ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হত্যা মামলার আসামী এখন ধানের শীষের প্রার্থী; প্রচারণায় তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৪০ বার পড়া হয়েছে

দীপ্ত টেলিভিশনের কর্মকর্তা তামিম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামী বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবির পদ স্থগিত করেছিলো বিএনপি। তবে এখন সেই হত্যা মামলার আসামীকই ঢাকা-১০ আসনের বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। এছাড়া তারেক রহমান নিজেই প্রচারণা চালাচ্ছেন এই হত্যা মামলার আসামীর পক্ষে। এতে হত্যার শিকার তামিমের পরিবার ও নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এ খুনের মামলার আসামী দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক দলের প্রধানের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকায় এ হত্যা মামলার বিচার নিয়ে শংঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার রামপুরায় ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে পিটিয়ে মারা হয়ে জমির মালিক সুলতান আহমেদের ছেলে তামিমকে।  এ হত্যার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল তার পরিবার। এর মধ্যে তিন নম্বর আসামি বিএনপি নেতা শেখ রবি। এদিকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তার পদ স্থগিত করেছিল বিএনপি।

সেসময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. রুহুল কবির খান এবিষয়ে বলেছিলেন, “এ ঘটনায় বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবির প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তামিম রামপুরার মহানগর আবাসিক এলাকার চার নম্বর রোডের ডি-ব্লকের একটি বাড়ির আট তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। ওই বাড়ির জমির মালিক তামিমের বাবাসহ মোট তিনজন। ভবন নির্মাণের বিষয়ে ডেভেলপার কোম্পানি প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজের সঙ্গে যে চুক্তি হয় তাতে জমির মালিককে পাঁচটি ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কোম্পানি দুটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করলেও তিনটি ফ্ল্যাট ভবন মালিকের হাতে তুলে দেয়নি।

ওই তিনটির মধ্যে একটি ফ্ল্যাট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মামুনের শ্বশুরের কাছে বিক্রি করে প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ। এ নিয়েই গত বছর তিনেক ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

বৃহস্পতিবার ওই দ্বন্দ্বের জের ধরে তামিমদের বাড়িতে ঢোকেন ডেভেলপার কোম্পানির ‘প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ’ এর লোকজন। তাদের সঙ্গে বহিরাগত কয়েকজন ছিলেন। তারা ল্যান্ড ওনারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তারা তামিমের বুকে কিল-ঘুষি দেন। এরপর তার গলা টিপে ধরেন। এরপর স্থানীয়দের কয়েকজন ওই বাড়ি থেকে তামিমকে উদ্ধার করে মনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন বলে তৎকালীন প্রশাসন মন্তব্য করেছিরলেন। কিন্তু সেই হত্যা মামলার আসামীকেই ঢাকা-১০ আসনে নমিনেশন দিয়েছে বিএনিপি।

নিউজটি শেয়ার করুন

হত্যা মামলার আসামী এখন ধানের শীষের প্রার্থী; প্রচারণায় তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৯:৩০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীপ্ত টেলিভিশনের কর্মকর্তা তামিম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামী বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবির পদ স্থগিত করেছিলো বিএনপি। তবে এখন সেই হত্যা মামলার আসামীকই ঢাকা-১০ আসনের বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। এছাড়া তারেক রহমান নিজেই প্রচারণা চালাচ্ছেন এই হত্যা মামলার আসামীর পক্ষে। এতে হত্যার শিকার তামিমের পরিবার ও নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এ খুনের মামলার আসামী দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক দলের প্রধানের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকায় এ হত্যা মামলার বিচার নিয়ে শংঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার রামপুরায় ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে পিটিয়ে মারা হয়ে জমির মালিক সুলতান আহমেদের ছেলে তামিমকে।  এ হত্যার ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল তার পরিবার। এর মধ্যে তিন নম্বর আসামি বিএনপি নেতা শেখ রবি। এদিকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তার পদ স্থগিত করেছিল বিএনপি।

সেসময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. রুহুল কবির খান এবিষয়ে বলেছিলেন, “এ ঘটনায় বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবির প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তামিম রামপুরার মহানগর আবাসিক এলাকার চার নম্বর রোডের ডি-ব্লকের একটি বাড়ির আট তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। ওই বাড়ির জমির মালিক তামিমের বাবাসহ মোট তিনজন। ভবন নির্মাণের বিষয়ে ডেভেলপার কোম্পানি প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজের সঙ্গে যে চুক্তি হয় তাতে জমির মালিককে পাঁচটি ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কোম্পানি দুটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করলেও তিনটি ফ্ল্যাট ভবন মালিকের হাতে তুলে দেয়নি।

ওই তিনটির মধ্যে একটি ফ্ল্যাট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মামুনের শ্বশুরের কাছে বিক্রি করে প্লিজেন্ট প্রোপার্টিজ। এ নিয়েই গত বছর তিনেক ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

বৃহস্পতিবার ওই দ্বন্দ্বের জের ধরে তামিমদের বাড়িতে ঢোকেন ডেভেলপার কোম্পানির ‘প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ’ এর লোকজন। তাদের সঙ্গে বহিরাগত কয়েকজন ছিলেন। তারা ল্যান্ড ওনারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তারা তামিমের বুকে কিল-ঘুষি দেন। এরপর তার গলা টিপে ধরেন। এরপর স্থানীয়দের কয়েকজন ওই বাড়ি থেকে তামিমকে উদ্ধার করে মনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবির সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন বলে তৎকালীন প্রশাসন মন্তব্য করেছিরলেন। কিন্তু সেই হত্যা মামলার আসামীকেই ঢাকা-১০ আসনে নমিনেশন দিয়েছে বিএনিপি।