শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে অব্যাহতি
- আপডেট সময় ০১:০৮:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / ২৯ বার পড়া হয়েছে
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পর অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার।
অভিযুক্তের নাম মোহন তালুকদার (২৫)। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মোহনগঞ্জ পৌর শাখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম (মানিক) এবং সদস্য সচিব নাজমুল হুদা খান পাঠানের (বাবু) স্বাক্ষর রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মোহনগঞ্জ পৌর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোহন তালুকদারকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগে মোহনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং স্থানীয়ভাবে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল।
মামলার এজাহার, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে তার মা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। মামলায় শিশুটিকে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাড়ির বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে ভয়ে শিশুটি দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখে। বর্তমানে মেয়েটি প্রায় সাড়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটির শারীরিক অসুস্থতা ও শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাকে পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।
শিশুটির মা জানান, আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। পরে ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোর্ট আসে। ওই দিনই আইনি পদক্ষেপ নিতে তারা মোহনগঞ্জ থানায় যান। তবে পুলিশ তাদের আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দিনমজুরের কাম করে। আমি মানুষের বাসায় কাম করে সংসার চালাই। আমার মেয়েটা ছোট মানুষ, কিছুই বোঝে না। তার জীবনটা নষ্ট করে দেওয়া হইছে। মামলা করছি, কিন্তু আসামি এখনো ধরা পড়ে না। আমার মেয়ের যে সর্বনাশ করছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, এজাহারে উল্লেখিত আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বাদী পক্ষ থানায় আসেনি, তারা আদালতে মামলা করেছে। তাদের জিজ্ঞাসা করলে জানিয়েছে, তারা না বুঝতে পেরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। অথচ প্রথমে পুলিশের কাছে এলে সহজেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতো।’
পরে একই বিষয়ে ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মোহন তালুকদার পলাতক রয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।




















