দেশের কোনো জেলায় মেডিক্যাল কলেজ বাদ থাকবে না: জামায়াত আমির
- আপডেট সময় ০৫:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৪১ বার পড়া হয়েছে
“১৮ কোটি মানুষের দেশে কোনো জেলায় মেডিক্যাল কলেজ বাদ থাকবে না।” বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠের নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “দেশবাসী সুযোগ দিলে ফেনীসহ ৩১ জেলায় সরকারী মেডিকেল কলেজ হবে। বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে।বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের শান্তিপুর্ণ সমাধান করা হবে। ফেনীতে মানসম্মত স্টেডিয়াম নেই। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্টেডিয়াম হবে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।”
তিনি আরো বলেন, ১২ তারিখ প্রথম ভোট হবে হ্যাঁ। হ্যাঁ মানে আজাদী। রাজার ঘরে জন্ম হলে রাজা আর মন্ত্রীর ঘরে জন্ম হলে মন্ত্রী- এই সংস্কৃতিকে পাল্টে দিতে হবে। এর জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। ভবিষ্যতে রিকশাওয়ালার ছেলেও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।
তিনি দাঁড়িপাল্লা ও ঈগল প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেছেন, ১১টি দল একাকার। আর কোনো মান-অভিমান চলবে না। আধিপত্যবাদ, মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভোট তুলে আনতে হবে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১১ দলকে বিজয়ী করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দূর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাতে চাই। সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করুন। সেই সম্মান করলে মাথা গরমের সুযোগ নেই। খবরদার মা’দের সম্মান নিয়ে টান দেবেন না, আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে। মায়ের বেইজ্জতি সহ্য করতে পারব না। ওসমান হাদি, রেজাউল করিম, আবু সাঈদের কী দোষ ছিল? ‘বুকের ভিতর তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’ স্লোগান দিয়ে প্রাণ দিয়েছেন। বীরেরা পালায় না,দোয়া করি প্রত্যেকটি মায়ের ঘরে বীর জন্ম হোক । যুবক ভাইদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না, তাদের কাজ দিয়ে মর্যাদা তুলে দিতে চাই। বুকের দিকে আম্গুল তুলে বলতে হবে আমিই বাংলাদেশ। মা’দের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মায়েদের দোয়া আমাদের শক্তি। আস্থার প্রতিদান দিতে লড়ে যাবো । কওমী মাদরাসা আমাদোর কলিজা। আমরা কথায় নয় কাজে প্রমাণ করবো। যারা ভয় দেখায় তারা মতলববাজ। ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
জামায়াত আমির বলেন, ৩৬ জুলাইয়ের আগে গোটা দেশ ছোপ ছোপ রক্তে ভরে গিয়েছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে। ফেনীবাসী ছিলেন আরো সন্ত্রাসের রাজ্যে। বংশানুক্রমে সন্ত্রাস। জুলাইজুড়ে আন্দোলন করেছেন। ৫ আগস্ট বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরেছেন। তিনি ফেনীর মেয়ে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, তিনি আধিপত্যবাদকে প্রশ্রয় দেননি। ফেনী জেলার মানুষ মকবুল আহমাদ দুর্দিনে জামায়াতের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বিপ্লবের পরপরই সীমান্তের ওপার থেকে তেড়ে আসা পানিতে বাঁধ ভেঙ্গে ফেনী জেলা সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দু:খের সঙ্গী-সাথী হতে তখন এসেছিলাম। ফেনী নদী নিয়ে কথা বলায় আবরার ফাহাদকে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি দেশের ন্যায্য প্রাপ্যের কথা বলেছিলেন। আধিপত্যবাদের দোসররা সহ্য করতে পারেনি। মহিপালের ১২ জন শহীদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হবে।
জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবু তাহের মোহাম্মদ মা’ছুম, জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি কবির আহমদ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, শ্রমিক কল্যাণের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি আতিকুর রহমান।
জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুর রহীমের পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন ফেনী-১ আসনের প্রার্থী এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু, ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন মানিক, সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা ও একেএম শামসুদ্দিন, নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু উউসুফ ও মাওলানা মাহমুদুল হক, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মোহাম্মদ আলী মিল্লাত, এনসিপির সংগঠক আজিজুর রহমান রিজভী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, শহর সভাপতি ওমর ফারুক, জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ ।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে ফেনীর ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন ডা.শফিকুর রহমান। জনসভায় জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা জনসমাগম সামাল দিতে এবং সবাইকে মঞ্চের দৃশ্য দেখানোর জন্য ৫টি বিশাল পর্দায় (এলইডি স্ক্রিন) সভা সম্প্রচার করা হয়।
সংবাদ ২৪৭/ এজে



















