হামিদের ছেলে হুমায়ুন কবির, খায়রুল আলম ও মেয়ে নাজমা বেগম।
দুর্ঘটনার পর আজ বেলা তিনটার দিকে কাজী আবদুল হামিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িভর্তি লোকজন। নিকটাত্মীয়েরা একে একে বাড়িতে আসতে শুরু করেছেন। সবার চোখেমুখে কান্নার ছাপ। একসঙ্গে তিন বোনের মর্মান্তিক এই মৃত্যু কেউ যেন মানতে পারছেন না।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে হুমায়ুন কবির তাঁর স্ত্রী, ছোট ভাই-বোন মিলিয়ে মোট সাতজন ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁরা সবাই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। ঈদের ছুটি বা বিশেষ কোনো উপলক্ষ ছাড়া তাঁরা বাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তবে যখনই তাঁরা বাড়িতে আসতেন, তখনই ভাই-বোন সবাই মিলে মাইক্রোবাসে বাড়িতে আসতেন। দু-এক দিন বেড়ানো শেষে আবার একসঙ্গে ফিরে যেতেন।

নিহত তিন বোনের ভাতিজা কাজী সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, কাজী আবদুল হামিদের তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। সবার বড় হুমায়ুন কাজী দুর্ঘটনায় আহত। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, ঢাকার মিরপুর থাকেন। সবার দুদিন গ্রামের বাড়িতে থেকে আবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল।

নিহত তিন বোনের আরেক ভাতিজা কাজী সুলতানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নাছিমা ফুফু ছাড়া গ্রামের বাড়িতে কেউ থাকেন না। সবাই ঢাকায় বসবাস করেন। বছরে দু–একবার গ্রামের বাড়িতে আসেন। জমিসংক্রান্ত একটি কাজে তাঁরা তিন বোন একসঙ্গে আসছিল। দুর্ঘটনায় সব এলোমেলো হয়ে গেল।

গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুস সবুর প্রথম আলোকে বলেন, তিন বোন ও ভাবির এমন করুণ মৃত্যু শোনার পর থেকে বাড়িতে লোকজন ভিড় করতে শুরু করেছে। কেউ তাঁদের এমন মৃত্যু মানতে পারছে না। তিন বোনের লাশ গ্রামে এনে বাড়িতে দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক আবু নোমান বলেন, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী গ্লোবাল পরিবহনের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজন ও চালক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একই মাইক্রোবাসের যাত্রী তাঁদের আরও দুই ভাই ও এক বোন। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মাইক্রোবাসটি হাইওয়ে থানায় এনে রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে তিন বোন ও ভাবির মৃত্যু

আপডেট সময় ০৭:০৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে মাদারীপুরের ডাসার থানার গোপালপুরে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন চার বোন, দুই ভাই ও এক ভাবি। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁদের চারজনই মারা গেছেন। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অন্য দুই ভাই ও এক বোন। এক পরিবারের চারজনের মৃত্যুর খবরে এলাকায় বইছে শোকের মাতম।

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ছাগলছিড়া এলাকায় মাইক্রোবাসের সঙ্গে বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চার নারী যাত্রী ও চালক নিহত হন। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত পাঁচজন হলেন মাদারীপুরের ডাসার থানার গোপালপুর গ্রামের কাজী বাড়ির আবদুল হামিদের মেয়ে নাছিমা বেগম (৬৮), আসমা বেগম (৪৫), সালমা বেগম (৫৫) ও তাঁদের ভাই হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী কোমল বেগম (৭০) এবং মাইক্রোবাসের চালক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তুবার শেখেরপাড়া গ্রামের আতাউর মোল্লার ছেলে আলমগীর হোসেন (৪২)। গুরুতর আহত তিনজন হলেন কাজী আবদুল হামিদের ছেলে হুমায়ুন কবির, খায়রুল আলম ও মেয়ে নাজমা বেগম।
দুর্ঘটনার পর আজ বেলা তিনটার দিকে কাজী আবদুল হামিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িভর্তি লোকজন। নিকটাত্মীয়েরা একে একে বাড়িতে আসতে শুরু করেছেন। সবার চোখেমুখে কান্নার ছাপ। একসঙ্গে তিন বোনের মর্মান্তিক এই মৃত্যু কেউ যেন মানতে পারছেন না।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে হুমায়ুন কবির তাঁর স্ত্রী, ছোট ভাই-বোন মিলিয়ে মোট সাতজন ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁরা সবাই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। ঈদের ছুটি বা বিশেষ কোনো উপলক্ষ ছাড়া তাঁরা বাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তবে যখনই তাঁরা বাড়িতে আসতেন, তখনই ভাই-বোন সবাই মিলে মাইক্রোবাসে বাড়িতে আসতেন। দু-এক দিন বেড়ানো শেষে আবার একসঙ্গে ফিরে যেতেন।

নিহত তিন বোনের ভাতিজা কাজী সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, কাজী আবদুল হামিদের তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। সবার বড় হুমায়ুন কাজী দুর্ঘটনায় আহত। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, ঢাকার মিরপুর থাকেন। সবার দুদিন গ্রামের বাড়িতে থেকে আবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল।

নিহত তিন বোনের আরেক ভাতিজা কাজী সুলতানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নাছিমা ফুফু ছাড়া গ্রামের বাড়িতে কেউ থাকেন না। সবাই ঢাকায় বসবাস করেন। বছরে দু–একবার গ্রামের বাড়িতে আসেন। জমিসংক্রান্ত একটি কাজে তাঁরা তিন বোন একসঙ্গে আসছিল। দুর্ঘটনায় সব এলোমেলো হয়ে গেল।

গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুস সবুর প্রথম আলোকে বলেন, তিন বোন ও ভাবির এমন করুণ মৃত্যু শোনার পর থেকে বাড়িতে লোকজন ভিড় করতে শুরু করেছে। কেউ তাঁদের এমন মৃত্যু মানতে পারছে না। তিন বোনের লাশ গ্রামে এনে বাড়িতে দাফনের প্রক্রিয়া চলছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক আবু নোমান বলেন, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী গ্লোবাল পরিবহনের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজন ও চালক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একই মাইক্রোবাসের যাত্রী তাঁদের আরও দুই ভাই ও এক বোন। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মাইক্রোবাসটি হাইওয়ে থানায় এনে রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।