ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আলুর বস্তাপ্রতি ২০ টাকা চাঁদা নেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতারা

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:৩২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার শাজাহানপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, গত এক মাস ধরে এ চাঁদাবাজি চলছে। এ ঘটনায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তারা। চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা নেতারা হলেন– উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিন।

চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মেহেদী হাবীব আব্বাসী নামের এক কৃষক সোমবার রাতে শাজাহানপুর থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। মেহেদী হাবীব উপজেলার খরনা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।

কৃষকদের ভাষ্য, আলু বোঝাই ট্রাক কিংবা ট্রাকে আলু লোড করলে এমনকি জমিতে বস্তায় আলু ভরার সময় সেখানে ছুটে যান স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক। পরে ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর বস্তা প্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে তবেই রেহাই মেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ফসলের মাঠে গিয়ে কৃষকদের কাছে ফসলের ওপর চাঁদাবাজি করত। বিশেষ করে তারা আলুর মৌসুমে চাঁদাবাজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ আমলের মতো একই কায়দায় চাঁদাবাজি শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী।

গত রোববার সন্ধ্যায় এক কৃষক আলু হিমাগারে নেওয়ার পথে উপজেলার বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন যুবক আলুর ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করলে সেখানে স্থানীয় জনতা একত্র হয়ে চাঁদাবাজদের ধাওয়া করে।

অভিযোগকারী খরনা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাবীব আব্বাসী জানান, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি নিজ বাড়ি থেকে আলু হিমাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে শাজাহানপুর উপজেলার বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাজশাহী-বগুড়া মহাসড়কে পৌঁছালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিন ও শহীদ হোসেনসহ কয়েকজন তাঁর আলুবাহী ট্রাকের পথরোধ করে। এ সময় তারা বস্তা প্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাঁকে তুলে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত জনতা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের ধাওয়া করে।

প্রত্যক্ষদর্শী তাজনুর ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম আপেলসহ অনেকে জানান, ওই কৃষকের কাছে চাঁদা না পেয়ে তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করছিল। তখন আমরা বিষয়টি প্রতিবাদ করি। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।

এদিকে মঙ্গলবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, তিনি কোথাও চাঁদাবাজি করতে যাননি। তাঁর নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
শাজাহানপুর থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় এক কৃষক আলুর ট্রাকে চাঁদাবাজির বিষয়ে কয়েকজনের নামে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল বলেন, তাদের দলের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে এবং প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ ওঠায় শাজাহানুপরের কয়েকজন নেতার বিষয়ে দলীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আলুর বস্তাপ্রতি ২০ টাকা চাঁদা নেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতারা

আপডেট সময় ০৫:৩২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বগুড়ার শাজাহানপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, গত এক মাস ধরে এ চাঁদাবাজি চলছে। এ ঘটনায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তারা। চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা নেতারা হলেন– উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিন।

চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মেহেদী হাবীব আব্বাসী নামের এক কৃষক সোমবার রাতে শাজাহানপুর থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। মেহেদী হাবীব উপজেলার খরনা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।

কৃষকদের ভাষ্য, আলু বোঝাই ট্রাক কিংবা ট্রাকে আলু লোড করলে এমনকি জমিতে বস্তায় আলু ভরার সময় সেখানে ছুটে যান স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক। পরে ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর বস্তা প্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে তবেই রেহাই মেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ফসলের মাঠে গিয়ে কৃষকদের কাছে ফসলের ওপর চাঁদাবাজি করত। বিশেষ করে তারা আলুর মৌসুমে চাঁদাবাজির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ আমলের মতো একই কায়দায় চাঁদাবাজি শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী।

গত রোববার সন্ধ্যায় এক কৃষক আলু হিমাগারে নেওয়ার পথে উপজেলার বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন যুবক আলুর ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করলে সেখানে স্থানীয় জনতা একত্র হয়ে চাঁদাবাজদের ধাওয়া করে।

অভিযোগকারী খরনা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাবীব আব্বাসী জানান, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি নিজ বাড়ি থেকে আলু হিমাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে শাজাহানপুর উপজেলার বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাজশাহী-বগুড়া মহাসড়কে পৌঁছালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিন ও শহীদ হোসেনসহ কয়েকজন তাঁর আলুবাহী ট্রাকের পথরোধ করে। এ সময় তারা বস্তা প্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাঁকে তুলে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত জনতা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের ধাওয়া করে।

প্রত্যক্ষদর্শী তাজনুর ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম আপেলসহ অনেকে জানান, ওই কৃষকের কাছে চাঁদা না পেয়ে তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করছিল। তখন আমরা বিষয়টি প্রতিবাদ করি। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা।

এদিকে মঙ্গলবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, তিনি কোথাও চাঁদাবাজি করতে যাননি। তাঁর নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
শাজাহানপুর থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় এক কৃষক আলুর ট্রাকে চাঁদাবাজির বিষয়ে কয়েকজনের নামে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল বলেন, তাদের দলের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে এবং প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ ওঠায় শাজাহানুপরের কয়েকজন নেতার বিষয়ে দলীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।