পটুয়াখালীতে মৎস্যজীবী দল নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ
- আপডেট সময় ০৭:২১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৫ বার পড়া হয়েছে
পটুয়াখালীতে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মৎস্যজীবী দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের সদর থানা সংলগ্ন নিউমার্কেটে জেলা পুলিশের মালিকানাধীন মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে বলে আহত ব্যবসায়ী খোকন মল্লিক নিজেই জানিয়েছেন।
৪৪ বছর বয়সী খোকনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে মারধরের ঘটনায় অভিযোগের মুখে রয়েছেন-জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল গাজী (৪৫) ও সদর উপজেলার মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম (৩৮)।
ঘটনার বর্ণনায় খোকন মল্লিক বলেন, জেলা পুলিশ ক্লাব মার্কেটের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে মুরগি বিক্রি করেন তিনি। বাবুল গাজী ও শামীম এবং তাদের সহযোগীরা পয়লা বৈশাখ উদযাপনের কথা বলে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তিনি চাঁদা দিতে রাজি হননি। মঙ্গলবার তার মোবাইল ফোনে আবারও চাঁদা দাবি করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে তিনি মুরগির দোকানে ছিলেন।
এ সময় বাবুল ও শামীমসহ ১০ থেকে ১২ জন তার দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এলোপাতাড়ি কিলঘুষির পাশাপাশি বাবুল গাজী চাপাতি দিয়ে হাতে আঘাত করেন বলে খোকনের ভাষ্য।
তার অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা চাঁদার দাবিতে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বিকালে সদর থানা সংলগ্ন পৌর নিউমার্কেটে তার ওষুধের দোকানেও হামলা চালিয়েছিল। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে দলীয় কর্মসূচির নামে ও ব্যক্তিগত কাজে তার কাছ থেকে এ পর্যন্ত ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছে তারা।
খোকন মল্লিকের ভাষ্য, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতেন।
এদিকে সাংবাদিকরা জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল গাজীর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
বাবুলের ভাষ্য, খোকন মল্লিক স্বৈরাচারের দোসর এবং তিনি বাজারে মৃত মুরগি বিক্রি করেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করা হলে উল্টো তিনি তাদের ওপর চড়াও হন; যা থেকে সংঘর্ষ হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম বলছেন, “ইজারা নিয়ে দুই গ্রুপ হয়ে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। আমি ঘটনার সময় বিরোধ ছাড়াইতে গিয়েছি। চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। “আমরা বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য করি। একটু ঝামেলা হতেই পারে।”
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক এ কে এম শফিকুল ইসলাম শাহিন (ভিপি শাহিন) বলেন, “পহেলা বৈশাখের নামে কারও কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এ ধরনের কোনো কর্মসূচি দল ঘোষণা করেনি। আমার মনে হয় এখানে চাঁদার কোনো বিষয় নাই।”
তিনি বলেন, “খোকন মল্লিক আসলে একজন অসাধু ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে বাজারে মৃত মুরগি বিক্রির সময় প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েন। তাকে জরিমানাও করা হয়; যা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এছাড়াও তিনি ওজনে কম দেন। এ সব বিষয় নিয়েও হয়ত ঝামেলা হতে পারে।”
বিএনপির দলীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান শাহিন।
স্থানীয় মৎস্যজীবী দলের দুই নেতাসহ তাদের লোকজন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে আহত করেছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “উভয় পক্ষই পূর্ব পরিচিত। ইজারাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।”
তিনি বলেন,“ আহত ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


















