নাটোরে ছাত্রদল নেতা হত্যায় বিএনপি এমপির ছেলেকে যুবদল থেকে বহিষ্কার, ওসি প্রত্যাহার
- আপডেট সময় ০৩:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে
নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল। একই ঘটনায় গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদল মিন্টুকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সহযোদ্ধার প্রাণহানির মতো গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শাকিল হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওসি আব্দুল হান্নানকে জনস্বার্থে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম।
অফিস আদেশ নম্বর ৯৭৭-এ বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নাটোর জেলায় কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হান্নান রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবেন। গত মঙ্গলবার রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ আদেশে স্বাক্ষর করেন।
জানা গেছে, শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাছারিপাড়া এলাকার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে। গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরা দুই যুবক শাকিলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন হামলাকারীরা। পরে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে কুপিয়ে পালিয়ে যান তারা।
এতে শাকিলের হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।



















