ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলুর উৎপাদন খরচ ১৪, বিক্রয়মূল্য ৮ টাকা; মাথায় হাত কৃষকদের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৯:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারদর কম থাকায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮–৯ টাকায়, অথচ উৎপাদন খরচ পড়ছে গড়ে ১৪–১৭ টাকা। মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।

রহিমাপুর রামপুরা গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গত বছর আলু চাষে প্রায় এক লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এবারও যদি একই অবস্থা থাকে, তাহলে চাষাবাদ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।” তিনি জানান, শ্রমিক, সার ও কীটনাশক মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৪–১৬ টাকা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৪,৫৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন। অথচ উপজেলায় থাকা তিনটি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ১৬ হাজার টন।

ফলে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণের বাইরে থেকে যায়। অনেক কৃষক বাড়ির উঠান বা অস্থায়ী গুদামে আলু সংরক্ষণ করেন, যার একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকে না।

চলতি মৌসুমে আবাদ কিছুটা কমে ৩,৪৬৩ হেক্টরে নামলেও ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে বাজারদর কম থাকায় সেই ফলনই এখন কৃষকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলমপুর ইউনিয়নের পীরপাড়া গ্রামের মিলন মিয়া বলেন, “এভাবে লোকসান খেতে খেতে চলতে থাকলে আলুর আবাদ ছেড়ে দিতে হবে। এত কষ্ট করে চাষ করেও যদি ন্যায্য দাম না পাই, আমরা বাঁচব কীভাবে?”

কুর্শা কাজীপাড়া গ্রামের চাষি এমদাদুল ইসলামও একই অভিযোগ করে বলেন, বারবার লোকসান হলে আলুর আবাদ বাদ দিতে বাধ্য হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে চাষিরা বড় ধরনের লোকসানে পড়ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হলে সংরক্ষণ সহজ হবে। পাশাপাশি এলাকায় আলু চিপস বা আলুজাত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।

অন্যদিকে, আলুচাষিদের দাবি— ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ; সরাসরি সরকারি ক্রয় কার্যক্রম ও হিমাগারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি।

এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রতিবছরই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আলুর উৎপাদন খরচ ১৪, বিক্রয়মূল্য ৮ টাকা; মাথায় হাত কৃষকদের

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারদর কম থাকায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮–৯ টাকায়, অথচ উৎপাদন খরচ পড়ছে গড়ে ১৪–১৭ টাকা। মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।

রহিমাপুর রামপুরা গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “গত বছর আলু চাষে প্রায় এক লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এবারও যদি একই অবস্থা থাকে, তাহলে চাষাবাদ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।” তিনি জানান, শ্রমিক, সার ও কীটনাশক মিলিয়ে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৪–১৬ টাকা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৪,৫৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন। অথচ উপজেলায় থাকা তিনটি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ১৬ হাজার টন।

ফলে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণের বাইরে থেকে যায়। অনেক কৃষক বাড়ির উঠান বা অস্থায়ী গুদামে আলু সংরক্ষণ করেন, যার একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকে না।

চলতি মৌসুমে আবাদ কিছুটা কমে ৩,৪৬৩ হেক্টরে নামলেও ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। তবে উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে বাজারদর কম থাকায় সেই ফলনই এখন কৃষকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলমপুর ইউনিয়নের পীরপাড়া গ্রামের মিলন মিয়া বলেন, “এভাবে লোকসান খেতে খেতে চলতে থাকলে আলুর আবাদ ছেড়ে দিতে হবে। এত কষ্ট করে চাষ করেও যদি ন্যায্য দাম না পাই, আমরা বাঁচব কীভাবে?”

কুর্শা কাজীপাড়া গ্রামের চাষি এমদাদুল ইসলামও একই অভিযোগ করে বলেন, বারবার লোকসান হলে আলুর আবাদ বাদ দিতে বাধ্য হবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর ও সংরক্ষণ সংকটের কারণে চাষিরা বড় ধরনের লোকসানে পড়ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হিমাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো হলে সংরক্ষণ সহজ হবে। পাশাপাশি এলাকায় আলু চিপস বা আলুজাত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠলে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।

অন্যদিকে, আলুচাষিদের দাবি— ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ; সরাসরি সরকারি ক্রয় কার্যক্রম ও হিমাগারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি।

এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রতিবছরই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।