নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগসাজশ ও তথ্য পাচার
ইনানের সাথেও ছিলো যোগাযোগ, ছাত্রলীগ কর্মীকে পুলিশে দিলো চবি শিবির
- আপডেট সময় ০৫:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একটি অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন তথ্য পাচারের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ ও পামবাগান সড়কের মোড় এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরে রাত আড়াইটার দিকে তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
আটকের পর ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন তল্লাশি করে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেন শিক্ষার্থী ও চাকসু নেতারা। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই শিক্ষার্থী যুক্ত ছিলেন। গ্রুপটিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক শতাধিক নেতাকর্মী রয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই গ্রুপে থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসের তথ্য আদান-প্রদান করতেন।
তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তার মাধ্যমে তিনি ক্যাম্পাসের ১নং গেটে ছাত্রলীগের একটি মিছিলে অংশ নেন। পরে সাবেক সহসম্পাদক ওয়াহিদুল আলম তাকে ছাত্রলীগের কিছু পোস্টার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য দিয়েছিলেন। তবে এতে নিজের ক্ষতি হতে পারে আশঙ্কায় তিনি পোস্টারগুলো বিতরণ না করে ফেলে দেন। ওই মিছিলে অংশ নেওয়ার পর তাকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটিতে যুক্ত করা হয় বলেও জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে ‘জিরো পয়েন্ট, চবি’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপটিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান, চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ার, সাবেক সহসম্পাদক ওয়াহিদুল আলম, সৌমেন দত্ত, পিজুসসহ ১৬৫ জন সদস্য ছিলেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতো।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ও শাখা শিবির নেতা ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, রাতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিলেন তখন সায়েন্স ফ্যাকাল্টি ও পাম বাগান রাস্তার মোড়ে ওই শিক্ষার্থীর আচরণ সন্দেহভাজন মনে হলে তার দিকে নজর রাখে। একটু পরেই অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী কোথাও একটি মেসেজ দেয় “ক্যাম্পাসে শিবিরের টহল চলছে”। এরপর সন্দেহ পাকাপোক্ত হলে তাকে নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরও বলেন, সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ওই শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল হোসেন বলেন, সন্দেহের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তার ফোনে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ এবং জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্টতার স্বীকারোক্তি পাওয়া গেলে তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন।




















