প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি থামিয়ে হত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতার মুক্তি দাবি
- আপডেট সময় ০৯:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ৪০ বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গাড়িবহরের গতিরোধ করে হত্যা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে প্রধানমন্ত্রীর টাঙ্গাইলগামী গাড়িবহর ঘিরে ধরে দলীয় নেতাকর্মীরা তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
জানা গেছে, সকাল থেকেই টঙ্গীর বিআরটি প্রকল্পের উড়াল সড়কের স্টেশন রোড এলাকাসহ মহাসড়কের দুই পাশে ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান নেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন। একপর্যায়ে তারা গাড়িবহরের গতি কমিয়ে সামনে মানবপ্রাচীর তৈরি করে নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত জনতার ঢল ও স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নেতাকর্মীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা এই প্রবীণ রাজনীতিকের প্রতি ‘ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করতে হবে এবং অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে।
এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই নূরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিনা অপরাধে কারাবন্দি। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’
ঘটনাস্থলে বিএনপি নেতা ও নূরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহনূর ইসলাম রনিসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, টাঙ্গাইল সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই গাজীপুরজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মহাসড়কের টাঙ্গাইলমুখী পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দলীয় দাবি-দাওয়াও তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষায়িত বাসের সামনের আসনে বসে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, নূরুল ইসলাম সরকার ২৩ বছর ধরে একটি ‘বিতর্কিত ও সাজানো মামলায়’ কারাবন্দি আছেন, যা গাজীপুরবাসীর মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দিয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং তার মুক্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গী নোয়াগাঁও স্কুল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন আহসান উল্লাহ মাস্টার। এ ঘটনায় আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই মতিউর রহমান মতি বাদী হয়ে ১৭ জনের নামে টঙ্গী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারকে সরাসরি আসামি করা না হলেও এজাহারের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, ‘বর্ণিত আসামিরা বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের লালিত পালিত’।
এদিকে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল বিচারিক আদালত এই মামলায় বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল এবং সাতজনের মৃত্যুদণ্ড বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। রায়ে ১১ জনকে মামলা থেকে খালাস দেন উচ্চ আদালত। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসামিরা। যা বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।




















