ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মাদক কারবারি, গ্রেপ্তার করায় র‍্যাবের ওপর হামলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:২১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের টেকনাফে পরোয়ানাভুক্ত আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গ্রেফতার করায় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে র‍্যাবের দুই সদস্য আহত হন। সেই সঙ্গে বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তির নাম ফরিদুল আলম (৩৮)। তিনি সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও নাজিরপাড়ার বাসিন্দা।

র‍্যাব-১৫ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে একটি ইফতার মাহফিল থেকে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ফরিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার সহযোগী ও সমর্থকরা র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-১৫ টেকনাফ সিপিসি-১ এর স্কোয়াড কমান্ডার সোহেল রানা বলেন, নাজিরপাড়ায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং র‌্যাবের দুটি মটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনি নিজেসহ ৮ থেকে ১০ জন সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই সময় নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল চলছিল। সেখানে উপস্থিত সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. ফরিদ আলমকে র‌্যাব সদস্যরা আটক করলে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কিছু লোক র‌্যাবের ওপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনা স্বীকার করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, র‌্যাবের অভিযানের সময় ওই এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। র‌্যাব অভিযোগ দিলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশীষ সরকার জানান, আহত অবস্থায় র‌্যাবের সাত সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আটক ফরিদ আলমের বাবা মো. সিদ্দিক বলেন, ‌‘আমাদের ইফতার মাহফিলে সময় সাদা পোশাক ১০-১৫ র‌্যাবের সদস্য কোন কথা ছাড়া আমাদের ঘিরে ফেলে।  এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে  সুর-চিৎকার শুরু করে। এতে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসার কারণে ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়েছি। আর সেই মামলায় জামিনে রয়েছে, কোন মামলার ওয়ারেন্ট ছিলনা। কিন্তু আমাদের হয়রানী করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাছাড়া আমরা কোন গাড়িতে আগুন দেয়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মাদক কারবারি, গ্রেপ্তার করায় র‍্যাবের ওপর হামলা

আপডেট সময় ০৪:২১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে পরোয়ানাভুক্ত আসামি স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গ্রেফতার করায় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে র‍্যাবের দুই সদস্য আহত হন। সেই সঙ্গে বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তির নাম ফরিদুল আলম (৩৮)। তিনি সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও নাজিরপাড়ার বাসিন্দা।

র‍্যাব-১৫ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে একটি ইফতার মাহফিল থেকে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ফরিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার সহযোগী ও সমর্থকরা র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-১৫ টেকনাফ সিপিসি-১ এর স্কোয়াড কমান্ডার সোহেল রানা বলেন, নাজিরপাড়ায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীরা র‌্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং র‌্যাবের দুটি মটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনি নিজেসহ ৮ থেকে ১০ জন সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে এক শীর্ষ মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই সময় নাজিরপাড়া ফুটবল মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল চলছিল। সেখানে উপস্থিত সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. ফরিদ আলমকে র‌্যাব সদস্যরা আটক করলে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কিছু লোক র‌্যাবের ওপর হামলা চালায় এবং মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনা স্বীকার করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, র‌্যাবের অভিযানের সময় ওই এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। র‌্যাব অভিযোগ দিলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশীষ সরকার জানান, আহত অবস্থায় র‌্যাবের সাত সদস্যকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আটক ফরিদ আলমের বাবা মো. সিদ্দিক বলেন, ‌‘আমাদের ইফতার মাহফিলে সময় সাদা পোশাক ১০-১৫ র‌্যাবের সদস্য কোন কথা ছাড়া আমাদের ঘিরে ফেলে।  এ সময় স্থানীয় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে  সুর-চিৎকার শুরু করে। এতে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিহিংসার কারণে ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়েছি। আর সেই মামলায় জামিনে রয়েছে, কোন মামলার ওয়ারেন্ট ছিলনা। কিন্তু আমাদের হয়রানী করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাছাড়া আমরা কোন গাড়িতে আগুন দেয়নি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।’