ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কুষ্টিয়ায় কথিত পীর হত্যা নিয়ে রাজনীতি

ছাত্রদল-যুবদলের নেতৃত্বে হামলা হলেও আসামী জামায়াত নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:৫২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীমের দরবার ভাঙচুর ও শামীমকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার কুষ্টিয়ার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ এ এই ঘটনা ঘটে। হামলায় শামীমের দুইজন অনুসারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। এতে সাবেক শিবির নেতা ও বর্তমান জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ, খেলাফত মজলিসের স্থানীয় আমির আসাদুজ্জামান, কাঠমিস্ত্রি রাজীব দফাদার ও মো. শিহাবকে আসামি করা হয়েছে। তবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে তাকে সহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন খাজা আহমেদ।

এছাড়া ঘটনার সময় স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাদের দেখা গেলেও তাদের আসামী করা হয়নি। পক্ষান্তরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও জামায়াত নেতাকে আসামী করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ১ নম্বর আসামী খাজা আহমেদ বলেন, ঘটনার দিন সকাল থেকে আমাকে কয়েকজন সেখানে যেতে বলেছে, আমি বিষয়টি আলোচনা বা প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান করতে বলেছি। এছাড়া আমি যখন জানতে পারি যে আবেদের ঘাট থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন মেম্বার ও তার ভাস্তেদের নেতৃত্বে একটি দল হামলা করার জন্য দরবারের দিকে যাচ্ছে, তখন প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য। এছাড়া শামীমের বড়ভাইয়ের সাথেও কথা বলি। এমনকি শামীমের উপর হামলা হওয়ার পর তার বড়ভাই আমাকে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে বললে আমি তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। কিন্তু ঘটনার সাথে বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে আসামী করা হয়েছে। এদিকে ভিডিওতে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাদের দেখা গেলেও তাদেরকে আসামী করা হয়নি। আমি সামনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি এজন্য প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানো চেষ্টা করছে।

ঘটনার দিন কয়েকটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে দরবার ভাঙচুর ও শামীমকে মারধর করার ভিডিও পোস্ট করা হয়। তবে শামীমের মৃত্যুর পরে কিছু ভিডিও সরিয়ে নেয়া হয়। এমন কিছু ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে যুবদল ক্যাডার মিঠুনকে টিউবয়েলের হাতল ও ছাত্রদলের ইউনিয়ন সেক্রেটারি মারুফকে চাকু হাতে নিয়ে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়। এছাড়া ছাত্রদল কর্মী জুবায়ের (লাঠি নিয়ে), ছাত্রদল ইউনিয়ন সভাপতি প্রার্থী বকুল ও যুবদলের নেতা মাছুদ রানাকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় ভিডিওতে। এমনকি মিডিয়াতেও কথা বলেন মাছুদ রানা। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন মেম্বার এর আপন ভাস্তে রাসেল ফেসবুকে লাইভ করে সবাইকে আহবান করে। পরে লাইভ ডিলিট দিয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া ছাত্রদল কর্মী মুইন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার জেলা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ সাফিকেও ভিডিওতে দেখা যায়। এছাড়া ছাত্রদল কর্মী জুবায়ের আহমেদ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হামলায় অংশ নিতে আহ্বান জানান।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত শামীমের বড়ভাই ফজলুর রহমানকে জোর করে মামলায় বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের আসামী করানো হয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, শামীম রেজা হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছে। তবে এখনও এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ায় কথিত পীর হত্যা নিয়ে রাজনীতি

ছাত্রদল-যুবদলের নেতৃত্বে হামলা হলেও আসামী জামায়াত নেতা

আপডেট সময় ০৭:৫২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীমের দরবার ভাঙচুর ও শামীমকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার কুষ্টিয়ার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ এ এই ঘটনা ঘটে। হামলায় শামীমের দুইজন অনুসারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের ভাই ফজলুর রহমান। এতে সাবেক শিবির নেতা ও বর্তমান জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ, খেলাফত মজলিসের স্থানীয় আমির আসাদুজ্জামান, কাঠমিস্ত্রি রাজীব দফাদার ও মো. শিহাবকে আসামি করা হয়েছে। তবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে তাকে সহ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন খাজা আহমেদ।

এছাড়া ঘটনার সময় স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাদের দেখা গেলেও তাদের আসামী করা হয়নি। পক্ষান্তরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও জামায়াত নেতাকে আসামী করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ১ নম্বর আসামী খাজা আহমেদ বলেন, ঘটনার দিন সকাল থেকে আমাকে কয়েকজন সেখানে যেতে বলেছে, আমি বিষয়টি আলোচনা বা প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধান করতে বলেছি। এছাড়া আমি যখন জানতে পারি যে আবেদের ঘাট থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন মেম্বার ও তার ভাস্তেদের নেতৃত্বে একটি দল হামলা করার জন্য দরবারের দিকে যাচ্ছে, তখন প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য। এছাড়া শামীমের বড়ভাইয়ের সাথেও কথা বলি। এমনকি শামীমের উপর হামলা হওয়ার পর তার বড়ভাই আমাকে ফোন করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে বললে আমি তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। কিন্তু ঘটনার সাথে বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে আসামী করা হয়েছে। এদিকে ভিডিওতে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাদের দেখা গেলেও তাদেরকে আসামী করা হয়নি। আমি সামনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি এজন্য প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানো চেষ্টা করছে।

ঘটনার দিন কয়েকটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে দরবার ভাঙচুর ও শামীমকে মারধর করার ভিডিও পোস্ট করা হয়। তবে শামীমের মৃত্যুর পরে কিছু ভিডিও সরিয়ে নেয়া হয়। এমন কিছু ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে যুবদল ক্যাডার মিঠুনকে টিউবয়েলের হাতল ও ছাত্রদলের ইউনিয়ন সেক্রেটারি মারুফকে চাকু হাতে নিয়ে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়। এছাড়া ছাত্রদল কর্মী জুবায়ের (লাঠি নিয়ে), ছাত্রদল ইউনিয়ন সভাপতি প্রার্থী বকুল ও যুবদলের নেতা মাছুদ রানাকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় ভিডিওতে। এমনকি মিডিয়াতেও কথা বলেন মাছুদ রানা। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন মেম্বার এর আপন ভাস্তে রাসেল ফেসবুকে লাইভ করে সবাইকে আহবান করে। পরে লাইভ ডিলিট দিয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া ছাত্রদল কর্মী মুইন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়ার জেলা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ সাফিকেও ভিডিওতে দেখা যায়। এছাড়া ছাত্রদল কর্মী জুবায়ের আহমেদ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হামলায় অংশ নিতে আহ্বান জানান।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত শামীমের বড়ভাই ফজলুর রহমানকে জোর করে মামলায় বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের আসামী করানো হয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, শামীম রেজা হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছে। তবে এখনও এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।