‘পদত্যাগ করিনি’ দাবি চুয়েট উপাচার্যের, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের
- আপডেট সময় ০৭:৩০:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
সুস্থ হয়ে ফিরে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি পদত্যাগ করেছেন উল্লেখ করে যেসব সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে, তা সত্য নয়। ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে শিক্ষার্থীরা তাঁকে বের হতে দিয়েছেন—এ তথ্যও অসত্য।
আজ বুধবার দুপুরে হোয়াটস অ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে প্রথম আলোকে এ কথাগুলো বলেন উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় ৩০ ঘণ্টা নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম।
আন্দোলনের মধ্যেই সোমবার সকালে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন উপাচার্য শরীফুল আলম। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে ভেতরে রেখে ভবনের ফটকে আবার তালা দেন শিক্ষার্থীরা। পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমি পুনর্ব্যক্ত করতে চাই, রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, আমি সেই অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেই চট্টগ্রামে এসেছি। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ, বিশেষ কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন কিংবা দলীয় বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আমি এখানে আসিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
শেখ শরীফুল আলম বলেন, তিনি চান না, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্ররোচনা বা ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের অমূল্য শিক্ষাজীবন ও একাডেমিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হোক। শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষকদের ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি চলবে
চুয়েটের শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আজ দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, ‘তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। ভবনের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে। সেগুলো চুরি হয়েছে কি না এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা অটল রয়েছি। আমরা কর্মবিরতি ও অসহযোগ চালিয়ে যাব।’
শাটডাউন চলবে
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, উপাচার্য পদে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা অধ্যাপক সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। আর সায়েম স্যারকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন কর্মসূচি চলমান থাকবে।’
চুয়েট ক্যাম্পাসে টানা ২৩ দিন ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন চলছে। এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস–পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম। এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি উপলক্ষে ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী ব্যাগ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন।




















