বাকি টাকা নিয়ে বিতণ্ডা, চবিতে দোকানিকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় ০১:৪৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৭ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের কলার ঝুপড়ি এলাকায় এক দোকানিকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দোকানি হামিদ মোহাম্মদ সুজন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) সাবেক শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী সুজন জানান, মাস কয়েক আগে জালাল সিদ্দিকীর নাম করে কেউ একজন তার দোকান থেকে ৩০ টাকা বাকি খেয়েছিলেন। বিষয়টি সুজন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়কে জানান। এর কিছুক্ষণ পর জালাল সিদ্দিকী ওই দোকানে গিয়ে সুজনের কাছে জানতে চান, কেন তার নামে বাকির কথা বলা হয়েছে। জবাবে সুজন বলেন, “আপনার নামে বাকি খাওয়া হয়েছে কিন্তু পরিশোধ করা হয়নি।” তখন জালাল বলেন, “আমার নামে কেউ বাকি খেলে আমাকে বলতেন।” এর পরিপ্রেক্ষিতে সুজন পাল্টা প্রশ্ন করেন, “ক্যাম্পাসে আরও অনেক জালাল আছে, আপনি একাই কি জালাল?”
এই কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে জালাল সিদ্দিকী দোকানি সুজনকে আক্রমণ করেন। ভুক্তভোগীর দাবি, জালাল তাকে খামচি দিয়ে গলা ধরার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে ধাক্কা দিলে দোকানের সামনের টেবিল উল্টে সুজনের গায়ের ওপর পড়ে। এতে তিনি ঠোঁটে আঘাত পান এবং দোকানের মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা জালাল সিদ্দিকী মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমার নামে বাকি খাওয়ার কথা সে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে সে তর্কাচ্ছলে বলে, ‘আপনি কি একাই জালাল নাকি?’ এই কথা শুনে মেজাজ হারিয়ে আমি তাকে ধাক্কা দিয়েছি। তবে মারধর বা দোকান ভাঙচুর করিনি। পরে আমি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “দোকানি আমাদের বলেছিলেন যে নেতাকর্মীরা খাবার খেয়ে টাকা দেয় না। আমি তাকে আশ্বস্ত করেছিলাম যে আমরা বিষয়টি দেখব। কিন্তু আমি চলে যাওয়ার পরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, “ঘটনাটি আমরা শুনেছি। সত্যতা যাচাই করে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের সংগঠন অতীতে এমন কাজ করেনি এবং ভবিষ্যতেও এসব বরদাশত করা হবে না।”





















