‘গাজা গণহত্যা’র কারিগর ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে সৌদিসহ ৭ আরব দেশ
- আপডেট সময় ০৫:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে
গাজায় ফিলিস্তিনিদের গণহত্যার অন্যতম কারিগর ইসরায়েলি সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদিসহ ৭ আরব দেশের সেনাপ্রধানরা।। ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেয়া আরব দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিশর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে একটি নির্জন স্কি রিসোর্টে গোপনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বৈঠকটির আয়োজন করেন। অ্যাক্সিওসকে সেন্টকমও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করার পর এটিই এ ধরনের প্রথম বৈঠক। এর আগেও এসব দেশের কর্মকর্তারা একই ধরনের বৈঠক করেছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট আরব দেশগুলোর কয়েকটির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব ও কাতার। ইসরায়েলের কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক কাতারকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।
বৈঠকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান ইয়াল জামির বিভিন্ন ফ্রন্টে আইডিএফের অভিযান সম্পর্কে অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বৈঠকে ব্র্যাড কুপার কর্মকর্তাদের জানান, ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলো আক্রান্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
কুপার হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নৌ চলাচল বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার কথাও জানান। ইরান জলপথটি অবরোধ এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজে হামলা শুরুর আগে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
অ্যাক্সিওসকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, জার্মানিতে নির্ধারিত একটি সম্মেলনের সময় আটটি দেশের জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের আতিথ্য দিয়েছে তারা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সামরিক নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র অ্যাক্সিওসকে বলেছে, সেন্টকমের সহায়তায় ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে এমন কিছু উপায় নিয়েও আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে হুতি গোষ্ঠীর অগ্রগতি মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তা করতে পারে ইসরায়েল।
ইরান-সমর্থিত হুতির সঙ্গে নতুন করে সংঘাত এবং সৌদি আরবে তাদের হামলার প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা চলছে। তবে ওই সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে- এমন সম্ভাবনা কম। তবে বৈঠক ও এই অঞ্চলে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি তেল আবিব।


















