ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে উপজেলা নির্বাচনের পরে আওয়ামীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:১৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪
  • / ৭৬ বার পড়া হয়েছে

‘আমাদের কী অপরাধ? আমরা তো আওয়ামী লীগই করে আসছি আজীবন। গত সংসদ নির্বাচনেও নৌকার ভোট করেছি। কিন্তু আজ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সভাপতির পক্ষে ভোট করার কারণে আমরা হামলার শিকার। আমাদের দোকান, বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর করে সব মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে দোকানে থাকা টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র।’

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার শিকার চর জব্বার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও চেউয়াখালি বাজারের ব্যবসায়ী মাঈন উদ্দিন ওরফে মামুন নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আজ রোববার নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাঈন উদ্দিনসহ হামলা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। তাঁরা এ সময় নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে বিজয়ী আনারস প্রতীকের প্রার্থী সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে আতাহার ইশরাক শাবাব চৌধুরীর সমর্থকদের গত কয়েক দিনের হামলার চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

বেলা ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদু পিন্টু, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে গত কয়েক দিনে হামলা, ভাঙচুর ও নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও চিত্র সাংবাদিকদের প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয়। এ সময় নির্বাচন–পরবর্তী হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী, চর জব্বার ইউনিয়নের চেউয়াখালি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা, মাঈন উদ্দিন, আপন ভূঁইয়া দোয়াত-কলম প্রতীকের ভোট করার কারণে তাঁদের ওপর ভোটের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এ সময় নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভোটের আগে থেকে তাঁকে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ও তাঁর পক্ষের লোকজন নানা হুমকি দিয়ে আসছেন। ভোটে তাঁরা জেতার পর শুরু হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনমের দোয়াত-কলমের প্রতীকের সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা।

মহিউদ্দিন আরও বলেন, আজ সকালেও তাঁর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল মোনাফের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে একরামুল করিম চৌধুরীর লোকজন। তাঁরা এ সময় মোনাফকে না পেয়ে তাঁর পুত্রবধূকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী ব্যক্তিরা পালিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী ও তাঁর ছেলে নবনির্বাচিত সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাহার ইশরাক শাবাব চৌধুরীর মুঠোফোনে আজ দুপুরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তাঁরা ধরেননি। এ কারণে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দোয়াত-কলম প্রতীকের পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী বলেন, ভোটের দিন চর মহিউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়, চর মহিউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর মহিউদ্দিন এন এ প্রো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজীপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কমপক্ষে ১০টি কেন্দ্রে তাঁর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে অব্যবহৃত ব্যালটে আনারস প্রতীকের সিল মারা হয়, যা বিভিন্ন মাধ্যমে এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বর্ণনা দিচ্ছেন চেউয়াখালি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন। আজ দুপুরে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বর্ণনা দিচ্ছেন চেউয়াখালি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন। আজ দুপুরে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়েছবি: প্রথম আলো।

খায়রুল আনম চৌধুরী উল্লেখ করেন, ভোট শুরুর পর বিভিন্ন স্থানে তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা চালান আনারস প্রতীকের সমর্থকেরা। হামলায় দোয়াত-কলম প্রতীকের কমপক্ষে ২০ নেতা-কর্মী আহত হন। ভোট শেষে সন্ধ্যায় শুরু হয় দোয়াত-কলম প্রতীকের কর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি এবং বাজারে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হামলা। গত চার দিনে সুবর্ণচরের আটটি ইউনিয়নে তাঁর (খায়রুল আনম) অসংখ্য নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চর জব্বার ইউনিয়নের চেউয়াখালি বাজারেই ভাঙচুর করা হয়েছে কমপক্ষে ১৫টি দোকান। প্রতিপক্ষের হামলা ও ভাঙচুরে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের অনেকে এখন বাড়িছাড়া।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা খায়রুল আনম চৌধুরী বলেন, ভোটের ফলাফল প্রকাশ শুরু করা হলে ৬১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি প্রায় ১ হাজার ৩০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ঠিক তখনই আনারস প্রতীকের প্রার্থী সংসদ সদস্যের ছেলে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার পর ফলাফল ঘোষণা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তিন ঘণ্টা পর ঘোষিত ফলাফলে তাঁকে ৭০৩ ভোটে পরাজিত দেখানো হয়। খায়রুল আনমের অভিযোগ, তাঁকে কারচুপির মাধ্যমে হারানো হয়েছে। এ কারণে তিনি বাতিল করা ১ হাজার ৯১৪ ভোট পুনর্গণনা ও পাঁচটি কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ খান বলেন, ভোটের আগের দিন পুলিশ সুপার ফোন করে তিনিসহ শহর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সুবর্ণচর না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাঁরা সেই অনুরোধ রেখেছেন। কিন্তু কবিরহাট ও সদর পশ্চিমাঞ্চল থেকে কয়েক হাজার বহিরাগত ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে, প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাই তিনি ভোটের দিনের অনিয়ম ও ভোট–পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানান।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু বলেন, অত্যাচার ও নির্যাতনে সুবর্ণচরের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকেই এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নিউজটি শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে উপজেলা নির্বাচনের পরে আওয়ামীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ

আপডেট সময় ১০:১৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

‘আমাদের কী অপরাধ? আমরা তো আওয়ামী লীগই করে আসছি আজীবন। গত সংসদ নির্বাচনেও নৌকার ভোট করেছি। কিন্তু আজ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সভাপতির পক্ষে ভোট করার কারণে আমরা হামলার শিকার। আমাদের দোকান, বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর করে সব মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে দোকানে থাকা টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র।’

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার শিকার চর জব্বার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও চেউয়াখালি বাজারের ব্যবসায়ী মাঈন উদ্দিন ওরফে মামুন নির্যাতনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

আজ রোববার নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাঈন উদ্দিনসহ হামলা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। তাঁরা এ সময় নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে বিজয়ী আনারস প্রতীকের প্রার্থী সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে আতাহার ইশরাক শাবাব চৌধুরীর সমর্থকদের গত কয়েক দিনের হামলার চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

বেলা ১১টায় জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদু পিন্টু, সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে গত কয়েক দিনে হামলা, ভাঙচুর ও নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও চিত্র সাংবাদিকদের প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয়। এ সময় নির্বাচন–পরবর্তী হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী, চর জব্বার ইউনিয়নের চেউয়াখালি এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা, মাঈন উদ্দিন, আপন ভূঁইয়া দোয়াত-কলম প্রতীকের ভোট করার কারণে তাঁদের ওপর ভোটের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এ সময় নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভোটের আগে থেকে তাঁকে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ও তাঁর পক্ষের লোকজন নানা হুমকি দিয়ে আসছেন। ভোটে তাঁরা জেতার পর শুরু হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনমের দোয়াত-কলমের প্রতীকের সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা।

মহিউদ্দিন আরও বলেন, আজ সকালেও তাঁর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল মোনাফের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে একরামুল করিম চৌধুরীর লোকজন। তাঁরা এ সময় মোনাফকে না পেয়ে তাঁর পুত্রবধূকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী ব্যক্তিরা পালিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী ও তাঁর ছেলে নবনির্বাচিত সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাহার ইশরাক শাবাব চৌধুরীর মুঠোফোনে আজ দুপুরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তাঁরা ধরেননি। এ কারণে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দোয়াত-কলম প্রতীকের পদপ্রার্থী এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী বলেন, ভোটের দিন চর মহিউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়, চর মহিউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর মহিউদ্দিন এন এ প্রো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজীপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কমপক্ষে ১০টি কেন্দ্রে তাঁর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে অব্যবহৃত ব্যালটে আনারস প্রতীকের সিল মারা হয়, যা বিভিন্ন মাধ্যমে এরই মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বর্ণনা দিচ্ছেন চেউয়াখালি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন। আজ দুপুরে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বর্ণনা দিচ্ছেন চেউয়াখালি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন। আজ দুপুরে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়েছবি: প্রথম আলো।

খায়রুল আনম চৌধুরী উল্লেখ করেন, ভোট শুরুর পর বিভিন্ন স্থানে তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা চালান আনারস প্রতীকের সমর্থকেরা। হামলায় দোয়াত-কলম প্রতীকের কমপক্ষে ২০ নেতা-কর্মী আহত হন। ভোট শেষে সন্ধ্যায় শুরু হয় দোয়াত-কলম প্রতীকের কর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি এবং বাজারে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হামলা। গত চার দিনে সুবর্ণচরের আটটি ইউনিয়নে তাঁর (খায়রুল আনম) অসংখ্য নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চর জব্বার ইউনিয়নের চেউয়াখালি বাজারেই ভাঙচুর করা হয়েছে কমপক্ষে ১৫টি দোকান। প্রতিপক্ষের হামলা ও ভাঙচুরে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের অনেকে এখন বাড়িছাড়া।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা খায়রুল আনম চৌধুরী বলেন, ভোটের ফলাফল প্রকাশ শুরু করা হলে ৬১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি প্রায় ১ হাজার ৩০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ঠিক তখনই আনারস প্রতীকের প্রার্থী সংসদ সদস্যের ছেলে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার পর ফলাফল ঘোষণা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তিন ঘণ্টা পর ঘোষিত ফলাফলে তাঁকে ৭০৩ ভোটে পরাজিত দেখানো হয়। খায়রুল আনমের অভিযোগ, তাঁকে কারচুপির মাধ্যমে হারানো হয়েছে। এ কারণে তিনি বাতিল করা ১ হাজার ৯১৪ ভোট পুনর্গণনা ও পাঁচটি কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ খান বলেন, ভোটের আগের দিন পুলিশ সুপার ফোন করে তিনিসহ শহর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সুবর্ণচর না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাঁরা সেই অনুরোধ রেখেছেন। কিন্তু কবিরহাট ও সদর পশ্চিমাঞ্চল থেকে কয়েক হাজার বহিরাগত ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে, প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাই তিনি ভোটের দিনের অনিয়ম ও ভোট–পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানান।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু বলেন, অত্যাচার ও নির্যাতনে সুবর্ণচরের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অনেকেই এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।