দেশে ‘জঙ্গি আছে’ বললেন উপদেষ্টা জাহেদ, অস্বীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০৩:৫২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
- / ৩৪ বার পড়া হয়েছে
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ‘উগ্রবাদী সংগঠনের’ হামলার বিষয়ে পুলিশের সতর্কতার মধ্যে দেশে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জঙ্গি রয়েছে; এই তৎপরতা ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনার চেষ্টা করবে সরকার। তবে দুজনই মনে করেন, বিষয়টিকে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন।
তখন এক সাংবাদিক বলেন, “দেশে জঙ্গি উত্থানের বিষয় জানা যাচ্ছে এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তাও বাড়ানো হচ্ছে। তো এই বিষয়টি আপনারা…।”
তার কথার সূত্র ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি আপনাদের প্রশ্নগুলো বুঝতে পেরেছি, কিন্তু আমি ওই শব্দকে রিকগনাইজ করি না। আমাদের দেশে এরকম কোনো তৎপরতা নেই। কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ থাকে—পৃথিবীর সব দেশেই এরকম অ্যাক্টিভ থাকে।
“র্যাডিক্যাল কিছু ফোর্স থাকে, ফান্ডামেন্টাল কিছু পলিটিক্যাল পার্টি থাকে—এগুলো আমরা ইউজড টু, এগুলো থাকে। কিন্তু সে বিষয়ে আপনি যে শব্দ উচ্চারণ করলেন, আমাদের দেশের বর্তমান কালচারে সেটা এখন আর নাই-ই।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আগে সেই শব্দটা উচ্চারিত হতো ফ্যাসিবাদী আমলের সময়; তারা নিজস্ব রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমানে বাংলাদেশে সেগুলোর এক্সিস্টেন্স নেই।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই বলে দাবি করা হচ্ছিল। দেড় দশকে শত শত গুমের অভিযোগ অনুসন্ধানে গঠিত গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন তখন বলেছিল, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের ছায়ায় ইসলামী উগ্রবাদের হুমকিকে ব্যবহার করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার গুমকে ‘একটি সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ’ দিয়েছিল।
তবে সন্ত্রাসবাদের হুমকি যে মিথ্যে নয়, সে কথা স্বীকার করে কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম গত ১৯ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, “সন্ত্রাসবাদ সারা বিশ্বে একটি বাস্তব হুমকি, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজানে হামলার মত ঘটনা এর প্রমাণ।
“তবে এই হুমকি মোকাবেলায় রাষ্ট্রের সততা, মানবাধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় অটল থাকা জরুরি। সরকার সন্ত্রাসবিরোধী প্রচারণাকে যখন রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তখন তা আইনের শাসন, প্রতিষ্ঠান ও জনগণের বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়।”
পুলিশ সদর দপ্তর গত বৃহস্পতিবার এক সতর্কবার্তায় জানায়, ‘নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা’ জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। এরপর দেশের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সেখানে এক সাংবাদিক জানতে চান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ‘জঙ্গি হামলার’ আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেছিলেন, ‘দেশে আসলে জঙ্গি নেই’। জঙ্গি আছে কি না—এ সরকার কি মনে করে এবং নাশকতা যদি হয়, সরকারের গোয়েন্দাদের কাছে কী ধরনের তথ্য আছে? কতখানি শঙ্কা রয়েছে সরকারের কাছে? মানে কতখানি ‘ম্যাসাকার’ হতে পারে?
জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, “প্রথম কথা হচ্ছে—সরকারের কাছে কতখানি তথ্য আছে, এটা বলা যাবে না। এটা একটা সেনসিটিভ তথ্য। এ তথ্যটা গোপন থাকবে। কিন্তু যেটুকু তথ্য সরকার জানিয়েছে- এটা ফ্যাক্ট; বাংলাদেশে জঙ্গি আছে। কিন্তু এখানে দুটো এক্সট্রিম আছে। আমি দুটো এক্সট্রিমের কথা বলি।
“আগের সরকারের সময়, মানে আমি ইন্টেরিমের কথা বলছি না, তার আগের সরকারের (আওয়ামী লীগ) সময় জঙ্গি সমস্যাকে যেই স্কেলে দেখানো হয়েছে, এটা তাদের ক্ষমতায় থাকার একটা ন্যারেটিভ হিসেবে তারা ব্যবহার করেছিলেন যে ‘বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, জঙ্গিরা সব দখল করবে; সুতরাং আমি নির্বাচন করলাম কি না দেখার দরকার নেই, আমাকে ক্ষমতায় রাখো’। দ্যাট ওয়াজ আ ন্যারেটিভ।”
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “এটা একজাজারেটেড (অতিরঞ্জিত) হয়েছিল ওই সরকারের সময়। পরবর্তীতে যে সরকারের সময় ইন্টারিমের সময় এই আলাপ কেউ কেউ করার চেষ্টা করেছে যে বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই, এটাও আরেকটা এক্সট্রিম। এটাও ভুল কথা।
“বাংলাদেশে একটা পর্যায়ে মিলিটেন্সি- জঙ্গিবাদ ছিল, আছে। সেটাকে আমরা আসলে কমব্যাট করতে চাই। এই সতর্কতার মানে হচ্ছে এটা খানিকটা ঝুঁকি তৈরি করেছে, কারণ দেড় বছর ইন্টারিম সরকারের সময় আমরা খেয়াল করেছি এই প্রবণতার মানুষদের অনেক বেশি সংগঠিত হওয়া বা পাবলিকলি আসা বা ওপেনলি আসার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল।
“সেটারই খানিকটা ইমপ্যাক্ট আমরা বলতে পারি; এই সরকার এগুলো কমব্যাট করবে। জনগণকে এটুকু বলতে চাই—এই ঝুঁকি এমন নয় যে এটার জন্য ভয় পেতে হবে। কিন্তু সেই পুরনো কথা, আমরা যদি কোনো একটা সংকটকে বা ডিজিজকে স্বীকার না করি, ওটার চিকিৎসা হবে না। সো ইটস দেয়ার, আমরা এটাকে একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করব।”
তখন সাংবাদিক জানতে চান, ৫ অগাস্টের পরে দেখা গেছে, জেল থেকে অনেক কয়েদি বেরিয়ে গেছেন, অনেক জঙ্গিরাও বেরিয়ে গেছে। তারা কি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংগঠিত হয়েছে?
জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, “কিছু মানুষ বেরিয়েছিলেন। এখন সরকারের নিয়মিত কাজ… এটা একদম নিয়মিত কর্মকাণ্ডের বা কাজের পার্ট যে, সরকার এগুলো কমব্যাট করবে।
“কারণ বাংলাদেশে এই ধরনের একটা প্রবণতা এভাবে আমরা যদি চিন্তা করি এটা সরকারের জন্য কোনো কমফোর্টেবল ব্যাপার না। জনগণের জন্য তো নাই-ই।”




















