ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে সরকারি অফিস ভাঙচুর, চবি ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:০৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে হট্টগোল ও ভাঙচুরের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়কে এবার শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক নোটিশে তাকে শোকজ করা হয়। শোকজে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রেরিত ঐ শোকজ নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই নির্দেশনা প্রদান করেন। এর আগে গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের প্রিন্টার এই নেতার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালে ইউএনও অফিসে ঠিকাদারি কাজের বিল আনতে যান সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। তার সঙ্গে ছিলেন চবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ শুভ। ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় অফিসের প্রকৌশলী আতাউলের কাছে গিয়ে অফিসের হিসাব নিয়ামক শয়নের মোবাইল নম্বর চান। এসময় প্রকৌশলী আতাউল্লাহ তাকে মোবাইল নম্বর দিতে অস্বীকার করেন। এসময় মোবাইল নম্বর না পেয়ে প্রকৌশলীর সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। তিনি ওই অফিসারকে স্বৈরাচারের দোসরসহ বিভিন্ন ট্যাগ দিতে থাকেন। কোনো ধরনের হাতাহাতির ঘটনা না ঘটলেও অফিসের একটা প্রিন্টার মেশিন ভাঙচুর করা হয় বলে জানিয়েছেন অফিসের কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে অফিসের প্রকৌশলী আতা উল্লাহ বলেন, ঘটনাটি সত্যিই। চবি ছাত্রদলের নেতা সাজ্জাদ আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছেন। একটি নম্বরের জন্য এসেছিলেন। আমার ফোন হ্যাং হওয়ার কারণে বললাম যে পাশের রুম থেকে নেয়ার জন্য। তখন তিনি আমাকে বলেন যে আমার কাছে প্রত্যেকের নাম্বার থাকা উচিত। কেন থাকবে নয় এটা উল্লেখ করে আমাদেরকে স্বৈরাচারের দোসরসহ বিভিন্ন ট্যাগ দিতে থাকে পরবর্তীতে আমাদের প্রিন্টারসহ অনেক কিছু ভাঙচুর করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, আমার এলাকার একটা ছেলে ঐ অফিসে জব করে আমি তার নাম্বার খুঁজছিলাম। ওনি নাম্বার না দিয়ে আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছিল। তাই সেখানে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে, ভাঙচুরের বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় একটি প্রভাবশালী অফিস, সেখানে কি আমি ভাঙচুর করতে পারি? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? পুরো বিষয়টি আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে সরকারি অফিস ভাঙচুর, চবি ছাত্রদল নেতাকে শোকজ

আপডেট সময় ০৬:০৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে হট্টগোল ও ভাঙচুরের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়কে এবার শোকজ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো এক নোটিশে তাকে শোকজ করা হয়। শোকজে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রেরিত ঐ শোকজ নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই নির্দেশনা প্রদান করেন। এর আগে গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের প্রিন্টার এই নেতার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালে ইউএনও অফিসে ঠিকাদারি কাজের বিল আনতে যান সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। তার সঙ্গে ছিলেন চবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ শুভ। ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় অফিসের প্রকৌশলী আতাউলের কাছে গিয়ে অফিসের হিসাব নিয়ামক শয়নের মোবাইল নম্বর চান। এসময় প্রকৌশলী আতাউল্লাহ তাকে মোবাইল নম্বর দিতে অস্বীকার করেন। এসময় মোবাইল নম্বর না পেয়ে প্রকৌশলীর সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়। তিনি ওই অফিসারকে স্বৈরাচারের দোসরসহ বিভিন্ন ট্যাগ দিতে থাকেন। কোনো ধরনের হাতাহাতির ঘটনা না ঘটলেও অফিসের একটা প্রিন্টার মেশিন ভাঙচুর করা হয় বলে জানিয়েছেন অফিসের কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে অফিসের প্রকৌশলী আতা উল্লাহ বলেন, ঘটনাটি সত্যিই। চবি ছাত্রদলের নেতা সাজ্জাদ আমাদের অফিস ভাঙচুর করেছেন। একটি নম্বরের জন্য এসেছিলেন। আমার ফোন হ্যাং হওয়ার কারণে বললাম যে পাশের রুম থেকে নেয়ার জন্য। তখন তিনি আমাকে বলেন যে আমার কাছে প্রত্যেকের নাম্বার থাকা উচিত। কেন থাকবে নয় এটা উল্লেখ করে আমাদেরকে স্বৈরাচারের দোসরসহ বিভিন্ন ট্যাগ দিতে থাকে পরবর্তীতে আমাদের প্রিন্টারসহ অনেক কিছু ভাঙচুর করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, আমার এলাকার একটা ছেলে ঐ অফিসে জব করে আমি তার নাম্বার খুঁজছিলাম। ওনি নাম্বার না দিয়ে আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছিল। তাই সেখানে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে, ভাঙচুরের বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় একটি প্রভাবশালী অফিস, সেখানে কি আমি ভাঙচুর করতে পারি? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? পুরো বিষয়টি আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।