ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা

পাঁচ অস্ত্রধারী শনাক্ত, সবাই বিএনপির সঙ্গে ‘সম্পৃক্ত’

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যার ঘটনায় পাঁচ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পুলিশ অভিযান চালালেও কাউকে আটক করতে পারেনি। গতকাল রোববার রাত ১০টায় প্রতিবেদন লেখাকালীন এ ঘটনায় মামলা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুজনের কাছে শটগান।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার ত্রাস রায়হান বাহিনীর সদস্যরা মাকসুদুল হত্যায় জড়িত। রায়হান রাউজানের এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুগত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। রায়হান ও তাঁর লোকজন বিএনপির স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো দলনেতা নেই। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপকর্ম করে থাকে। তবে রাজনীতিবিদেরও বুঝতে হবে, দাগি সন্ত্রাসীদের বুঝেশুনে কাছে টানতে হবে। আমি সন্ত্রাসীদের পক্ষে নই। আমি এসব খুনিকে ঘৃণা করি। যুবদল নেতা মাকসুদুর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
জানতে চাইলে রাউজানের এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। রাউজানে যারা চাঁদাবাজি করে, মানুষ খুন করে তাদের পুলিশ ধরছে না কেন? অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করতে তো কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।’

গত শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে।

সিসিটিভির ফুটেজে যা দেখা যায়

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ত্রাস হিসেবে পরিচিত বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অনুগত রায়হান বাহিনীর সদস্যরা মাকসুদুল হক হত্যা মিশনে অংশ নেয়। এর মধ্যে পাঁচ অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করা গেছে। তারা হলো– রাউজানের কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, রাউজান সদর ইউনিয়নের পূর্ব রাউজান এলাকার মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবছার। এর মধ্যে ইলিয়াস ও দিদারুল প্রথমে মাকসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়ে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

খুনিদের বিরুদ্ধে যত মামলা

রাউজান থানা পুলিশ সূত্রে যানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের বিরুদ্ধে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও নগরীর বিভিন্ন থানায় ১২টি হত্যাসহ ২৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ৫টি হত্যাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। ইউসুফের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে রাউজান থানায়। দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একধিক মামলা রয়েছে।

পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা

রাউজানের পূর্বদিকের সীমানায় আছে উঁচু-নিচু দুর্গম পাহাড়। সেসব পাহাড়ে আছে রাউজান ও পার্বত্য এলাকার সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাউজানের পাহাড়তলী, কদলপুর, রাউজান সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী যত খুন, সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়েছে, তার বেশির ভাগ ঘটনায় পাহাড় থেকে আসা সন্ত্রাসীরা জড়িত। তারা মিশন শেষ করে আবার পাহাড়ের গোপন আস্তানায় নিরাপদে ফিরে যায়। শনিবার দুপুরে যুবদল নেতা মাকসুদুলকে হত্যার মিশন শেষ করা খুনি চক্রের সদস্যরাও পাহাড়ে ফিরে যায়।

নিহত যুবদল নেতার পরিবারের বক্তব্য

নিহতের বড় ভাই বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন সমকালকে বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সবাই এখন শোকাহত। বলার কিছু নেই।’ তবে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবার ও আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু নেই। কারা, কেন, কী কারণে তাকে এভাবে হত্যা করেছে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে বের করবে। তবে সিসিটিভির ফুটেজে যাদের দেখা গেছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করলেই খুনের কারণ বেরিয়ে আসবে।’

আলোচনায় কর্ণফুলীর বালু নিয়ন্ত্রণ

হত্যাকাণ্ডের পেছনে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ বিষয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। স্থানীয় লোকজন জানান, রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী বাজার-সংলগ্ন চম্পাতলী ঘাট এলাকায় একটি বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করতেন নিহত মাকসুদুল। একই সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার সীমান্তবর্তী রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলার ঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীপাড়ের একটি বালুমহালও নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, খুনের তদন্তে এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা উচিত।

জানাজায় মানুষের ঢল, দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি

গতকাল রোবার বেলা ৩টায় নিহত যুবদল নেতা মাকসুদুল হকের লাশবাহী গাড়ি বেতাগী ইউনিয়নের চম্পাতলী ঈদগাহ মাঠে আসে। এ সময় স্বজন ও দলের নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁকে একনজর দেখতে মানুষ ভিড় করেন। আসরের নামাজের পর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার আগে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মাকসুদুল হককে নিয়ে বক্তব্য দেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী বলেন, প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করার জন্য সংসদে বক্তব্য তুলে ধরা হবে।

এ সময় নেতারা বলেন, খুনের ২৪ ঘণ্টার বেশি পার হলেও মামলা হয়নি। চিহ্নিত আসামিরাও গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক স্বপন বলেন, ‘জানাজায় মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। সে এলাকার দুঃখী ও অসহায় মানুষের বন্ধু ছিল। অথচ তার খুনের ২৪ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি। আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো জহির উদ্দিন বলেন, ‘খুনের ঘটনায় মামলা হবে রাউজান থানায়। আমরা ঘটনার তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সমকালকে বলেন, ‘অস্ত্র হাতে যে পাঁচজনকে দেখা গেছে, তারা বিদেশে পলাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর ক্যাডার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের পরিচয়ও বের করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমরা খুনিদের প্রেপ্তারে কাজ করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা

পাঁচ অস্ত্রধারী শনাক্ত, সবাই বিএনপির সঙ্গে ‘সম্পৃক্ত’

আপডেট সময় ০৩:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যার ঘটনায় পাঁচ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পুলিশ অভিযান চালালেও কাউকে আটক করতে পারেনি। গতকাল রোববার রাত ১০টায় প্রতিবেদন লেখাকালীন এ ঘটনায় মামলা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান গ্রুপের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুজনের কাছে শটগান।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার ত্রাস রায়হান বাহিনীর সদস্যরা মাকসুদুল হত্যায় জড়িত। রায়হান রাউজানের এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুগত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। রায়হান ও তাঁর লোকজন বিএনপির স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো দলনেতা নেই। তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপকর্ম করে থাকে। তবে রাজনীতিবিদেরও বুঝতে হবে, দাগি সন্ত্রাসীদের বুঝেশুনে কাছে টানতে হবে। আমি সন্ত্রাসীদের পক্ষে নই। আমি এসব খুনিকে ঘৃণা করি। যুবদল নেতা মাকসুদুর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
জানতে চাইলে রাউজানের এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। রাউজানে যারা চাঁদাবাজি করে, মানুষ খুন করে তাদের পুলিশ ধরছে না কেন? অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে গ্রেপ্তার করতে তো কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।’

গত শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে।

সিসিটিভির ফুটেজে যা দেখা যায়

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ত্রাস হিসেবে পরিচিত বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অনুগত রায়হান বাহিনীর সদস্যরা মাকসুদুল হক হত্যা মিশনে অংশ নেয়। এর মধ্যে পাঁচ অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করা গেছে। তারা হলো– রাউজানের কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, রাউজান সদর ইউনিয়নের পূর্ব রাউজান এলাকার মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবছার। এর মধ্যে ইলিয়াস ও দিদারুল প্রথমে মাকসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়ে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

খুনিদের বিরুদ্ধে যত মামলা

রাউজান থানা পুলিশ সূত্রে যানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের বিরুদ্ধে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও নগরীর বিভিন্ন থানায় ১২টি হত্যাসহ ২৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ৫টি হত্যাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। ইউসুফের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে রাউজান থানায়। দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একধিক মামলা রয়েছে।

পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা

রাউজানের পূর্বদিকের সীমানায় আছে উঁচু-নিচু দুর্গম পাহাড়। সেসব পাহাড়ে আছে রাউজান ও পার্বত্য এলাকার সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাউজানের পাহাড়তলী, কদলপুর, রাউজান সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী যত খুন, সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়েছে, তার বেশির ভাগ ঘটনায় পাহাড় থেকে আসা সন্ত্রাসীরা জড়িত। তারা মিশন শেষ করে আবার পাহাড়ের গোপন আস্তানায় নিরাপদে ফিরে যায়। শনিবার দুপুরে যুবদল নেতা মাকসুদুলকে হত্যার মিশন শেষ করা খুনি চক্রের সদস্যরাও পাহাড়ে ফিরে যায়।

নিহত যুবদল নেতার পরিবারের বক্তব্য

নিহতের বড় ভাই বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন সমকালকে বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সবাই এখন শোকাহত। বলার কিছু নেই।’ তবে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবার ও আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু নেই। কারা, কেন, কী কারণে তাকে এভাবে হত্যা করেছে, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে বের করবে। তবে সিসিটিভির ফুটেজে যাদের দেখা গেছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করলেই খুনের কারণ বেরিয়ে আসবে।’

আলোচনায় কর্ণফুলীর বালু নিয়ন্ত্রণ

হত্যাকাণ্ডের পেছনে কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ বিষয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। স্থানীয় লোকজন জানান, রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী বাজার-সংলগ্ন চম্পাতলী ঘাট এলাকায় একটি বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করতেন নিহত মাকসুদুল। একই সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার সীমান্তবর্তী রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলার ঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীপাড়ের একটি বালুমহালও নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, খুনের তদন্তে এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা উচিত।

জানাজায় মানুষের ঢল, দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি

গতকাল রোবার বেলা ৩টায় নিহত যুবদল নেতা মাকসুদুল হকের লাশবাহী গাড়ি বেতাগী ইউনিয়নের চম্পাতলী ঈদগাহ মাঠে আসে। এ সময় স্বজন ও দলের নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁকে একনজর দেখতে মানুষ ভিড় করেন। আসরের নামাজের পর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার আগে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মাকসুদুল হককে নিয়ে বক্তব্য দেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী বলেন, প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করার জন্য সংসদে বক্তব্য তুলে ধরা হবে।

এ সময় নেতারা বলেন, খুনের ২৪ ঘণ্টার বেশি পার হলেও মামলা হয়নি। চিহ্নিত আসামিরাও গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক স্বপন বলেন, ‘জানাজায় মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। সে এলাকার দুঃখী ও অসহায় মানুষের বন্ধু ছিল। অথচ তার খুনের ২৪ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি। আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি মো জহির উদ্দিন বলেন, ‘খুনের ঘটনায় মামলা হবে রাউজান থানায়। আমরা ঘটনার তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’

রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সমকালকে বলেন, ‘অস্ত্র হাতে যে পাঁচজনকে দেখা গেছে, তারা বিদেশে পলাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর ক্যাডার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের পরিচয়ও বের করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমরা খুনিদের প্রেপ্তারে কাজ করছি।’