ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যুবলীগ নেতাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪
  • / ৪৫ বার পড়া হয়েছে

মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ আদেশ দেন। ওই মামলায় নাজমুলের পরিবর্তে অপর এক ব্যক্তির কারাভোগ করার অভিযোগ রয়েছে।

‘মাদক মামলায় যুবলীগ নেতার আয়নাবাজি’ শিরোনামে গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। তবে এর আগে ওই মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হাসানের নামে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে একটি আপিল করা হয়। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আপিল শুনানি শেষে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য ছিল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন সেদিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করে আইনগত প্রতিকার প্রার্থনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আদালত রায় ঘোষণা মুলতবি করেন। অন্যদিকে বিচারিক আদালতের একজন আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন করেন। পরে প্রধান বিচারপতি আপিলটি নিষ্পত্তির জন্য ওই বেঞ্চে পাঠান।

এর ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল হাইকোর্ট পাঁচ দফা নির্দেশনাসহ আদেশ দেন। ওই ঘটনায় আসামির প্রকৃত পরিচয় কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছিল, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারককে (ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত) লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার আসামিকে কী প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করেছিলেন, এর প্রমাণপত্রসহ হলফনামা আকারে লিখিত জবাব সাত দিনের মধ্যে তাঁকে দাখিল করতে বলা হয়।

আগের ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, যিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এনেছিলেন। নাজমুল হাসানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. গিয়াসউদ্দিন আহম্মদ।

বিচারক, জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লিখিত জবাব দাখিল করেছেন বলে জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নাজমুলের পক্ষে হলফনামা আকারে বক্তব্য দাখিল করা হয়। এতে দেখা যায়, তিনি ওই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। তাহলে তিনি পলাতক। তাই তাঁকে আইনের আওতায় আনার কথা বলেছি। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নাজমুল হাসানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ মে দিন রেখেছেন আদালত।

নাজমুলের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ বলেন, নাজমুল বিদেশে থাকার সময় একজন যোগাযোগ করে তাঁকে মামলা হওয়ার কথা জানান। ওই ব্যক্তি বলেছিলেন, সব ঠিক করে দেবেন। পরবর্তীকালে পত্রিকায় সংবাদ দেখে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন এবং ওকালতনামা দাখিল করবেন।

‘মাদক মামলায় যুবলীগ নেতার আয়নাবাজি’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের আগস্টে উত্তরায় একটি বাসায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, গাঁজাসহ আটক করা হয় আনোয়ার হোসেন নামের একজনকে। তবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন মাদক চক্রের হোতা। মাদক উদ্ধারের এ ঘটনায় দুজনকে আসামি করে মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পলাতক ওই ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

ওই প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামি মাদক কারবারের হোতা মো. নাজমুল হাসান। ঢাকার উত্তরার ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের এই নেতার বাবার নাম আবুল হাসেম চেয়ারম্যান। কিন্তু এ পরিচয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে যিনি জেল খেটেছেন, তাঁর প্রকৃত নাম মিরাজুল ইসলাম। টাকার বিনিময়ে রীতিমতো চুক্তি করে নাজমুলের সাজা নিজের ঘাড়ে নিয়েছেন তিনি। যদিও চুক্তিমতো সব টাকা পাননি মিরাজুল। জামিনে বেরিয়ে এসে টাকা চাইতে গেলে উল্টো ৫০টি ইয়াবা দিয়ে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

আপডেট সময় ০৮:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যুবলীগ নেতা নাজমুল হাসানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ আদেশ দেন। ওই মামলায় নাজমুলের পরিবর্তে অপর এক ব্যক্তির কারাভোগ করার অভিযোগ রয়েছে।

‘মাদক মামলায় যুবলীগ নেতার আয়নাবাজি’ শিরোনামে গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। তবে এর আগে ওই মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হাসানের নামে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে একটি আপিল করা হয়। হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আপিল শুনানি শেষে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রায়ের জন্য ছিল। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন সেদিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করে আইনগত প্রতিকার প্রার্থনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আদালত রায় ঘোষণা মুলতবি করেন। অন্যদিকে বিচারিক আদালতের একজন আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন করেন। পরে প্রধান বিচারপতি আপিলটি নিষ্পত্তির জন্য ওই বেঞ্চে পাঠান।

এর ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে গত ২৪ এপ্রিল হাইকোর্ট পাঁচ দফা নির্দেশনাসহ আদেশ দেন। ওই ঘটনায় আসামির প্রকৃত পরিচয় কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছিল, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারককে (ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত) লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার আসামিকে কী প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করেছিলেন, এর প্রমাণপত্রসহ হলফনামা আকারে লিখিত জবাব সাত দিনের মধ্যে তাঁকে দাখিল করতে বলা হয়।

আগের ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, যিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এনেছিলেন। নাজমুল হাসানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাঈদ আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. গিয়াসউদ্দিন আহম্মদ।

বিচারক, জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লিখিত জবাব দাখিল করেছেন বলে জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নাজমুলের পক্ষে হলফনামা আকারে বক্তব্য দাখিল করা হয়। এতে দেখা যায়, তিনি ওই মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। তাহলে তিনি পলাতক। তাই তাঁকে আইনের আওতায় আনার কথা বলেছি। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নাজমুল হাসানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ মে দিন রেখেছেন আদালত।

নাজমুলের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ বলেন, নাজমুল বিদেশে থাকার সময় একজন যোগাযোগ করে তাঁকে মামলা হওয়ার কথা জানান। ওই ব্যক্তি বলেছিলেন, সব ঠিক করে দেবেন। পরবর্তীকালে পত্রিকায় সংবাদ দেখে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন এবং ওকালতনামা দাখিল করবেন।

‘মাদক মামলায় যুবলীগ নেতার আয়নাবাজি’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের আগস্টে উত্তরায় একটি বাসায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, গাঁজাসহ আটক করা হয় আনোয়ার হোসেন নামের একজনকে। তবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন মাদক চক্রের হোতা। মাদক উদ্ধারের এ ঘটনায় দুজনকে আসামি করে মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বিচারে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পলাতক ওই ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

ওই প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামি মাদক কারবারের হোতা মো. নাজমুল হাসান। ঢাকার উত্তরার ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের এই নেতার বাবার নাম আবুল হাসেম চেয়ারম্যান। কিন্তু এ পরিচয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে যিনি জেল খেটেছেন, তাঁর প্রকৃত নাম মিরাজুল ইসলাম। টাকার বিনিময়ে রীতিমতো চুক্তি করে নাজমুলের সাজা নিজের ঘাড়ে নিয়েছেন তিনি। যদিও চুক্তিমতো সব টাকা পাননি মিরাজুল। জামিনে বেরিয়ে এসে টাকা চাইতে গেলে উল্টো ৫০টি ইয়াবা দিয়ে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।