সভায় বলা হয়, ঈদের ছুটিতে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় (রোডক্র্যাশ) হতাহতের ঘটনা বেড়ে যায়। কিন্তু কেন থামানো যাচ্ছে না রোডক্রাশ? কারণ এটা প্রতিরোধে এবং সড়কে সবাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন একটি উপযুক্ত আইন, যা বাংলাদেশে নেই। তাই একটি সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং এর যথাযথ প্রয়োগ অতীব জরুরি। সড়ক দুর্ঘটনা কমাকে তারা নয়টি সুপারিশ তুলে ধরেন।
এতে বলা হয়, দেশের সড়ক ও যানবাহনের পরিস্থিতির কথা ভেবে নিরাপদ গতি নির্ধারণ করা উচিত এবং এই সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন অতিসত্ত্বর প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়েরই ঈদে চলাচলে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এবং অতিদ্রুত এ সংক্রান্ত এনফোর্সমেন্ট গাইডলাইন প্রণয়ন করতে হবে। সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে।
অবশ্যই চালকদের কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ঈদযাত্রায় চালকরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান। ঈদযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে নছিমন, করিমন, টেম্পুসহ সকল প্রকার ব্যাটারিচালিত যানবাহন ও ভটভটি চলাচল বন্ধ করতে হবে। নেশা জাতীয়দ্রব্য সেবন করে যাতে গাড়ি না চালায় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। ঈদযাত্রায় যানবাহনে চালকসহ সব যাত্রীর সিটবেল্ট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পরিবহনের পাশাপাশি পথচারী পারাপার ও তাদের নিরাপদে চলাচলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন-ফুটপাত হকারমুক্ত করতে হবে। ফুটওভারব্রিজ পথচারীবান্ধব করতে হবে। সর্বোপরি, বিশ্বব্যাপী সমাদৃত সেইফ সিস্টেম এপ্রোচের আদলে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
ঈদযাত্রাসহ দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ইয়ুথ ফোরামের পক্ষ থেকে মারজানা মুনতাহা, এ এফ এম সাদমান সাকিব, বাংলাদেশ মেডিক্যাল স্টুডেন্ট সোসাইটির জাকিয়া মাইশা ও নিশাত তারান্নুম, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের ইশতিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের আহ্সান রনিসহ বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক তরুণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রোডসেফটি বিষয়ে মরক্কোর মারাকাসে অনুষ্ঠিত চতুর্থ গ্লোবাল মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ‘২০২৭ সালের মধ্যে সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচের আদলে বাংলাদেশে একটি সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হবে।’