মানবিক ডা. কামরুলের হাসপাতালে
যুবদল নেতার পরিচয়ে চাঁদাবাজি, দ্রুত ছুটে গেলেন কেন্দ্রীয় নেতারা
- আপডেট সময় ০১:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৩ বার পড়া হয়েছে
বিনা পারিশ্রমিকে হাজারো কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি)’ হাসপাতালকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মঈন উদ্দিন মঈনের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি ও চাঁদা দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন দলটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা চিকিৎসককে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো ধরনের অন্যায় বা অনিয়মকে তারা প্রশ্রয় দেন না এবং তাদের নীতিগত অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
জানা গেছে, ঢাকার শ্যামলীতে ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি)’ হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন ডা. কামরুল ইসলাম। প্রায় ১৯ বছর ধরে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসছেন। তার অস্ত্রোপচারের সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে হাসপাতালটির ওপর নজর পড়ে মঈন উদ্দিন মঈনের। এরপর থেকেই তার নেতৃত্বে একটি চক্র নিয়মিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবির মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে আসছে। হাসপাতালের খাবার সরবরাহের টেন্ডার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মঈনের নেতৃত্বে চক্রটি নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ভয় দেখিয়ে আসছিল। দিন দিন এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শেরে বাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এবং বিষয়টি সেনাবাহিনীকে অবহিত করেন।
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম জানান, বিশেষ করে গত জুলাই-আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। কখনও সরাসরি হুমকি, আবার কখনও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শেরে বাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ এলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ভয় পাচ্ছে বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি জানাতে তিনি সেনাবাহিনীকেও অবহিত করার চেষ্টা করেন। পরে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে থানা পুলিশের সক্রিয়তা বাড়ানো হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এ ধরনের ঘটনার কারণে অনেক সময় হতাশা ও ভয়ের সৃষ্টি হয়, কারণ অপরাধীরা সংঘবদ্ধভাবে আসে। বিপুলসংখ্যক লোক একত্র হয়ে পরিস্থিতি জটিল করার চেষ্টা করে।
ঘটনার প্রমাণ হিসেবে একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হাসপাতালে প্রবেশ করে কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন এবং নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মঈন উদ্দিন মঈন। তার সহযোগী হিসেবে মাঈনুদ্দিন নামের আরেকজনের নামও উঠে এসেছে, যার বিরুদ্ধে খুন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে হাসপাতালে গিয়ে কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি বলেন, ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করেও সংবাদটি দেখার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছি আমি। মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা প্রদানই আমাদের কাছে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ, এবং এমন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়াতে পারা আমাদের দায়িত্বের অংশ।
চিকিৎসককে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে তারা সবসময় পাশে থাকবেন এবং কোনো ভয় পাওয়ার কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নীতিও এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর, ফলে ভবিষ্যতে কেউ দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না বলে আশা প্রকাশ করেন। কোনো ধরনের অন্যায় বা অনিয়মকে তারা প্রশ্রয় দেন না এবং তাদের নীতিগত অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরে বাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠকও হয়েছে।
তবে ওসির দাবি, পুলিশের কাছে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়নি; বরং হাসপাতালের এক কর্মীর সঙ্গে বিরোধকে কেন্দ্র করে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।


















