এএফইডির পর্যবেক্ষণ
বগুড়া-শেরপুরে ভোটগ্রহণ শেষের আগেই গণনা শুরু
- আপডেট সময় ০২:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / ২৯ বার পড়া হয়েছে
শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই গণনা শুরুর ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (এএফইডি) পর্যবেক্ষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও অধিকাংশ কেন্দ্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়, তবে কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে সরকারি সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই ব্যালট গণনা শুরু করা হয়।
শনিবার (১১ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলন করে এই পর্যবেক্ষণ তথ্য তুলে ধরা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই পর্যবেক্ষণে এএফইডি ৫৩ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করে। যার মধ্যে ৩০ জন ছিলেন বগুড়া-৬ আসনে এবং ২৩ জন শেরপুর-৩ আসনে।
সংবাদ সম্মেলনে এএফইডি’র মুখপাত্র হারুন-অর-রশিদ বলেন, ভোটাররা সাধারণভাবে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন। তবে ভোটকেন্দ্রের প্রবেশযোগ্যতা, প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলা এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া লক্ষ্য করেছি, যেখানে ভোটাররা অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি আনা গেলে নির্বাচনের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে শুরু হয় এবং ব্যালট বাক্স খালি দেখিয়ে সিল করা হয়। ভোটের গোপনীয়তাও বজায় ছিল। তবে ৩২ শতাংশ ভোটকেন্দ্র প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য যথাযথভাবে প্রবেশযোগ্য ছিল না।
ভোটের দিন ১০৩টি পর্যবেক্ষণের মধ্যে মাত্র তিনটিতে সারি ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা গেছে। তবে ১২ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটার পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া ১১ শতাংশ কেন্দ্রে প্রক্সি ভোটের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি কেন্দ্রে শারীরিক সহিংসতা বা ভয় প্রদর্শনের ঘটনাও লক্ষ্য করা হয়েছে।
এএফইডি জানায়, প্রায় ৪৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে প্রচারণার সামগ্রী দেখা গেছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী। ১২টি ক্ষেত্রে অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে এবং ১৫টি ক্ষেত্রে ভোটারদের ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রে ভোটারদের দলবদ্ধভাবে একই যানবাহনে আনা হয়েছে, যা সংগঠিত পরিবহনের ইঙ্গিত দেয়।
এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় কম ছিল। পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ ৬৪ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। অনেক কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ভোটার উপস্থিতি ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়।


















