খামারবাড়িতে কর্মকর্তার কাছে ছাত্রদল নেতার চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি
- আপডেট সময় ০৩:৩৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
- / ২৮ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দপ্তরে ঢুকে কর্মকর্তাদের গালাগাল, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবির।
এ সময় আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি দল কর্মকর্তাদের কক্ষে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা অঞ্চলের ‘কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম মজুমদার। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তা চেয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
লিখিত অভিযোগে ড. কাইয়ূম মজুমদার জানান, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে ১০–১২ জন তার দপ্তরের ৭১৭ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। ঢুকেই তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার কারণে অফিসে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।
একই দিনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান ও অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাবিবউল্লাহকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত উপপরিচালক ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় তিনি পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাবিবউল্লাহর কক্ষে ছিলেন। তখন হঠাৎ করে আলমগীর কবির সেখানে ঢুকে তাকে বাইরে ডেকে আনেন।
তিনি বলেন, আলমগীর কবিরের সঙ্গে আরও ১০–১২ জন লোক ছিলেন। বাইরে ডেকে নিয়ে তিনি আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি বলেছি, আমার কাছে টাকা নেই—কিডনি বিক্রি করে টাকা দিতে হবে। এর আগেও তিনি আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন।
ড. মাহফুজুর রহমানের দাবি, শুধু তার কাছেই নয়, অধিদপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের কাছেও মাঝেমধ্যে এসে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শেকৃবি ছাত্রদল সেক্রেটারি আলমগীর কবির বলেন, ‘ওই কর্মকর্তার অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি তৃতীয় পক্ষের চাপে পড়ে এই কাজ করেছেন। এইসবের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। আর তিনি আওয়ামীলীগের দোসর। এইসব ঘটনার জন্য তিনি আমার কাছে দুঃখ প্রকাশও করেছে।’
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, আমি অফিসে ছিলাম না, ওই সময় মন্ত্রণালয়ে একটা মিটিংয়ে ছিলাম। তবে আমাদের কর্মকর্তার সঙ্গে ছাত্রদল নেতা খারাপ আচরণ করেছে বলে শুনেছি। বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে বিস্তারিত শুনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় যা যা করণীয় সব করা হবে



















