ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন হামলার জবাবে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত ইরানের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব দিতে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে ইরান। এই পরিকল্পনার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে টার্গেট করা হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘কঠোরভাবে’ আঘাত হানবে। তবে একই সঙ্গে এমনও খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, সম্ভাব্য এই হামলা শেষ মুহূর্তে স্থগিতও হতে পারে। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র সম্ভাব্য হামলা হবে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব হামলা ইসরাইলি পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যেই হচ্ছে। আল-মুঘাইয়ির এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে ১০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু আহত হয়েছে। একই সময়ে বেইত ফাজ্জার এলাকায় অভিযানের সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি কিশোর আহত হয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘সমঝোতা’ রয়েছে। তার দাবি, এ বিষয়ে ইসরাইল ‘খুবই ইতিবাচক ভূমিকা’ পালন করেছে।

ওদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচল প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ২২টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও বৃহস্পতিবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র পাঁচটিতে। অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে মঙ্গলবার ৪১টি, বুধবার ৩৯টি এবং বৃহস্পতিবার ৪৭টি জাহাজ চলাচল করেছে। কেপলার জানিয়েছে, এই তথ্য অঞ্চলটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈসাদৃশ্য তুলে ধরছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এখনো পরস্পরবিরোধী থাকায় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জাহাজ চলাচলের পরিমাণ, বিকল্প রুট এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, এগুলো আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক নৌপথের ঝুঁকির চিত্র বদলে দিতে পারে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার এক সাংবাদিক জানান, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন এক সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রয়োজনে অন্য সামুদ্রিক পথও বন্ধ বা কার্যত অচল করে দেয়া হতে পারে। যদিও ইরান অন্য কোনো প্রণালির নাম উল্লেখ করেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং আডেন উপসাগর এর মধ্যে থাকতে পারে। কারণ, এই অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুতিদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।

ইরানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ চালিয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে মার্কিন ভোটারদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের ইঙ্গিত, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দামেও পড়বে। তেহরান এভাবে একটি নতুন প্রতিরোধমূলক সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন হামলার জবাবে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত ইরানের

আপডেট সময় ০৭:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব দিতে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে ইরান। এই পরিকল্পনার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে টার্গেট করা হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘কঠোরভাবে’ আঘাত হানবে। তবে একই সঙ্গে এমনও খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, সম্ভাব্য এই হামলা শেষ মুহূর্তে স্থগিতও হতে পারে। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র সম্ভাব্য হামলা হবে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব হামলা ইসরাইলি পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যেই হচ্ছে। আল-মুঘাইয়ির এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে ১০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিশু আহত হয়েছে। একই সময়ে বেইত ফাজ্জার এলাকায় অভিযানের সময় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি কিশোর আহত হয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘সমঝোতা’ রয়েছে। তার দাবি, এ বিষয়ে ইসরাইল ‘খুবই ইতিবাচক ভূমিকা’ পালন করেছে।

ওদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচল প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ২২টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও বৃহস্পতিবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র পাঁচটিতে। অর্থাৎ প্রায় ৭৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে মঙ্গলবার ৪১টি, বুধবার ৩৯টি এবং বৃহস্পতিবার ৪৭টি জাহাজ চলাচল করেছে। কেপলার জানিয়েছে, এই তথ্য অঞ্চলটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈসাদৃশ্য তুলে ধরছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এখনো পরস্পরবিরোধী থাকায় জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জাহাজ চলাচলের পরিমাণ, বিকল্প রুট এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, এগুলো আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক নৌপথের ঝুঁকির চিত্র বদলে দিতে পারে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার এক সাংবাদিক জানান, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন এক সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রয়োজনে অন্য সামুদ্রিক পথও বন্ধ বা কার্যত অচল করে দেয়া হতে পারে। যদিও ইরান অন্য কোনো প্রণালির নাম উল্লেখ করেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং আডেন উপসাগর এর মধ্যে থাকতে পারে। কারণ, এই অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুতিদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।

ইরানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ চালিয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে মার্কিন ভোটারদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের ইঙ্গিত, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দামেও পড়বে। তেহরান এভাবে একটি নতুন প্রতিরোধমূলক সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।