ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হালকাভাবে’ নিয়েছিল পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক:-
  • আপডেট সময় ০৪:২২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪
  • / ৫৯ বার পড়া হয়েছে

ক্রিকেটপ্রেমীদের চমকে দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অপেক্ষাকৃত খর্বশক্তির দল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে গেছে পাকিস্তান। হারের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিন বিভাগেই খারাপ করার দায় দিলেন দলটির অধিনায়ক বাবর আজম। তিনি এও জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা হালকাভাবে নিয়েছিল তার দল।

ডালাসে বৃহস্পতিবার মূল ম্যাচ ‘টাই’ হওয়ার পর সুপার ওভারে ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্সে জিতে যায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের পর হতাশা লুকালেন না বাবর আজম, প্রাপ্য কৃতিত্ব দিলেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেও।

“অবশ্যই হতাশ আমি। তিন বিভাগেই আমরা ভালো ছিলাম না। বোলিংয়ে আমরা শুরুতে উইকেট নিতে পারিনি। মাঝের ওভারগুলোয় স্পিনাররাও উইকেট না পাওয়ায় আমরা চাপে পড়ে যাই। ১০ ওভারের পর আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তবে তারা যেভাবে শেষ করেছে এবং সুপার ওভারে যেভাবে খেলেছে, কৃতিত্ব দিতেই হবে তাদেরকে।”

ব্যাটিংয়ের শুরুতেই খেই হারায় পাকিস্তান। তবু বাবর আজমের ৪৩ বলে ৪৪, শাদাব খানের ২৫ বলে ৪০ এবং শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির ১৬ বলে ২৩ রান দলকে ১৫৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়।

কিন্তু স্লো উইকেটে বোলাররা সেই সংগ্রহকে যথেষ্ঠ প্রমাণ করতে পারেননি। ১৩ ওভারেই কেবল ১ উইকেট হারিয়ে ১০৪ রান তুলে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। গতবারের রানার্স-আপ পাকিস্তান এরপর ঘুরে দাঁড়ায়। শেষ ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের দরকার ছিল ১৫ রান। সেখানে হারিস রউফের বলে অ্যারন জোন্সের ছক্কা ও শেষ বলে নিতিশ কুমারের বাউন্ডারিতে ম্যাচ টাই করতে পারে তারা।

সুপার ওভারে ৭ অতিরিক্তিসহ ১৮ রান দেন মোহাম্মদ আমির, মূল ম্যাচে চার ওভারে যিনি রান দেন কেবল ২৫। পাকিস্তান করতে পারে ১৩ রান। সংবাদ সম্মেলনে আমিরের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসাই করলেন বাবর।

“সে (আমির) তো অভিজ্ঞ বোলার। কীভাবে বল করতে হয়, তার জানা আছে। আমরা চেষ্টা করেছি, ফিল্ডিং সাজানো অনুযায়ী বল করতে। তবে আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটাররা আরও স্মার্ট। কিপারের কাছে বল রেখেই তারা রান নিয়েছে। এটা সুপার ওভারে তাদের জন্য বাড়তি সহায়তা করেছে।”

বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইংল্যান্ডে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে এসেছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে তাই আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ তারা খেলেনি। তবে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি দেখছেন না বাবর। তার দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে মানসিক ঘাটতির কথা, প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টিও।

“যে কোনো টুর্নামেন্টের জন্যই প্রস্তুতি তো সবসময়ই সর্বোচ্চ থাকে। এখানে মানসিকতার ব্যাপার বলতে পারেন। এই ধরনের দল যখন সামনে থাকে, দল হিসেবে কিছুটা রিল্যাক্সড হতে পারেন আপনি, সবকিছু কিছুটা সহজভাবে নিতে পারেন।”

“যে কোনো দলের বিপক্ষেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে না পারলে তারা ম্যাচ বের করে নেবে, যেমন দলই হোক। আমার মতে, বাস্তবায়ন ঠিকঠাক করতে পারিনি আমরা। প্রস্তুতি আমাদের ভালো ছিল। কিন্তু দল হিসেবে পরিকল্পনার প্রয়োগ করতে পারিনি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হালকাভাবে’ নিয়েছিল পাকিস্তান

আপডেট সময় ০৪:২২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪

ক্রিকেটপ্রেমীদের চমকে দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অপেক্ষাকৃত খর্বশক্তির দল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে গেছে পাকিস্তান। হারের কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিন বিভাগেই খারাপ করার দায় দিলেন দলটির অধিনায়ক বাবর আজম। তিনি এও জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা হালকাভাবে নিয়েছিল তার দল।

ডালাসে বৃহস্পতিবার মূল ম্যাচ ‘টাই’ হওয়ার পর সুপার ওভারে ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্সে জিতে যায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের পর হতাশা লুকালেন না বাবর আজম, প্রাপ্য কৃতিত্ব দিলেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রকেও।

“অবশ্যই হতাশ আমি। তিন বিভাগেই আমরা ভালো ছিলাম না। বোলিংয়ে আমরা শুরুতে উইকেট নিতে পারিনি। মাঝের ওভারগুলোয় স্পিনাররাও উইকেট না পাওয়ায় আমরা চাপে পড়ে যাই। ১০ ওভারের পর আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তবে তারা যেভাবে শেষ করেছে এবং সুপার ওভারে যেভাবে খেলেছে, কৃতিত্ব দিতেই হবে তাদেরকে।”

ব্যাটিংয়ের শুরুতেই খেই হারায় পাকিস্তান। তবু বাবর আজমের ৪৩ বলে ৪৪, শাদাব খানের ২৫ বলে ৪০ এবং শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির ১৬ বলে ২৩ রান দলকে ১৫৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়।

কিন্তু স্লো উইকেটে বোলাররা সেই সংগ্রহকে যথেষ্ঠ প্রমাণ করতে পারেননি। ১৩ ওভারেই কেবল ১ উইকেট হারিয়ে ১০৪ রান তুলে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। গতবারের রানার্স-আপ পাকিস্তান এরপর ঘুরে দাঁড়ায়। শেষ ওভারে যুক্তরাষ্ট্রের দরকার ছিল ১৫ রান। সেখানে হারিস রউফের বলে অ্যারন জোন্সের ছক্কা ও শেষ বলে নিতিশ কুমারের বাউন্ডারিতে ম্যাচ টাই করতে পারে তারা।

সুপার ওভারে ৭ অতিরিক্তিসহ ১৮ রান দেন মোহাম্মদ আমির, মূল ম্যাচে চার ওভারে যিনি রান দেন কেবল ২৫। পাকিস্তান করতে পারে ১৩ রান। সংবাদ সম্মেলনে আমিরের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসাই করলেন বাবর।

“সে (আমির) তো অভিজ্ঞ বোলার। কীভাবে বল করতে হয়, তার জানা আছে। আমরা চেষ্টা করেছি, ফিল্ডিং সাজানো অনুযায়ী বল করতে। তবে আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটাররা আরও স্মার্ট। কিপারের কাছে বল রেখেই তারা রান নিয়েছে। এটা সুপার ওভারে তাদের জন্য বাড়তি সহায়তা করেছে।”

বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইংল্যান্ডে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে এসেছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে তাই আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ তারা খেলেনি। তবে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি দেখছেন না বাবর। তার দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে মানসিক ঘাটতির কথা, প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টিও।

“যে কোনো টুর্নামেন্টের জন্যই প্রস্তুতি তো সবসময়ই সর্বোচ্চ থাকে। এখানে মানসিকতার ব্যাপার বলতে পারেন। এই ধরনের দল যখন সামনে থাকে, দল হিসেবে কিছুটা রিল্যাক্সড হতে পারেন আপনি, সবকিছু কিছুটা সহজভাবে নিতে পারেন।”

“যে কোনো দলের বিপক্ষেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে না পারলে তারা ম্যাচ বের করে নেবে, যেমন দলই হোক। আমার মতে, বাস্তবায়ন ঠিকঠাক করতে পারিনি আমরা। প্রস্তুতি আমাদের ভালো ছিল। কিন্তু দল হিসেবে পরিকল্পনার প্রয়োগ করতে পারিনি।”