ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ভুক্তভোগী মারাত্মকভাবে আহত।

আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরকর্মীকে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০১:০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অগাস্ট ২০১৮
  • / ৪৮৮৫ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের এক নেতাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  ভুক্তভোগী শিবিরি নেতা হলেন কুরআনিক সায়েন্সেস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের ৮ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. আলাউদ্দিন খান।

ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন এর সাথে থাকা সহপাঠী নাজমুল হাসান আমাদের সংবাদ প্রতিনিধিকে বলেন, “আলাউদ্দিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তৃতা রাখার পর একসাথে আমরা আমাদের আরেক সহপাঠি মো: সাখাওয়াত হোসেনের সাথে দেখা করতে যাই। সাক্ষাৎ শেষে হাঁটতে মসজিদের সামনে গেলে তারা মারধর করে।”

ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন আমাদের সংবাদদাতাকে জানান, “হঠাৎ করেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী তানভীর ও উচোঁ মারমা এসে আমাদের পথরোধ করে । আমরা কোন ডিপার্টমেন্টের একথা জিজ্ঞেস করেই আমাদের বলে চলেন চা খাবো। আমরা চা খাবোনা বলে চলে আসতে চাইলে তখন তানভীর আমাকে পিছন থেকে ঝাপটে ধরে এবং তার সাথে থাকা আরো কয়েকজন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী তাকে জোর করে টেনে হিচড়ে গেইটের বাহিরে নিয়ে যায়। পরে ছাত্রলীগের ১৫ জন নেতাকর্মী তাকে এলোপাথাড়ি কিল- ঘুষি, লাথি মারতে থাকে । যার ফলে আমার গালে, হাতের কনুই, পায়ে ও পিঠের উপর মারাত্মকভাবে যখম হই। এমন অবস্থা প্রায় ১০ মিনিট চলে। ১০ মিনিট পর পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আবু বকর র : হলের প্রভোস্ট জনাব আ ফ ম নুরুজ্জামান স্যার এসে আমাকে পুলিশ থেকে উদ্ধার করে মেডিকেল সেন্টারে পাঠান।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মারার সময় উপস্থিত ৪-৫ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্ড বাধা দিতে আসলে তাদেরও ধাক্কা দিয়ে দূরে ঠেলে দেয় সন্ত্রাসীরা।

পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নাম ও পরিচয় জানা যায়। তানভীর ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী এবং তার আইডি : ET-123030. উচোঁ মারমা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৮ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী, তার আইডি : L-141050. সেখানে উপস্থিত আরো হামলাকারীরা হলেন, হাসান হাবিব মুরাদ (আইডি L-143022 সেমি: ৭ম) বিবিএ ৪র্থ সেমিস্টারের সাইফুজ্জামান (আইডি: B-161432), মুসলিম উদ্দিন মুকিত (বিবিএ ৮ম সেমি (আইডি: B-143396). হামলাকারী আরো ৮-৯ জনের পরিচয় এখনো জানতে পারা যায়নি।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি  হামেদ হাসান ইলাহী ও সেক্রেটারী ওয়ালী উল্লাহ। কমিটির দপ্তর সম্পাদকের সাক্ষরিত বিবৃতেতে বলা হয়, “দেশের প্রতিটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ যেখানে সরকার দলীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীন কোন্দল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি, মাদক, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নিজেদের উপগ্রুপে বিভক্ত নেতা কর্মীদের প্রকাশ্য অস্ত্রের নিচে চাপা পড়েছে। সেখানে নিরীহ শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করছে যা কখনো প্রত্যাশিত নয়।” এ ঘটনায় শিবির নেতৃবৃন্দ জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভুক্তভোগী মারাত্মকভাবে আহত।

আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরকর্মীকে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের মারধর

আপডেট সময় ০১:০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অগাস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের এক নেতাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  ভুক্তভোগী শিবিরি নেতা হলেন কুরআনিক সায়েন্সেস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের ৮ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. আলাউদ্দিন খান।

ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন এর সাথে থাকা সহপাঠী নাজমুল হাসান আমাদের সংবাদ প্রতিনিধিকে বলেন, “আলাউদ্দিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তৃতা রাখার পর একসাথে আমরা আমাদের আরেক সহপাঠি মো: সাখাওয়াত হোসেনের সাথে দেখা করতে যাই। সাক্ষাৎ শেষে হাঁটতে মসজিদের সামনে গেলে তারা মারধর করে।”

ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন আমাদের সংবাদদাতাকে জানান, “হঠাৎ করেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী তানভীর ও উচোঁ মারমা এসে আমাদের পথরোধ করে । আমরা কোন ডিপার্টমেন্টের একথা জিজ্ঞেস করেই আমাদের বলে চলেন চা খাবো। আমরা চা খাবোনা বলে চলে আসতে চাইলে তখন তানভীর আমাকে পিছন থেকে ঝাপটে ধরে এবং তার সাথে থাকা আরো কয়েকজন ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী তাকে জোর করে টেনে হিচড়ে গেইটের বাহিরে নিয়ে যায়। পরে ছাত্রলীগের ১৫ জন নেতাকর্মী তাকে এলোপাথাড়ি কিল- ঘুষি, লাথি মারতে থাকে । যার ফলে আমার গালে, হাতের কনুই, পায়ে ও পিঠের উপর মারাত্মকভাবে যখম হই। এমন অবস্থা প্রায় ১০ মিনিট চলে। ১০ মিনিট পর পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আবু বকর র : হলের প্রভোস্ট জনাব আ ফ ম নুরুজ্জামান স্যার এসে আমাকে পুলিশ থেকে উদ্ধার করে মেডিকেল সেন্টারে পাঠান।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মারার সময় উপস্থিত ৪-৫ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্ড বাধা দিতে আসলে তাদেরও ধাক্কা দিয়ে দূরে ঠেলে দেয় সন্ত্রাসীরা।

পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নাম ও পরিচয় জানা যায়। তানভীর ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী এবং তার আইডি : ET-123030. উচোঁ মারমা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৮ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী, তার আইডি : L-141050. সেখানে উপস্থিত আরো হামলাকারীরা হলেন, হাসান হাবিব মুরাদ (আইডি L-143022 সেমি: ৭ম) বিবিএ ৪র্থ সেমিস্টারের সাইফুজ্জামান (আইডি: B-161432), মুসলিম উদ্দিন মুকিত (বিবিএ ৮ম সেমি (আইডি: B-143396). হামলাকারী আরো ৮-৯ জনের পরিচয় এখনো জানতে পারা যায়নি।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি  হামেদ হাসান ইলাহী ও সেক্রেটারী ওয়ালী উল্লাহ। কমিটির দপ্তর সম্পাদকের সাক্ষরিত বিবৃতেতে বলা হয়, “দেশের প্রতিটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ যেখানে সরকার দলীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীন কোন্দল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি, মাদক, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও নিজেদের উপগ্রুপে বিভক্ত নেতা কর্মীদের প্রকাশ্য অস্ত্রের নিচে চাপা পড়েছে। সেখানে নিরীহ শিবির কর্মীদের ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করছে যা কখনো প্রত্যাশিত নয়।” এ ঘটনায় শিবির নেতৃবৃন্দ জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।