ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্দোলনের মুখে ২০ জানুয়ারিতেই বহাল শাকসু নির্বাচন

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৩২ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে আগামী ২০ জানুয়ারিই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বহাল রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে পূর্ণ কমিশন সভায় মিলিত হন শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।

কমিশন সভায় জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধ দল। সেখানে আগামী ২০ জানুয়ারি পূর্ব নির্ধারিত শাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করেন ভিসিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল।

জানা যায়, আলোচনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শাকসু নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানের আশ্বাস দেন। শাকসু নির্বাচনে ইসির বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না, এমন বিষয়টি জানান কর্মকর্তারা।

পরে রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুকে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়া হয়।

সেখানে বলা হয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং হল সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে চলমান অস্থিরতা নিয়ে শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ ফুল কমিশন সভায় আলোচনায় মিলিত হন।

সভায় শাকসু নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিইসি আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দেন। সভায় শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: ইসমাইল হোসেন ও ভাইস চ্যান্সেলরের একান্ত সচিব ড. এ এফ এম সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দিলেও রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে জানালেও তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে এখনও তারা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

এর আগে জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া প্রজ্ঞাপনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতভর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করে ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শাকসুর দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। ফলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।

দফায় দফায় বৈঠকের পরে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার মধ্যে শাকসু নির্বাচন নিয়ে ফাইনাল সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাসে ভোরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি রাতভর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর মঙ্গলবার ভোরে শিক্ষার্থী, শাকসু নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা করে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ জানাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় সিইসির সাথে বৈঠকে শেষে ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন আয়োজনের কথা জানান। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্দোলনের মুখে ২০ জানুয়ারিতেই বহাল শাকসু নির্বাচন

আপডেট সময় ১২:১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে আগামী ২০ জানুয়ারিই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন বহাল রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাওয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে পূর্ণ কমিশন সভায় মিলিত হন শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।

কমিশন সভায় জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধ দল। সেখানে আগামী ২০ জানুয়ারি পূর্ব নির্ধারিত শাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবহিত করেন ভিসিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল।

জানা যায়, আলোচনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শাকসু নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানের আশ্বাস দেন। শাকসু নির্বাচনে ইসির বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না, এমন বিষয়টি জানান কর্মকর্তারা।

পরে রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুকে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়া হয়।

সেখানে বলা হয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং হল সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে চলমান অস্থিরতা নিয়ে শাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ ফুল কমিশন সভায় আলোচনায় মিলিত হন।

সভায় শাকসু নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিইসি আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দেন। সভায় শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: ইসমাইল হোসেন ও ভাইস চ্যান্সেলরের একান্ত সচিব ড. এ এফ এম সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দিলেও রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে জানালেও তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে এখনও তারা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাই আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

এর আগে জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত সংক্রান্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া প্রজ্ঞাপনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতভর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করে ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শাকসুর দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। ফলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।

দফায় দফায় বৈঠকের পরে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার মধ্যে শাকসু নির্বাচন নিয়ে ফাইনাল সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাসে ভোরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি রাতভর রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর মঙ্গলবার ভোরে শিক্ষার্থী, শাকসু নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা করে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ জানাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় সিইসির সাথে বৈঠকে শেষে ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচন আয়োজনের কথা জানান। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।