ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৩:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে

বৈষম্য দূর করতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল ও উন্নত ল্যাবসহ অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা রাজধানীকেন্দ্রিক। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসকরাই তাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠেন। একজন ডাক্তারের পরামর্শ ও মানবিক আচরণ অনেক সময় রোগীর জন্য ওষুধের মতো কাজ করে। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি চিকিৎসকদের মানবিক গুণাবলি অর্জন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য তাদের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে— এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক মানুষ চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। আমি সেখানে অবস্থানকালে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। ব্রিটেন বাংলাদেশের তুলনায় অনেক ধনী রাষ্ট্র হলেও, সেখানেও সরকার এ স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে একটি বইয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আবর্জনা পড়ে থাকার একটি ছবি দেখার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় বড় ধরনের সম্পদের প্রয়োজন নেই; বরং প্রয়োজন আন্তরিকতা ও মানসিকতার পরিবর্তন। বিদ্যমান সম্পদ দিয়েই পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব। মানুষ যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিষ্কার থাকার অভ্যাস গড়ে তোলে, তাহলে পরিবেশও স্বাভাবিকভাবেই পরিষ্কার থাকবে।

বগুড়াতে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের স্মৃতি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বগুড়াতে একটি পোগ্রামে আমি কয়েকদিন আগেই চলে গিয়েছিলাম। যেহেতু আমার নিজের জেলা। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতাকর্মীরা আসবে সেখানে তো ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমরা সমাবেশের জন্য একটা স্কুল মাঠ নিয়েছিলাম। সেখানে নেতাকর্মীদের অজু গোসলের জন্য একটা ব্যবস্থা রেখে মাঠের যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য বালির ওপর ইট দিয়েছিলাম। যাদের কে এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলাম সকালে তাদের নির্দেশনা দিয়ে আমি অন্য কাজে চলে যাই। রাতে এসে দেখি ইট ইটের জায়গাতেই আছে। আমি বললাম বিছানো হলো না কেন? তখন আমাকে বললো লেবার যারা আসার কথা ছিলো আসেনি। তখন আমি নিজেই ইটের স্তূপ থেকে ইট নিয়ে বিছানো শুরু করি। তখন সব নেতাকর্মী ইট নিয়ে বিছানো শুরু করলো। এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে পুরো কাজটা কমপ্লিট হয়ে গেল।

সাম্প্রতিক সময়ে গৃহপরিচারিকা ফাতেমার আত্মীয়ের অসুস্থতার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফাতেমা আম্মার সঙ্গে জেলেও ছিলেন। দু-দিন আগে তার এক আত্মীয় অসুস্থতায় হাসপাতালে ছিল। তাকে ঢাকায় রেফার করা হচ্ছে। আমি বাসায় যাওয়ার পর আমার স্ত্রীর কাছে শুনলাম সামান্য বেসিক জিনিসটাও সেখানে দেওয়া হচ্ছে না, ঢাকায় সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ফাতেমা আমার স্ত্রীকে বলেছেন, স্বাভাবিকভাবে তার আত্মীয়ের বেটার চিকিৎসা হয়েছে। কিন্তু সবাই তো আর ফাতেমা না, সবাই ফাতেমার আত্মীয় না। একটা মেশিন ছিল না সেখানে একটা মেশিন পাঠানো হয়েছে। এখন অনেক শিশু বেটার চিকিৎসা পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৩০:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বৈষম্য দূর করতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল ও উন্নত ল্যাবসহ অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা রাজধানীকেন্দ্রিক। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ অসুস্থ হলে চিকিৎসকরাই তাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে ওঠেন। একজন ডাক্তারের পরামর্শ ও মানবিক আচরণ অনেক সময় রোগীর জন্য ওষুধের মতো কাজ করে। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি চিকিৎসকদের মানবিক গুণাবলি অর্জন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য তাদের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে— এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক মানুষ চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। আমি সেখানে অবস্থানকালে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। ব্রিটেন বাংলাদেশের তুলনায় অনেক ধনী রাষ্ট্র হলেও, সেখানেও সরকার এ স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে একটি বইয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আবর্জনা পড়ে থাকার একটি ছবি দেখার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় বড় ধরনের সম্পদের প্রয়োজন নেই; বরং প্রয়োজন আন্তরিকতা ও মানসিকতার পরিবর্তন। বিদ্যমান সম্পদ দিয়েই পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব। মানুষ যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিষ্কার থাকার অভ্যাস গড়ে তোলে, তাহলে পরিবেশও স্বাভাবিকভাবেই পরিষ্কার থাকবে।

বগুড়াতে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের স্মৃতি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বগুড়াতে একটি পোগ্রামে আমি কয়েকদিন আগেই চলে গিয়েছিলাম। যেহেতু আমার নিজের জেলা। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতাকর্মীরা আসবে সেখানে তো ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমরা সমাবেশের জন্য একটা স্কুল মাঠ নিয়েছিলাম। সেখানে নেতাকর্মীদের অজু গোসলের জন্য একটা ব্যবস্থা রেখে মাঠের যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য বালির ওপর ইট দিয়েছিলাম। যাদের কে এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলাম সকালে তাদের নির্দেশনা দিয়ে আমি অন্য কাজে চলে যাই। রাতে এসে দেখি ইট ইটের জায়গাতেই আছে। আমি বললাম বিছানো হলো না কেন? তখন আমাকে বললো লেবার যারা আসার কথা ছিলো আসেনি। তখন আমি নিজেই ইটের স্তূপ থেকে ইট নিয়ে বিছানো শুরু করি। তখন সব নেতাকর্মী ইট নিয়ে বিছানো শুরু করলো। এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে পুরো কাজটা কমপ্লিট হয়ে গেল।

সাম্প্রতিক সময়ে গৃহপরিচারিকা ফাতেমার আত্মীয়ের অসুস্থতার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফাতেমা আম্মার সঙ্গে জেলেও ছিলেন। দু-দিন আগে তার এক আত্মীয় অসুস্থতায় হাসপাতালে ছিল। তাকে ঢাকায় রেফার করা হচ্ছে। আমি বাসায় যাওয়ার পর আমার স্ত্রীর কাছে শুনলাম সামান্য বেসিক জিনিসটাও সেখানে দেওয়া হচ্ছে না, ঢাকায় সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ফাতেমা আমার স্ত্রীকে বলেছেন, স্বাভাবিকভাবে তার আত্মীয়ের বেটার চিকিৎসা হয়েছে। কিন্তু সবাই তো আর ফাতেমা না, সবাই ফাতেমার আত্মীয় না। একটা মেশিন ছিল না সেখানে একটা মেশিন পাঠানো হয়েছে। এখন অনেক শিশু বেটার চিকিৎসা পাবে।