চট্টগ্রামে মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির চার নেতা-কর্মী আটক
- আপডেট সময় ০৩:৫৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার লালদীঘি ময়দান এলাকায় ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলিখেলা মেলা ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির চার নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে তাদের আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, দেওয়ান বাজার ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফাহিম, একই ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. তুহিন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত তৌহিদ এবং সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেত্রীর ভাগনে অনিক।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ-সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, আটক চারজন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওরা দোকান দিয়েছিল, সেই টাকা তুলতে গিয়েছিল। তবে কেউ চাঁদাবাজি করলে প্রমাণ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমি কোনো চাঁদাবাজের পক্ষে নই।
পুলিশ সূত্র জানায়, মেলা চলাকালে দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তাদের নজরদারিতে রাখা হয়। পরে শুক্রবার বিকেলে চাঁদাবাজির সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
তবে ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজনের দাবি, আটক হওয়ার পর প্রথমে পুলিশ বিষয়টি স্বীকার করেনি। পরে রাত ১১টার দিকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, আটক ব্যক্তিরা বর্তমানে থানায় রয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার সময় মেলা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। কোতোয়ালী থানার এসআই আবুল হোসেন ঘটনাস্থলে থেকে তাদের আটক করেন। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ডিউটিরত অবস্থায় ছিলাম, তবে আমার কাছ থেকে না নিয়ে মন্তব্য আমাদের ইনচার্জ খালেদ সাহেবের কাছ থেকে নিন।
বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খালেদ হাসান তন্ময় বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় আনা হয়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।
চট্টগ্রামে জব্বারের বলিখেলা মেলা প্রতি বছরই হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটায়। তবে মেলাকে ঘিরে চাঁদাবাজি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে।



















