সংসদ ভবনে শিক্ষিকা হত্যা
র্যাবের হাতে গ্রেপ্তাররা জড়িত নন, নতুন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি
স্টাফ রিপোর্টার
- আপডেট সময় ০৭:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৯ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ছিনতাইয়ের সময় শিক্ষিকা রনজিনা পারভীনকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, খোকন ও রাজীব মাতব্বর। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ভুক্তভোগীর ব্যাগ ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি দাবি করেছে, এ ঘটনায় র্যাব আগে যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছিল, তা সঠিক নয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
রনজিনা পারভীন হত্যার ঘটনায় এর আগে র্যাব দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাদের সঙ্গে নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, তাদের অবস্থান ও গ্রুপ আলাদা। নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা পশ্চিম মনিপুর এলাকায় থাকেন, আর র্যাবের গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা তেজতুরীপাড়া এলাকার। তারা দুটি ভিন্ন গ্রুপ।
তিনি বলেন, র্যাবের গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের একজনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা ছিল। জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন।
ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, কোনো ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা তদন্তের একটি অংশ। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে তাদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই মামলাতেও আগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে তাদের বাদ দেওয়া হবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা থাকলে সেসব মামলায় তারা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবেন।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, ঘটনার পর তেজগাঁও বিভাগ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের পর ঢাকা, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের প্রথম পর্যায়ে খোকনকে মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে খোকন জানায়, ঘটনার সময় সে মোটরসাইকেলের পেছনে বসেছিল এবং রনজিনা পারভীনের ব্যাগ হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিয়ে নেয়। গ্রেপ্তার খোকনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর থানার বড়বাগ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগে তার ব্যবহৃত পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল। পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী অভিযানে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজীব মাতব্বরকে বিরুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি প্রধান জানান, ঘটনার সময় রাজীব মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো জায়গা অনুযায়ী দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। তার হেফাজত থেকে ৬২২টি ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রাজীবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ মোট আটটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, তারা শুধু এই একটি ঘটনায় জড়িত, নাকি নিয়মিত ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর অন্য কোনো ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে, গত ২৯ আগস্ট সকালে প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন তার স্বামীর সঙ্গে রিকশাযোগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউর পূর্বপ্রান্তে ১২ নং গেইট পার হয়ে খেজুর বাগান অভিমুখী রাস্তায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারী খোকন ও রাজীব তাদের পিছু নেয়। খেজুর বাগানের সামনে পৌঁছা মাত্রই মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা খোকন ভিকটিমের হাতের ব্যাগ ধরে সজোরে হ্যাঁচকা টান দেয়।
এতে রনজিলা পারভিন ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. আব্দুল মতিন (৫৩) বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে নিহতের ছিনতাই হওয়া ব্যাগ এবং মিরপুর-১-এর কো-অপারেটিভ মার্কেট থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে রাজিব মাতুব্বরের দেখানো মতে ভাষানটেকের দেওয়ান পাড়া এলাকা থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃরা ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
ট্যাগস :


















