নির্মাণের ৭ বছর পরও চালু হয়নি রংপুরের শিশু হাসপাতাল
- আপডেট সময় ০৪:৫২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার ৭ বছর পার হলেও আজও আলোর মুখ দেখেনি রংপুরের ১০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল। ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক হাসপাতালটি প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এটি দ্রুত চালুর নির্দেশনা দেয়া হলেও দাপ্তরিক চিঠি চালাচালির বাইরে দৃশ্যত কোনও অগ্রগতি নেই।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে রংপুর নগরীর সাবেক সদর হাসপাতাল এলাকায় সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংলগ্ন এই হাসপাতাল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য ডরমেটরি ভবনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা এখানে রাখা হয়েছে। ২০২১ সালে করোনা মহামারি চলাকালীন এটি সাময়িকভাবে ‘করোনা ডেডিকেটেড স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সে সময় ১৫ শয্যার আইসিইউসহ মোট ৩০টি শয্যা চালু ছিল। মহামারির পর গত ৪ বছর ধরে হাসপাতালটি আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আধুনিক ভবনটি এখন জনশূন্য। আইসিইউ ইউনিটে থাকা কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর পড়ে থাকায় সেগুলো বিকল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটি হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নতা-কর্মীসহ বিপুল জনবল প্রয়োজন। এখন সব প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করলেও হাসপাতালটি পুরোপুরি সচল করতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় চাহিদা জানতে চাওয়া হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘সরকারপ্রধানের নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি ফরমেট পাঠানো হয়েছিল। আমরা গত সোমবার সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও চাহিদা পূরণ করে পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।’
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, মেডিকেল কলেজের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় এক বিছানায় দুই-তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডের তীব্র সংকট রয়েছে। ১০০ শয্যার এই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের শিশুদের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হতো।



















