ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
হল দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট

ছাত্রশক্তি নেতাকে মারধর করে ফেসবুক লাইভে ছাত্রদলের হেনস্তা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৬ বার পড়া হয়েছে

হল দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজ শাখার এক নেতাকে প্রকাশ্যে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে তাকে ফেসবুক লাইভে এসে ওই পোস্টের বিষয়ে জোরপূর্বক ক্ষমা চাইতে বাধ্য করারও অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা কলেজের হল মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

মারধরের শিকার মো. রিফাত জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজ শাখার নেতা। অন্যদিকে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রিফাত হোসেন, ওহীদ ফরাজী ও ছাত্রদল কর্মী তামিম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

মো. রিফাত বলেন, দুপুর ২টার দিকে হলপাড়ায় খেতে যাওয়ার সময় দুই মাস আগে হল দখল এবং নিউমার্কেটে ফুটপাতের চাঁদাবাজি নিয়ে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে তাকে মারধর করা হয়। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে ঢাকা কলেজের হল মাঠে তাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি এবং স্টাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের রিফাত হোসেন প্রথমে আমাকে মারার জন্য তাদের পোলাপানদের উস্কায় দিছে। এরপর আমার জুনিয়র ছাত্রদলের ওহীদ ফরাজি মারার নেতৃত্ব দিছে।’

হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে প্রক্রিয়ার বিশ্বাসী। কেউ তো জোরপূর্বক হল দখল করতে পারে না। শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিতে পারে না। এর বিরুদ্ধে যখন ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে আমাদের উপর এরকম হামলা হয়েছে। এটা তো হতে পারে না। প্রশাসন জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়না। আমার হামলারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রিফান হোসেন বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। ঢাকা কলেজের পাশে নায়েমের গলিতে ছাত্রশক্তির নেতা সজীব, আশরাফুল ও আফজালরা একটা বিষয় নিয়ে কয়েকজনের সাথে তর্ক-বিতর্ক করছিল, আমি সেটা থামিয়ে দিয়ে ওদেরকে হলে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ছেলে আমার নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। আমি আফজালকে বললে সে বলে, ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজে কোনো কমিটি নেই।

গতকাল ওর সাথে পুকুর পাড়ে দেখা হলে পোস্টের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে ওই ছেলে স্টেটমেন্ট দিতে চায়। তখন আমি ওর স্টেটমেন্ট ফেসবুকে লাইভ করি। আমি যদি এই ধরনের কোনো অপরাধ করি তাহলে ছাত্র শিবির, ছাত্র শক্তি, সাংবাদিক সমিতি বা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অবশ্যই কোনো প্রমাণ থাকবে।

অভিযুক্ত আরেক ছাত্রদল নেতা ওহীদ ফরাজি বলেন, এরকম কোন ঘটনাই ঘটে নাই। আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।

ছাত্রদল কর্মী তামিম হোসেন বলেন, ওইখানে মারধরের কোন ঘটনা ঘটে নাই। ওই ছেলে আমাদের এক সিনিয়র বড়ভাইয়ের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিল, তাই আমরা শুধু তাকে জিজ্ঞেস করেছি।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান বলেন, ‘আমি এবিষয়ে অবগত নয়, মাত্র শুনলাম। তবে সজীব আমাকে বলেছিল, ভাই এ রকম একটা ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তখন বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়েছিলাম। কিন্তু তখন এ ধরনের কোনো তথ্য বা ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত কিছু পাইনি। পরবর্তী বিষয়টি নিয়েও আর কথা হয়নি। যেহেতু বিষয়টি জানালেন আমি অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখবো।

তিনি আরো বলেন, তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। কারণ, এভাবে কারও গায়ে হাত তোলা কিংবা কারও স্বাধীনভাবে চলাফেরায় বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। রাষ্ট্র এখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলছে। তাই আইন আছে, আদালত আছে সেখানে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হল দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট

ছাত্রশক্তি নেতাকে মারধর করে ফেসবুক লাইভে ছাত্রদলের হেনস্তা

আপডেট সময় ০২:০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

হল দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজ শাখার এক নেতাকে প্রকাশ্যে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে তাকে ফেসবুক লাইভে এসে ওই পোস্টের বিষয়ে জোরপূর্বক ক্ষমা চাইতে বাধ্য করারও অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা কলেজের হল মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

মারধরের শিকার মো. রিফাত জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজ শাখার নেতা। অন্যদিকে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রিফাত হোসেন, ওহীদ ফরাজী ও ছাত্রদল কর্মী তামিম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

মো. রিফাত বলেন, দুপুর ২টার দিকে হলপাড়ায় খেতে যাওয়ার সময় দুই মাস আগে হল দখল এবং নিউমার্কেটে ফুটপাতের চাঁদাবাজি নিয়ে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে তাকে মারধর করা হয়। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে ঢাকা কলেজের হল মাঠে তাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি এবং স্টাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের রিফাত হোসেন প্রথমে আমাকে মারার জন্য তাদের পোলাপানদের উস্কায় দিছে। এরপর আমার জুনিয়র ছাত্রদলের ওহীদ ফরাজি মারার নেতৃত্ব দিছে।’

হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে প্রক্রিয়ার বিশ্বাসী। কেউ তো জোরপূর্বক হল দখল করতে পারে না। শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিতে পারে না। এর বিরুদ্ধে যখন ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে আমাদের উপর এরকম হামলা হয়েছে। এটা তো হতে পারে না। প্রশাসন জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়না। আমার হামলারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রিফান হোসেন বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। ঢাকা কলেজের পাশে নায়েমের গলিতে ছাত্রশক্তির নেতা সজীব, আশরাফুল ও আফজালরা একটা বিষয় নিয়ে কয়েকজনের সাথে তর্ক-বিতর্ক করছিল, আমি সেটা থামিয়ে দিয়ে ওদেরকে হলে পাঠিয়ে দিয়েছি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ছেলে আমার নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। আমি আফজালকে বললে সে বলে, ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজে কোনো কমিটি নেই।

গতকাল ওর সাথে পুকুর পাড়ে দেখা হলে পোস্টের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে ওই ছেলে স্টেটমেন্ট দিতে চায়। তখন আমি ওর স্টেটমেন্ট ফেসবুকে লাইভ করি। আমি যদি এই ধরনের কোনো অপরাধ করি তাহলে ছাত্র শিবির, ছাত্র শক্তি, সাংবাদিক সমিতি বা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অবশ্যই কোনো প্রমাণ থাকবে।

অভিযুক্ত আরেক ছাত্রদল নেতা ওহীদ ফরাজি বলেন, এরকম কোন ঘটনাই ঘটে নাই। আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।

ছাত্রদল কর্মী তামিম হোসেন বলেন, ওইখানে মারধরের কোন ঘটনা ঘটে নাই। ওই ছেলে আমাদের এক সিনিয়র বড়ভাইয়ের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিল, তাই আমরা শুধু তাকে জিজ্ঞেস করেছি।

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান বলেন, ‘আমি এবিষয়ে অবগত নয়, মাত্র শুনলাম। তবে সজীব আমাকে বলেছিল, ভাই এ রকম একটা ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তখন বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়েছিলাম। কিন্তু তখন এ ধরনের কোনো তথ্য বা ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত কিছু পাইনি। পরবর্তী বিষয়টি নিয়েও আর কথা হয়নি। যেহেতু বিষয়টি জানালেন আমি অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখবো।

তিনি আরো বলেন, তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। কারণ, এভাবে কারও গায়ে হাত তোলা কিংবা কারও স্বাধীনভাবে চলাফেরায় বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। রাষ্ট্র এখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলছে। তাই আইন আছে, আদালত আছে সেখানে যাবে।