ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাবির আল-বেরুনী হলে আটক ছাত্রলীগ কর্মীকে ছেড়ে দিতে জাকসু ভিপির তদবির

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১১:৪৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আল-বেরুনী হল থেকে ছাত্রলীগের এক সক্রিয় কর্মীকে আটক করেছিল শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর তদবিরে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হল থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মেহেদী হাসান (আবীর)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং আল-বেরুনী হল ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পলাতক ছাত্রলীগের সাথে সখ্যতা ও যোগাযোগ রয়েছে এমন অভিযোগে মেহেদীকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে তিনি ছাত্রলীগের ফেসবুক পোস্টে রিয়াক্ট দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ক্ষমা চান। পরে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তাকে ক্ষমা করে দিতে বলেন এবং মেহেদী মুচলেকা দিবেন বলে জানান।
জানা যায়, মেহেদী হাসান আবীর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা এনামুল হক এনাম ও সোহেল রানার অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত ছিলেন। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে মেহেদীকে জাকসু ভিপির মোটরসাইকেল চালক হিসেবে দেখা যায়।
এ বিষয়ে ছাত্রশক্তি নেতা আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, আল বেরুনী হলের একটা ছেলে নিয়মিত জুলাইবিরোধী পোস্ট দিত, ছাত্রলীগের পোস্ট শেয়ার করত এবং আমাদের মাইরা ফেলার হুমকিসংবলিত পোস্টগুলোরও সমর্থন জানাইত। ওই বিষয়টা নিয়েই অনেকেই গিয়েছিল তাকে জেরা করতে। ‎পরবর্তীতে সে ক্ষমা চাইছে। সে বলছে, আব্দুর রশিদ জিতু (ভিপি) ভাইয়ের উপস্থিতিতে সে প্রক্টর অফিসে একটা মুচলেকা দেবে।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মোহাম্মদ রাজন মিয়া বলেন, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার খবর পেয়ে। ছেলেটি সকলের সামনে ক্ষমা চেয়েছে এবং এ ধরনের কাজ আর করবে না বলে জানিয়েছে। জাকসুর ভিপি জিতুর হলের এবং বিভাগের ছোট ভাই, সে নিজেই তার দায়িত্ব নিয়েছে।
শাখা ছাত্র শিবিরের দাওয়া সম্পাদক ও জাকসুর পরিবেশ সম্পাদক শাফায়েত মীর বলেন, আমরা মূলত আবীরকে জুলাই বিরোধী এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে সমর্থন দিতে দেখেছি। আল-বেরুনী হলের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানার অধিকাংশ পোস্টে তাকে সমর্থন করতে দেখা গেছে। এজন্য আমরা তাকে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করতে আল-বেরুনী হলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু প্রাথমিকভাবে বাধা দেয়, এক পর্যায়ে তাকে ডেকে এনে সকলের সামনে ক্ষমা চাইতে বলে এবং একটি গালি দিয়ে রুমে যাইতে বলে।
এ বিষয়ে জানতে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জাবির আল-বেরুনী হলে আটক ছাত্রলীগ কর্মীকে ছেড়ে দিতে জাকসু ভিপির তদবির

আপডেট সময় ১১:৪৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আল-বেরুনী হল থেকে ছাত্রলীগের এক সক্রিয় কর্মীকে আটক করেছিল শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর তদবিরে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল বেরুনী হল থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মেহেদী হাসান (আবীর)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং আল-বেরুনী হল ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পলাতক ছাত্রলীগের সাথে সখ্যতা ও যোগাযোগ রয়েছে এমন অভিযোগে মেহেদীকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে তিনি ছাত্রলীগের ফেসবুক পোস্টে রিয়াক্ট দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ক্ষমা চান। পরে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তাকে ক্ষমা করে দিতে বলেন এবং মেহেদী মুচলেকা দিবেন বলে জানান।
জানা যায়, মেহেদী হাসান আবীর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা এনামুল হক এনাম ও সোহেল রানার অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত ছিলেন। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে মেহেদীকে জাকসু ভিপির মোটরসাইকেল চালক হিসেবে দেখা যায়।
এ বিষয়ে ছাত্রশক্তি নেতা আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, আল বেরুনী হলের একটা ছেলে নিয়মিত জুলাইবিরোধী পোস্ট দিত, ছাত্রলীগের পোস্ট শেয়ার করত এবং আমাদের মাইরা ফেলার হুমকিসংবলিত পোস্টগুলোরও সমর্থন জানাইত। ওই বিষয়টা নিয়েই অনেকেই গিয়েছিল তাকে জেরা করতে। ‎পরবর্তীতে সে ক্ষমা চাইছে। সে বলছে, আব্দুর রশিদ জিতু (ভিপি) ভাইয়ের উপস্থিতিতে সে প্রক্টর অফিসে একটা মুচলেকা দেবে।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মোহাম্মদ রাজন মিয়া বলেন, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার খবর পেয়ে। ছেলেটি সকলের সামনে ক্ষমা চেয়েছে এবং এ ধরনের কাজ আর করবে না বলে জানিয়েছে। জাকসুর ভিপি জিতুর হলের এবং বিভাগের ছোট ভাই, সে নিজেই তার দায়িত্ব নিয়েছে।
শাখা ছাত্র শিবিরের দাওয়া সম্পাদক ও জাকসুর পরিবেশ সম্পাদক শাফায়েত মীর বলেন, আমরা মূলত আবীরকে জুলাই বিরোধী এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে সমর্থন দিতে দেখেছি। আল-বেরুনী হলের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানার অধিকাংশ পোস্টে তাকে সমর্থন করতে দেখা গেছে। এজন্য আমরা তাকে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করতে আল-বেরুনী হলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু প্রাথমিকভাবে বাধা দেয়, এক পর্যায়ে তাকে ডেকে এনে সকলের সামনে ক্ষমা চাইতে বলে এবং একটি গালি দিয়ে রুমে যাইতে বলে।
এ বিষয়ে জানতে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।