ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ববি উপাচার্যকে শিক্ষকদের ৫ দিনের আল্টিমেটাম

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩২ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অধ্যাপক পদে পদোন্নতি কার্যকর করা এবং অন্যান্য পদের পদোন্নতি বোর্ড গঠনের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ৫ কার্যদিবসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষকেরা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) উপাচার্যের দপ্তরে এক স্মারকলিপি প্রদান করে পদোন্নতি প্রাপ্য শিক্ষকবৃন্দ এ দাবি জানান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আজ তার ইতিহাসের এক গভীর সংকটময় সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। এই সংকট কেবল প্রশাসনিক জটিলতায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানসিক, পেশাগত এবং সামাজিক অস্তিত্বের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলছে। প্রতিটি শিক্ষক এক ধরনের অনিশ্চয়তা, হতাশা ও অদৃশ্য চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, যার প্রতিফলন তাদের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। যে শিক্ষক একসময় উদ্দীপনা ও প্রাণশক্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়াতেন, আজ তিনি ক্লান্ত, বিমর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়ছেন যা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতা।

এতে আরও বলা হয়, দুঃখজনকভাবে, প্রায় ৬০ জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে (কারো ২ বছর, কারো ১ বছর, কারো ৬ মাস) পদোন্নতির জন্য আবেদন করে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার কোনো সুস্পষ্ট সমাধান বা অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেন এই প্রতিষ্ঠানটি তার শিক্ষকদের প্রতি দায়িত্বশীল অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। একজন অভিভাবক থাকলে হয়তো এই দীর্ঘসূত্রতা ও অবহেলার অবসান ঘটিয়ে কার্যকর ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো।

এই অনিশ্চয়তা ও অবহেলার ফলে শিক্ষকরা কেবল পেশাগতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং সামাজিকভাবেও হেয় প্রতিপন্নের শিকার হচ্ছেন। প্রমোশন কোনো অনুগ্রহ বা দয়া নয়; এটি প্রত্যেক যোগ্য আবেদনকারীর ন্যায্য অধিকার। অথচ বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে, বারংবার আশ্বাস পেয়ে, প্রতিবারই শূন্য হাতে ফিরে আসার বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা শিক্ষকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এসময় তারা দুটি সুস্পষ্ট ও ন্যায়সংগত দাবি উপস্থাপন করে বলেন-
১. ২৪ জন এসোসিয়েট প্রফেসরের বোর্ড ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সিন্ডিকেট সভা না হওয়া এবং তাদের যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। এটি কেবল প্রশাসনিক বিলম্ব নয়, বরং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রতি এক ধরনের অবিচার। অতএব, আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. ৩৬ জন শিক্ষক যারা এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর থেকে এসোসিয়েট প্রফেসর এবং লেকচারার থেকে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে উন্নীত হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, তাদের বোর্ড আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে শুরু করতে হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পদোন্নতি নীতিমালা অনুসরণ করে সকল আবেদনকারীর জন্য সমান ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বোর্ড আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের বিভাজন বা বৈষম্যমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

এতে আরও বলা হয়, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সংকটের গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত, ন্যায়সংগত এবং মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তি তার শিক্ষকসমাজ এবং তাদের আস্থা, সম্মান ও মানসিক সুস্থতা রক্ষা করাই একটি সুশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রথম দায়িত্ব।

পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষকদের বাইরের শিক্ষকগণও চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, কেউই জানেন না তাদের ভাগ্যে কী আছে। তাই উল্লেখিত সমযের মধ্যে উদ্ভুত পরিস্থিতির আশু সুরাহার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি অন্যথায় শিক্ষকরা যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ববি উপাচার্যকে শিক্ষকদের ৫ দিনের আল্টিমেটাম

আপডেট সময় ০১:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অধ্যাপক পদে পদোন্নতি কার্যকর করা এবং অন্যান্য পদের পদোন্নতি বোর্ড গঠনের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ৫ কার্যদিবসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষকেরা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) উপাচার্যের দপ্তরে এক স্মারকলিপি প্রদান করে পদোন্নতি প্রাপ্য শিক্ষকবৃন্দ এ দাবি জানান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আজ তার ইতিহাসের এক গভীর সংকটময় সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। এই সংকট কেবল প্রশাসনিক জটিলতায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানসিক, পেশাগত এবং সামাজিক অস্তিত্বের ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলছে। প্রতিটি শিক্ষক এক ধরনের অনিশ্চয়তা, হতাশা ও অদৃশ্য চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, যার প্রতিফলন তাদের ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। যে শিক্ষক একসময় উদ্দীপনা ও প্রাণশক্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়াতেন, আজ তিনি ক্লান্ত, বিমর্ষ এবং আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়ছেন যা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতা।

এতে আরও বলা হয়, দুঃখজনকভাবে, প্রায় ৬০ জন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে (কারো ২ বছর, কারো ১ বছর, কারো ৬ মাস) পদোন্নতির জন্য আবেদন করে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার কোনো সুস্পষ্ট সমাধান বা অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেন এই প্রতিষ্ঠানটি তার শিক্ষকদের প্রতি দায়িত্বশীল অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। একজন অভিভাবক থাকলে হয়তো এই দীর্ঘসূত্রতা ও অবহেলার অবসান ঘটিয়ে কার্যকর ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো।

এই অনিশ্চয়তা ও অবহেলার ফলে শিক্ষকরা কেবল পেশাগতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং সামাজিকভাবেও হেয় প্রতিপন্নের শিকার হচ্ছেন। প্রমোশন কোনো অনুগ্রহ বা দয়া নয়; এটি প্রত্যেক যোগ্য আবেদনকারীর ন্যায্য অধিকার। অথচ বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে, বারংবার আশ্বাস পেয়ে, প্রতিবারই শূন্য হাতে ফিরে আসার বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা শিক্ষকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এসময় তারা দুটি সুস্পষ্ট ও ন্যায়সংগত দাবি উপস্থাপন করে বলেন-
১. ২৪ জন এসোসিয়েট প্রফেসরের বোর্ড ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সিন্ডিকেট সভা না হওয়া এবং তাদের যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। এটি কেবল প্রশাসনিক বিলম্ব নয়, বরং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রতি এক ধরনের অবিচার। অতএব, আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. ৩৬ জন শিক্ষক যারা এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর থেকে এসোসিয়েট প্রফেসর এবং লেকচারার থেকে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে উন্নীত হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, তাদের বোর্ড আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে শুরু করতে হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পদোন্নতি নীতিমালা অনুসরণ করে সকল আবেদনকারীর জন্য সমান ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বোর্ড আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের বিভাজন বা বৈষম্যমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

এতে আরও বলা হয়, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সংকটের গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত, ন্যায়সংগত এবং মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তি তার শিক্ষকসমাজ এবং তাদের আস্থা, সম্মান ও মানসিক সুস্থতা রক্ষা করাই একটি সুশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রথম দায়িত্ব।

পদোন্নতি বঞ্চিত শিক্ষকদের বাইরের শিক্ষকগণও চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, কেউই জানেন না তাদের ভাগ্যে কী আছে। তাই উল্লেখিত সমযের মধ্যে উদ্ভুত পরিস্থিতির আশু সুরাহার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি অন্যথায় শিক্ষকরা যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।