ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১৬ মাসে সড়কে সর্বোচ্চ মৃত্যু এপ্রিলে

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪
  • / ১০০ বার পড়া হয়েছে

সরকারি হিসাবেই দেশে গত এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬৩২ জন। সড়কে মৃত্যুর এই সংখ্যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দেওয়া হিসাব বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশে মাসে কতটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, সেই তথ্য ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করছে বিআরটিএ। একই সঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হওয়ার মোট সংখ্যাও প্রকাশ করেছে সরকারি এই সংস্থা। তাদের দেওয়া ১৬ মাসের (২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত দুই মাসে সড়কে মৃত্যু বেশি। এর মধ্যে গত মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৫৫০ জন। মার্চের তুলনায় এপ্রিলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি, ৬৩২ জন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৮২।

বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাসে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়ায় গত বছরের জুনে। তখন ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়। এর পরের মাস জুলাইতে মৃত্যু হয় ৫৩৩ জনের, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

গত এপ্রিলে দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। ঈদের সময় মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। লাখো মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়ে যান। অন্য বড় শহরগুলো থেকেও গ্রামের দিকে যাতায়াত অনেক বৃদ্ধি পায়। সড়কে মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার সংখ্যা ও মৃত্যু বেড়ে যায়।

গত বছরের এপ্রিলেও দেশে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। আর গত বছরের জুনে উদ্‌যাপিত হয় ঈদুল আজহা। বিআরটিএর হিসাবে দেখা যায়, গত বছরের এপ্রিল ও জুনে ঈদের সময় মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলক বেশি ছিল। গত বছরের এপ্রিলে সড়কে মৃত্যু হয় ৪৫৯ জনের, জুনে মারা যান ৫০৪ জন। তবে গত বছরের দুই ঈদের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এ বছরের ঈদুল ফিতরের সময় মৃত্যুর ঘটনা অনেক বেশি।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ (১৯১ জন) মারা গেছেন, যা মোট মৃত্যুর ৩০ শতাংশ। ২৫২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয় গত মাসে। মোটরসাইকেলের পর বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬৭ জন, যা দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬২ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১০ শতাংশ। এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়।

গত এপ্রিলে সড়কে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, ১২৩ জন। এরপর ঢাকা বিভাগে, ১১৫ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে কম মৃত্যু সিলেট বিভাগে, ৩৮ জন।

বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম চার মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ১ হাজার ৫১০ জনের। আর চলতি বছরের প্রথম চার মাসে মারা গেছেন ২ হাজার ১০৯ জনের। গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় এ বছরের প্রথম চার মাসের প্রতিটিতেই মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। যেমন গত বছরের জানুয়ারিতে মারা গেছেন ৩৩৩ জন। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে মারা গেছেন ৪০৪ জন।

সড়কে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ‘অস্বাভাবিক নয়’ বলে মনে করেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান। গতকাল শুক্রবার রাতে তিনি মুঠোফোনে  বলেন, যানবাহনের ফিটনেস (চলাচলের উপযোগী) সনদ এবং চালকের সনদ দেওয়ার কাজটি যথাযথভাবে হচ্ছে না। এর ফলে সড়কে চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন ও অদক্ষ চালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু—দুটিই বেড়ে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

১৬ মাসে সড়কে সর্বোচ্চ মৃত্যু এপ্রিলে

আপডেট সময় ০৬:০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০২৪

সরকারি হিসাবেই দেশে গত এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬৩২ জন। সড়কে মৃত্যুর এই সংখ্যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দেওয়া হিসাব বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশে মাসে কতটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, সেই তথ্য ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করছে বিআরটিএ। একই সঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হওয়ার মোট সংখ্যাও প্রকাশ করেছে সরকারি এই সংস্থা। তাদের দেওয়া ১৬ মাসের (২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত দুই মাসে সড়কে মৃত্যু বেশি। এর মধ্যে গত মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৫৫০ জন। মার্চের তুলনায় এপ্রিলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি, ৬৩২ জন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ৮২।

বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাসে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়ায় গত বছরের জুনে। তখন ৫০৪ জনের মৃত্যু হয়। এর পরের মাস জুলাইতে মৃত্যু হয় ৫৩৩ জনের, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

গত এপ্রিলে দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। ঈদের সময় মানুষের চলাচল বেড়ে যায়। লাখো মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়ে যান। অন্য বড় শহরগুলো থেকেও গ্রামের দিকে যাতায়াত অনেক বৃদ্ধি পায়। সড়কে মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার সংখ্যা ও মৃত্যু বেড়ে যায়।

গত বছরের এপ্রিলেও দেশে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়। আর গত বছরের জুনে উদ্‌যাপিত হয় ঈদুল আজহা। বিআরটিএর হিসাবে দেখা যায়, গত বছরের এপ্রিল ও জুনে ঈদের সময় মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলক বেশি ছিল। গত বছরের এপ্রিলে সড়কে মৃত্যু হয় ৪৫৯ জনের, জুনে মারা যান ৫০৪ জন। তবে গত বছরের দুই ঈদের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এ বছরের ঈদুল ফিতরের সময় মৃত্যুর ঘটনা অনেক বেশি।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ (১৯১ জন) মারা গেছেন, যা মোট মৃত্যুর ৩০ শতাংশ। ২৫২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয় গত মাসে। মোটরসাইকেলের পর বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬৭ জন, যা দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৬২ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ১০ শতাংশ। এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়।

গত এপ্রিলে সড়কে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, ১২৩ জন। এরপর ঢাকা বিভাগে, ১১৫ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে কম মৃত্যু সিলেট বিভাগে, ৩৮ জন।

বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম চার মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ১ হাজার ৫১০ জনের। আর চলতি বছরের প্রথম চার মাসে মারা গেছেন ২ হাজার ১০৯ জনের। গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় এ বছরের প্রথম চার মাসের প্রতিটিতেই মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। যেমন গত বছরের জানুয়ারিতে মারা গেছেন ৩৩৩ জন। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে মারা গেছেন ৪০৪ জন।

সড়কে মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ‘অস্বাভাবিক নয়’ বলে মনে করেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান। গতকাল শুক্রবার রাতে তিনি মুঠোফোনে  বলেন, যানবাহনের ফিটনেস (চলাচলের উপযোগী) সনদ এবং চালকের সনদ দেওয়ার কাজটি যথাযথভাবে হচ্ছে না। এর ফলে সড়কে চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন ও অদক্ষ চালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু—দুটিই বেড়ে যাচ্ছে।