ফরিদপুরে আ.লীগ-বিএনপির সংঘ’র্ষ, কৃষক দলের কার্যালয়সহ বাড়িঘর ভাঙচুর
- আপডেট সময় ০৮:৩১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১২ বার পড়া হয়েছে
ফরিদপুরের সালথায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউনিয়ন কৃষক দলের কার্যালয়সহ অন্তত ৮টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্ততপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে একপক্ষের নেতৃত্ব দেন উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মাতুব্বর এবং অপরপক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হেমায়েত মাতুব্বর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক দল নেতা ফারুকের সমর্থক বাচ্চু চোকদারের কাছ থেকে হেমায়েত মাতুব্বর একটি জমি ক্রয় করেন। ওই জমির সীমানা নির্ধারণ ও বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ ও স্থানীয় মাতুব্বরদের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠক বসে। জমি মাপার একপর্যায়ে দুই পক্ষ বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-সড়কি নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
এসময় হেমায়েত মাতুব্বরের নেতৃত্বে একদল লোক চড়াও হয়ে কৃষক দল নেতার সমর্থকদের ৮টি বসতবাড়িতে হামলা চালায়। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন—মিন্টু মুন্সি, সেলিম মুন্সি, হালিম মীর, মান্দার শেখ, মির্জা মুন্সি, সেলিম চোকদার, বাচ্চু চোকদার ও আসাদ শেখ। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাট চালায় এবং পার্শ্ববর্তী কাগদী বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন কৃষক দলের কার্যালয়টিও তছনছ করে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত আব্বাস মাতুব্বর (২৭), আসাদ (২৭), পিকুল মাতুব্বর (৫৪) ও লিটন মীরকে (৩৫) উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কৃষক দল নেতা ফারুক মাতুব্বর বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশ শেষে সোমবার চূড়ান্ত মাপজোপের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু হেমায়েত মাতুব্বরের ভাই ফয়সাল ও আসলামসহ একদল লোক হঠাৎ হামলা চালিয়ে আমার লোকজনের বাড়িঘর ও অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হেমায়েত মাতুব্বর বলেন, আজকে সেখানে কী ঘটেছে আমি কিছুই জানি না এবং আমি কোনোভাবেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হলে ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এক পর্যায়ে একটি পক্ষ অপর পক্ষকে ধাওয়া দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থানা থেকে আরও পুলিশ সদস্য এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















