রাজশাহীতে কলেজ অডিটোরিয়াম দখল করে ছাত্রদলের কার্যালয়: বানান বিভ্রাটে মিস্ত্রির ওপর দায়
- আপডেট সময় ০৬:১৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / ২ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়াম দখল করে দলীয় কার্যালয় বানানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। অডিটোরিয়ামের দেওয়ালে দলীয় লোগো এবং চিকা মারতে গিয়ে একের পর এক বানান বিভ্রাটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসির খোরাক ও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে সংগঠনটি। এমনকি নিজেদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামের বানানও ভুল লিখেছে তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের অডিটোরিয়াম ভবনটিকে কার্যত দলীয় কার্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে। ভবনের দেওয়ালে বড় করে ছাত্রদলের লোগো আঁকা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়েছে। তবে বিপত্তি বাঁধে বানান নিয়ে। শুরুতে ‘জাতীয়তাবাদী’ বানানটি ভুলভাবে লেখা হয়েছিল। বিষয়টি গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেটিজেনরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন বানান ভুল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সমালোচনার মুখে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে সেই ভুল বানান সংশোধনের উদ্যোগ নেয় ছাত্রদল কর্মীরা। কিন্তু ‘জাতীয়তাবাদী’ বানান সংশোধন করলেও দেখা যায়, উপরে স্বয়ং দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ‘জিয়াউর রহমান’-এর নামের বানানেই রয়ে গেছে বড় ভুল। গুরুত্বপূর্ণ এই নামের বানানে এমন অসতর্কতা দেখে হতবাক খোদ দলীয় সমর্থকেরাও।
এ বিষয়ে কলেজ শাখা ছাত্রদলের একাধিক কর্মীর সঙ্গে কথা বললে তারা সরাসরি দায় নিতে অস্বীকার করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মী বলেন, “আমরা তো আর নিজেরা লিখিনি, এটা রঙ মিস্ত্রির কাজ। মিস্ত্রি ভুল করেছে, তাই এমন হয়েছে।” তবে একজন রাজনৈতিক কর্মীর উপস্থিতিতে এমন সংবেদনশীল বানান কীভাবে ভুল হয়, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবার জন্য। কিন্তু অডিটোরিয়ামকে এভাবে দলীয় কার্যালয় বানানো এবং সেখানে দেওয়ালজুড়ে ভুল বানানে চিকা মারা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। তারা নিজেদের নেতার নামই ঠিকমতো লিখতে পারে না, এটা দুঃখজনক।”
কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে অডিটোরিয়াম দখল করে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “যেখানে শিক্ষা নিতে আসার কথা, সেখানে রাজনীতির নামে এমন দখলদারি এবং ভাষাগত অজ্ঞতা ছাত্র রাজনীতির নেতিবাচক দিকটিই ফুটিয়ে তুলছে।
















