ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীর হাতে প্রাণ গেল মায়ের
- আপডেট সময় ০১:০৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের উখিয়ায় হামলার সময় নিজের সন্তানের উপস্থিতি দেখার পর তাকে বাঁচাতে যাওয়া এক মাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
শনিবার (১৬ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলা সদরের টাইপালং এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বিএনপি সমর্থকের পোস্ট ও এতে হা-হা রিয়েক্টকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনায় ঘটে। নিহত সৈয়দা খাতুন (৫০) ওই এলাকার বাসিন্দা সব্বির আহমেদের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, ‘জয় বাংলা’ গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই এলাকায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। প্রায় এক সপ্তাহ আগে টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে লেখা একটি ‘জয় বাংলা’ গ্রাফিতি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে।
শনিবার রাতে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জিসানের একটি ফেসবুক পোস্টে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনুস নামের এক যুবক ‘হা হা’ রিয়েক্ট দিলে তা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে একদল যুবক ইউনুসকে ধরে এনে মারধর শুরু করে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার বাল্যবন্ধু নিহত সৈয়দা খাতুনের ছেলে আব্দুর রহমান প্রকাশ ইমরান।
এ বিষয়ে নিহতের ছেলে আব্দুর রহমান প্রকাশ ইমরান বলেন, আমি আর আমার বন্ধু ইউনুস স্টেশনের একটি দোকানে বসে ছিলাম। সেখানে আমার বন্ধু ইউনুসকে হামলার উদ্দেশ্যে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম ও তার ছেলে আকাশ, বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার, শ্রমিকদল নেতা সাইফুল সিকদারসহ ১০/১২ জন উপস্থিত হয়। তারা আমার বন্ধুকে বেধড়ক মারধর করে। আমি সেখান সরে গিয়েছি। একপর্যায়ে আমার মা আমাকে রক্ষা করার জন্য সেখানে গেলে তারা আমার মাকে মারধর করে। ঘটানাস্থলেই তার প্রাণ যায়।
ইমরান আরও বলেন, তারা ওই মামলায় আমাকেও আসামী করেছে। আমার মাকে যারা মেরেছে, আমি তাদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রলীগ ট্যাগধারী কাউকে আটক করা হয়নি। গতকাল ওই এলাকার লোকজন একজন কে আটক রেখে ডিউটি অফিসারকে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে একজনকে হেফাজতে নেয়। আর মহিলা একজন মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মহিলা একজনের মৃত্যু হয়েছে এমন খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবুও অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে টাইপালংয়ের একটি মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে থানায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে ওই এলাকার দুটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আসছিলেন।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ আরও ১০/১১ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগটি করেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম।
স্থানীয় এলাকার ইউপি সদস্য আবদুর রহিম বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা ইউনুসকে হামলা করার জন্য সেখানে গেলে আবদুর রহমানও সেখানে উপস্থিত থাকে। তার এক পর্যায়ে হামলাকারীরা আবদুর রহমানের মায়ের ওপরও হামলা করে। তখন তার মা মারা যায়।
অন্যদিকে ঘটনার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতা মিজান সিকদার ও তার ছেলে জিসান সিকদার দাবি করেন তারা ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না।
মিজান সিকদার বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ছিলাম। আমার বাবাকেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত ফাঁসানো হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, এলাকার একটি মাদ্রাসায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দেয়াল লিখন নিয়ে স্থানীয় বিএনপি সমর্থক আকাশ ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে হা-হা রিয়েক্ট দেন স্থানীয় এক যুবক, আকাশ কারণ জানতে চাইলে সে যুবক দাবি করেন, তিনি নয় তার স্ত্রী ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করেন।
এসপি আরও বলেন, এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে ওই যুবকের দুঃসম্পর্কের খালা সৈয়দা খাতুন আহত হন। একই সময়ে সে যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং হাসপাতালে সৈয়দা খাতুনকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।



















