ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোবিপ্রবিতে ২ কোটি টাকায় নির্মিত খেলার মাঠে খেলতে পারেন না শিক্ষার্থীরা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৬:৪০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

উদ্বোধনের পর ছয় মাস পার হলেও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ক্রীড়া অবকাঠামো। নিয়মিত খেলাধুলা না হওয়া এবং সঠিক তদারকির অভাবে নতুন নির্মিত কোর্টগুলো নষ্ট হতে চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত ব্যবহার না থাকায় বাস্কেটবল ও টেনিস কোর্ট নিছক পড়ে থাকার পাশাপাশি ভলিবল কোর্টটি ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত খেলাধুলা না হওয়ায় সেখানে বুকসমান ঘাস ও আগাছা জন্মে খেলার পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ​শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে অবকাঠামো তৈরি করা হলেও তা ব্যবহারযোগ্য রাখতে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। নিয়মিত চর্চা ও টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা না করা হলে এসব মূল্যবান সরঞ্জাম ও অবকাঠামো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার ফলে ভবিষ্যতে আবারও সংস্কারে অর্থের অপচয় ঘটবে।
​বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের নতুন ভলিবল ও বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা। অন্যদিকে, শিক্ষকদের জন্য নির্মিত লন টেনিস কোর্ট তৈরিতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৭০৪ টাকা। সব মিলিয়ে এসব ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৫ টাকা।

তথ্যমতে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকদের জন্য তৈরি লন টেনিস কোর্ট এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্কেটবল ও ভলিবল কোর্টটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। তবে উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এসব মাঠে কোনো প্রতিযোগিতা বা টুর্নামেন্ট আয়োজন করেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু উদ্বোধনের পর তদারকি না থাকায় কোটি টাকার এই প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না কেউ।

কোর্টগুলো সচল না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নোবিপ্রবির বাস্কেটবল খেলোয়াড় আলভি হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া অবকাঠামো তৈরি হওয়া ভালো উদ্যোগ, কিন্তু শুধু কোর্ট বানিয়েই দায়িত্ব শেষ করলে এর কোনো অর্থ থাকে না। বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণের প্রায় এক বছর হতে চললেও সেখানে নিয়মিত খেলা, কোচিং বা অনুশীলনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। কোর্ট তৈরি হয়েছে, কিন্তু বল, প্রশিক্ষক কিংবা খেলার ব্যবস্থা নেই। কোর্টটি কার্যকরভাবে পরিচালনার দায়িত্ব শারীরিক শিক্ষা বিভাগের, শিক্ষার্থীদের নয়।
​ভলিবল কোর্ট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সারা বছর অনুশীলনের ব্যবস্থা না করে টুর্নামেন্টের দুই-তিন সপ্তাহ আগে অনুশীলন শুরু করলে ভালো ফলাফল আশা করা যায় না। আমাদের খেলোয়াড়ের অভাব নেই, অভাব হলো নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কোচিং, প্রতিযোগিতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার।

​একই সুর ব্যক্ত করে নোবিপ্রবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি জাহেদুল হক বলেন, আমাদের বাস্কেটবল কোর্টটি দীর্ঘদিন অকেজো পড়ে আছে। শিক্ষার্থীদের খেলার আগ্রহ থাকলেও শরীরচর্চা বিভাগ থেকে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি। অন্যদিকে, শিক্ষকদের লন টেনিস কোর্টটি ক্যাম্পাসের সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামোর একটিতে পরিণত হয়েছে। অযত্নে ফেলে না রেখে অন্তত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দিলে তারা খেলার সুযোগ পেত এবং স্পোর্টস কালচারে বৈচিত্র্য আসত। এভাবে পড়ে থাকলে বিপুল ব্যয়ের এই কোর্টগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।
খেলার আয়োজন না হওয়া ও তদারকির অভাব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর সঞ্জীব কুমার দে বলেন, বাস্কেটবল কোর্ট ইতোমধ্যে করা হয়েছে। আমরা টুর্নামেন্ট আয়োজন ও প্রশিক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। অনুমোদন পেলে টুর্নামেন্ট ও প্রশিক্ষণ শুরু করা হবে; শিক্ষার্থীরা চাইলে কোচের ব্যবস্থাও সম্ভব।
​ভলিবল ও টেনিস কোর্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভলিবল কোর্টের নির্ধারিত জায়গার বাইরে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত জায়গায় বালু ভরাটের কাজ করা হলেই খেলা শুরু করা সম্ভব হবে। আর লন টেনিস কোর্টটি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য করা হলেও বিশেষ প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে শিক্ষার্থীরাও অনুশীলনের সুযোগ পেতে পারে। এগুলো দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই; জাতীয় মান বজায় রেখে মানসম্মতভাবে কোর্টগুলো তৈরি করা হয়েছে। আমরা খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে বাস্কেটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা করছি

​শরীরচর্চা দপ্তরের পরিচালক জামাল উদ্দীন জানান, আমরা ভলিবল কোর্ট দুটির জায়গা সরজমিনে পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেছি। কোর্ট শুধু তৈরি করলেই হয় না, আশপাশে খেলোয়াড়দের চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা ও উপযুক্ত মাটি দরকার, তাই কিছুটা সময় লাগছে। ভলিবলের আশপাশের জায়গা প্রস্তুত করতে ৫০ হাজার বা এক লাখ টাকার মধ্যে কাজ করা যায় কি না, তা দেখা হচ্ছে। আমরা হুট করে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে চাই না।

​লন টেনিস কোর্টের ইউটিলিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, লন টেনিস কোর্টটি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য করা হলেও সেখানে যদি কেউ না খেলে, তবে শুধু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা বলে তো কিছু করা যাবে না। খুব অল্পসংখ্যক মানুষের জন্য এত টাকা ব্যয় করা কতটা যৌক্তিক সেটি প্রশ্নের বিষয়। প্রকল্পগুলো যখন করা হয়েছিল, তখনই প্রশ্ন তোলা উচিত ছিল। এখন টাকা খরচ হয়ে গেছে, তবে শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে করা কাজের জবাবদিহি অবশ্যই থাকা উচিত।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গোলাম রব্বানী বলেন, নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ভলিবল ও বাস্কেটবল খেলার সুবিধার্থে মাঠটি সংস্কার করে খেলার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে মাঠ পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় খেলায় সমস্যা হয়। বৃষ্টি কমে আসার পর মাঠ সংস্কার করে শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত খেলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
​শিক্ষকদের লন টেনিস কোর্টের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষক ও খেলোয়াড়ের স্বল্পতার কারণে লন টেনিস বর্তমানে নিয়মিত হচ্ছে না। তবে শিক্ষক ও আগ্রহী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে খেলাটি নিয়মিত করার চেষ্টা করা হবে। ইতোমধ্যে উদ্বোধনের দিন শিক্ষক ও বাইরের অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আমি নিজেও অংশ নিয়েছিলাম।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নোবিপ্রবিতে ২ কোটি টাকায় নির্মিত খেলার মাঠে খেলতে পারেন না শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০৬:৪০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উদ্বোধনের পর ছয় মাস পার হলেও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ক্রীড়া অবকাঠামো। নিয়মিত খেলাধুলা না হওয়া এবং সঠিক তদারকির অভাবে নতুন নির্মিত কোর্টগুলো নষ্ট হতে চলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত ব্যবহার না থাকায় বাস্কেটবল ও টেনিস কোর্ট নিছক পড়ে থাকার পাশাপাশি ভলিবল কোর্টটি ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত খেলাধুলা না হওয়ায় সেখানে বুকসমান ঘাস ও আগাছা জন্মে খেলার পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ​শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে অবকাঠামো তৈরি করা হলেও তা ব্যবহারযোগ্য রাখতে প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। নিয়মিত চর্চা ও টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা না করা হলে এসব মূল্যবান সরঞ্জাম ও অবকাঠামো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার ফলে ভবিষ্যতে আবারও সংস্কারে অর্থের অপচয় ঘটবে।
​বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের নতুন ভলিবল ও বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা। অন্যদিকে, শিক্ষকদের জন্য নির্মিত লন টেনিস কোর্ট তৈরিতে খরচ হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৭০৪ টাকা। সব মিলিয়ে এসব ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৫ টাকা।

তথ্যমতে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকদের জন্য তৈরি লন টেনিস কোর্ট এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্কেটবল ও ভলিবল কোর্টটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল। তবে উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এসব মাঠে কোনো প্রতিযোগিতা বা টুর্নামেন্ট আয়োজন করেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু উদ্বোধনের পর তদারকি না থাকায় কোটি টাকার এই প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না কেউ।

কোর্টগুলো সচল না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নোবিপ্রবির বাস্কেটবল খেলোয়াড় আলভি হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া অবকাঠামো তৈরি হওয়া ভালো উদ্যোগ, কিন্তু শুধু কোর্ট বানিয়েই দায়িত্ব শেষ করলে এর কোনো অর্থ থাকে না। বাস্কেটবল কোর্ট নির্মাণের প্রায় এক বছর হতে চললেও সেখানে নিয়মিত খেলা, কোচিং বা অনুশীলনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। কোর্ট তৈরি হয়েছে, কিন্তু বল, প্রশিক্ষক কিংবা খেলার ব্যবস্থা নেই। কোর্টটি কার্যকরভাবে পরিচালনার দায়িত্ব শারীরিক শিক্ষা বিভাগের, শিক্ষার্থীদের নয়।
​ভলিবল কোর্ট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সারা বছর অনুশীলনের ব্যবস্থা না করে টুর্নামেন্টের দুই-তিন সপ্তাহ আগে অনুশীলন শুরু করলে ভালো ফলাফল আশা করা যায় না। আমাদের খেলোয়াড়ের অভাব নেই, অভাব হলো নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কোচিং, প্রতিযোগিতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার।

​একই সুর ব্যক্ত করে নোবিপ্রবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি জাহেদুল হক বলেন, আমাদের বাস্কেটবল কোর্টটি দীর্ঘদিন অকেজো পড়ে আছে। শিক্ষার্থীদের খেলার আগ্রহ থাকলেও শরীরচর্চা বিভাগ থেকে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়নি। অন্যদিকে, শিক্ষকদের লন টেনিস কোর্টটি ক্যাম্পাসের সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামোর একটিতে পরিণত হয়েছে। অযত্নে ফেলে না রেখে অন্তত শিক্ষার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দিলে তারা খেলার সুযোগ পেত এবং স্পোর্টস কালচারে বৈচিত্র্য আসত। এভাবে পড়ে থাকলে বিপুল ব্যয়ের এই কোর্টগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।
খেলার আয়োজন না হওয়া ও তদারকির অভাব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর সঞ্জীব কুমার দে বলেন, বাস্কেটবল কোর্ট ইতোমধ্যে করা হয়েছে। আমরা টুর্নামেন্ট আয়োজন ও প্রশিক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। অনুমোদন পেলে টুর্নামেন্ট ও প্রশিক্ষণ শুরু করা হবে; শিক্ষার্থীরা চাইলে কোচের ব্যবস্থাও সম্ভব।
​ভলিবল ও টেনিস কোর্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভলিবল কোর্টের নির্ধারিত জায়গার বাইরে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত জায়গায় বালু ভরাটের কাজ করা হলেই খেলা শুরু করা সম্ভব হবে। আর লন টেনিস কোর্টটি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য করা হলেও বিশেষ প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে শিক্ষার্থীরাও অনুশীলনের সুযোগ পেতে পারে। এগুলো দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই; জাতীয় মান বজায় রেখে মানসম্মতভাবে কোর্টগুলো তৈরি করা হয়েছে। আমরা খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে বাস্কেটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা করছি

​শরীরচর্চা দপ্তরের পরিচালক জামাল উদ্দীন জানান, আমরা ভলিবল কোর্ট দুটির জায়গা সরজমিনে পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেছি। কোর্ট শুধু তৈরি করলেই হয় না, আশপাশে খেলোয়াড়দের চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা ও উপযুক্ত মাটি দরকার, তাই কিছুটা সময় লাগছে। ভলিবলের আশপাশের জায়গা প্রস্তুত করতে ৫০ হাজার বা এক লাখ টাকার মধ্যে কাজ করা যায় কি না, তা দেখা হচ্ছে। আমরা হুট করে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে চাই না।

​লন টেনিস কোর্টের ইউটিলিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, লন টেনিস কোর্টটি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য করা হলেও সেখানে যদি কেউ না খেলে, তবে শুধু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা বলে তো কিছু করা যাবে না। খুব অল্পসংখ্যক মানুষের জন্য এত টাকা ব্যয় করা কতটা যৌক্তিক সেটি প্রশ্নের বিষয়। প্রকল্পগুলো যখন করা হয়েছিল, তখনই প্রশ্ন তোলা উচিত ছিল। এখন টাকা খরচ হয়ে গেছে, তবে শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে করা কাজের জবাবদিহি অবশ্যই থাকা উচিত।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গোলাম রব্বানী বলেন, নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ভলিবল ও বাস্কেটবল খেলার সুবিধার্থে মাঠটি সংস্কার করে খেলার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে মাঠ পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় খেলায় সমস্যা হয়। বৃষ্টি কমে আসার পর মাঠ সংস্কার করে শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত খেলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
​শিক্ষকদের লন টেনিস কোর্টের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষক ও খেলোয়াড়ের স্বল্পতার কারণে লন টেনিস বর্তমানে নিয়মিত হচ্ছে না। তবে শিক্ষক ও আগ্রহী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে খেলাটি নিয়মিত করার চেষ্টা করা হবে। ইতোমধ্যে উদ্বোধনের দিন শিক্ষক ও বাইরের অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আমি নিজেও অংশ নিয়েছিলাম।