ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ উত্তরের মানুষের মরণফাঁদ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০১:১৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিে এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি রোববার রাত থেকে বাড়তে শুরু করে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া কন্ট্রোল রুম ইনচাজ নুরুল ইসলাম জানান, সোমবার তিস্তায় পানি বেড়েছে, তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিস্তা নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা কাচুয়া শেখ বলেন, টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ছে । তিনি বলেন, ‘আমরা তিস্তাপারের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। কারণ ভারতে বন্যা হলেই সেই পানি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন গজলডোবা ব্যারাজ দিয়ে ছেড়ে দিয়ে আমাদের ভাসিয়ে দেয়।’

তিস্তা ব্যারাজ এলাকার সাবেক স্কুলশিক্ষক আকবর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জন্য বড় মরণফাঁদ হচ্ছে গজলডোবা বাঁধ। তিস্তা নদীর গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে ফারাক্কার মতো মরণফাঁদ সৃষ্টি বাংলাদেশের প্রতি সম্প্রসারণবাদী আধিপত্যবাদী উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতের অন্যায় আচরণের আরেক বেদনাদায়ক দৃষ্টান্ত। অর্থ্যাৎ, যখন পানি দরকার তখন গজলডোবা ব্যারাজের ৫৪টি গেটের সবগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর বর্ষা মৌসুমে যখন পানির কোনো প্রয়োজন নেই, তখন তাদের নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে দিয়ে তিস্তাপারের মানুষকে ভাসিয়ে দেয়।

তিস্তা নদীপারের প্রধান জেলা লালমনিরহাট, নিলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার লাখ লাখ মানুষ এখন বন্যার আতঙ্কে ভুগছেন।

তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে । তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গজলডোবা বাঁধ তিস্তা নদীর উজানে ভারতীয় অংশে। গজলডোবা বাঁধের (ব্যারাজ) মাধ্যমে তিস্তা নদীর নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে । এই বাঁধের গেট রয়েছে ৫৪টি, যা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ উত্তরের মানুষের মরণফাঁদ

আপডেট সময় ০১:১৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিে এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি রোববার রাত থেকে বাড়তে শুরু করে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া কন্ট্রোল রুম ইনচাজ নুরুল ইসলাম জানান, সোমবার তিস্তায় পানি বেড়েছে, তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিস্তা নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা কাচুয়া শেখ বলেন, টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি বাড়ছে । তিনি বলেন, ‘আমরা তিস্তাপারের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। কারণ ভারতে বন্যা হলেই সেই পানি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন গজলডোবা ব্যারাজ দিয়ে ছেড়ে দিয়ে আমাদের ভাসিয়ে দেয়।’

তিস্তা ব্যারাজ এলাকার সাবেক স্কুলশিক্ষক আকবর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জন্য বড় মরণফাঁদ হচ্ছে গজলডোবা বাঁধ। তিস্তা নদীর গজলডোবায় বাঁধ দিয়ে ফারাক্কার মতো মরণফাঁদ সৃষ্টি বাংলাদেশের প্রতি সম্প্রসারণবাদী আধিপত্যবাদী উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারতের অন্যায় আচরণের আরেক বেদনাদায়ক দৃষ্টান্ত। অর্থ্যাৎ, যখন পানি দরকার তখন গজলডোবা ব্যারাজের ৫৪টি গেটের সবগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর বর্ষা মৌসুমে যখন পানির কোনো প্রয়োজন নেই, তখন তাদের নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে দিয়ে তিস্তাপারের মানুষকে ভাসিয়ে দেয়।

তিস্তা নদীপারের প্রধান জেলা লালমনিরহাট, নিলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার লাখ লাখ মানুষ এখন বন্যার আতঙ্কে ভুগছেন।

তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে । তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গজলডোবা বাঁধ তিস্তা নদীর উজানে ভারতীয় অংশে। গজলডোবা বাঁধের (ব্যারাজ) মাধ্যমে তিস্তা নদীর নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে । এই বাঁধের গেট রয়েছে ৫৪টি, যা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।